তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমরা চলছি: ফখরুল

তারেক রহমান যেন দেশে ফিরে নেতৃত্ব দিতে পারেন সেই দোয়া করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Nov 2022, 12:41 PM
Updated : 20 Nov 2022, 12:41 PM

দেশে ‘গণতন্ত্র ফেরানোর’ লড়াইয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্ব অপরিহার্য মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার নেতৃত্বেই বিএনপি এগিয়ে চলছে।

দলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনে রোববার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে একথা বলেন তিনি। বিদেশে থাকা তারেক যেন দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দিতে পারেন সে দোয়া করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের সঠিক নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের রাজনীতিকে পুরোপুরিভাবে একটা নতজানু রাজনীতিতে পরিণত করা, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করাসহ গণতন্ত্রকে ধবংস করার যে হীন চক্রান্ত, সেই চক্রান্ত থেকে মুক্তির জন্য জনগণের মধ্যে একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে।

“আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের সাতটি বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, মানুষের যে আবেগ, মানুষের কষ্ট করে সামনে এগিয়ে আসা, মানুষের যে প্রাণ দেওয়া- এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, এই নেতা (তারেক রহমান) আমাদের জন্য কতটা অপরিহার্য।”

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরের বছর জামিনে বেরিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডন যান। তারপর আর ফেরেননি। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর প্রবাসে থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এদিকে দেশে তারেকের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়। এছাড়া দুর্নীতির তিনটি মামলায় তিনি দণ্ডিত।

ফখরুল বলেন, “আমরা সবাই জানি কী নিদারুণ যন্ত্রণা, অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে ১/১১ এ তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা জানি তাকে অন্যায়ভাবে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করার পরে কারাগারে রেখে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাকে পঙ্গু করে ফেলা ও হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। আল্লাহর কাছে অশেষ রহমত তিনি বেঁচে আছেন, তিনি আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করছেন প্রতি মুহূর্তে।

“বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বিনা কারণে তাকে সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। হত্যা করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে।”

দলের চলমান আন্দোলনে কয়েকজন নেতা-কর্মীর নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “মানুষের মুক্তির জন্যে তারা জীবন উৎসর্গ করেছে; মুক্তির এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।”

তারেকের জন্মদিন উপলক্ষে এদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আরেক আলোচনা সভায় ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেবের নেতৃত্বে যৌথভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না তারেক রহমান সাহেবের মতের বিরুদ্ধে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না যৌথ নেতৃত্বে বাইরে। আমি দলের মহাসচিব যা কিছুই আমরা করি, আমরা পুরোপুরিভাবে সব দায়িত্ব নিয়ে করি এবং সেটা তারেক সাহেবের নির্দেশে করি।”

‘নিজেদের মধ্যে সংঘাত নয়’

নয়া পল্টনের দোয়া মাহফিলে বক্তব্যের কোন্দল ভুলে এক হতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, “আমি শুধু একটা অনুরোধ করব, যারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, যারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন, যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, যারা তারেক রহমানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে তারা দয়া করে ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে এখন কোনো সংঘাত সৃষ্টি করবেন না।

“খুব কষ্ট হয় একদিকে আমার ভাইয়ের বুলেটবিদ্ধ মৃতদেহ (ছাত্রদল নেতা নয়ন) পড়ে আছে মর্গের মধ্যে। আর আপনারা কমিটির জন্য এখানে হামলা করেন। দিস ইজ টু মাচ। এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। কারা তারা, যারা এই সময় এই ধরনের সমস্যা এখানে… আমি অনুরোধ করবো এখানে রিজভী সাহেব আছেন। তাদের নাম-ঠিকানা বের করে অবিলম্বে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করার সমস্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সকাল সাড়ে ৮টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ভোলার চরফ্যাশনের কমিটি নিয়ে দুপক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। পরে নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

শনিবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নয়ন নামে এক ছাত্রদল নেতার ‍মৃত্যুর প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নে আমাদের ছাত্র দলের যে নেতা প্রাণ হারিয়েছেন, শহীদ হয়েছে তার প্রতি আমরা আজকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

“নয়ন মিয়া তার নাম। গতকাল তাকে আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সরাসরি গুলিতে তার পেটের সমস্ত নাড়ি-ভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। আমি ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে গতকাল কথা বললাম। খুব কাছে থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে।”

চলমান আন্দোলনে সফলতার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা জীবনপণ লড়াই করছি। আমাদের সামনে বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এই লড়াইয়ে, এই সংগ্রামে আমাদেরকে জয়ী হতে হবে- কোনো বিকল্প নাই। আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো, সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন বাজী রেখে এই সংগ্রামে নেমে পড়েন সবাই।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনায় তিনি বলেন, “আজকে খুব খারাপ সময়ের মধ্যে যাচ্ছি আমরা। এই খারাপ সময়ের মধ্যে দেখুন কেউ কথাও বলতে পারে না।

“প্রকৃতপক্ষে এই সরকারের পায়ের নিচে এখন মাটি নেই, প্রকৃত পক্ষে এই সরকার সম্পূর্ণভাবে একটা গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এখন আর সেটা মানুষের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। দলটি পুরোপুরিভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।”

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সঞ্চালনায় ছিলেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইউট্যাব) সভাপতি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ।

নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), আব্দুল কুদ্দুস, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জোষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুল সামাদ আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এম এ মালেক, তাইফুল ইসলাম টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, ইয়াসীন আলী, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার।

নয়া পল্টনের পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়েও একটি দোয়ঢা মাহফিল হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক