Published : 22 Feb 2026, 10:43 PM
দুই দশক বাদে বিএনপি যখন সরকার গঠন করেছে, তখন থেকেই অচেনা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
নয়া পল্টনের সরগরম দপ্তরটি এখন প্রায়ই নেতাকর্মী শূন্য; অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রোববার সকাল ১১টা ও দুপুর আড়াইটায় দুই দফা গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেল।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বিএনপিকর্মী তোবারক হোসেন বললেন, “এসেছিলাম পার্টি অফিসে, কেউ নেই।

“তিনতলায় গিয়ে দেখলাম সব ফাঁকা, খাঁ খাঁ করেছে। দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এখনই যদি দলের এই দশা হয়, নেতারা যদি নয়াপল্টনের অফিসের ঠিকানা ভুলে যান; তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
বিএনপির অফিস কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, দলের নেতারা এখন আর কার্যালয়ে আসেন না।
একজন বললেন, “আগে এমন দেখা গেছে যে- সকালে বলেন, বিকালে বলেন, সন্ধ্যায় বলেন— কোনো না কোনো নেতা থাকতেন।”
দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বললেন, “দপ্তরের দায়িত্বে থাকা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্যার অসুস্থ; সেজন্য অফিস আসছেন না। আর সরকার গঠনের পর নেতারা যেমন আসছেন না, কর্মীরাও আসছেন কম। আমরা বলতে পারেন একরকম এতিম হয়ে গেছি।
“আগামীকাল মহাসচিব স্যারের আসার কথা রয়েছে।”

নেতাকর্মী শূন্য হওয়ায় কর্মীদের কাজও তেমন নেই।
একজন বললেন, “নেতারা আসেন না বলে এখন আর কেটলিতে গরম পানির চিন্তা করতে হয় না। চা দেয়ারও আর ডাক পড়ে না।
“গত দুই দিন রমজান চলছে, আমরা সবাই রোজাদার। এর আগে কমবেশি ‘একটা চা নিয়ে আসো’ এমন ডাক পড়তো।”
নিরাপত্তা কর্মীরা জানালেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এরপর নেতারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেদিন নেতারা না এলেও কর্মীদের অনেকেই এসেছিলেন। এরপর অফিসে তেমন কেউ আসেননি।

শাহবাগের ফুল বিক্রেতা, বিএনপি সমর্থক কলিম উদ্দিন বললেন, “আমি শাহজাহানপুর কলোনিতে সাবলেট থাকি। প্রতিদিন বিএনপি অফিসের কাছ দিয়ে যাই। গত ১৬-১৭ বছর দেখেছি এই অফিসে নেতাকর্মীদের ভিড় আছেই।
“নেতাদের গাড়িও দেখা গেছে পার্টি অফিসের সামনে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ দেখছি যে, বিএনপি অফিসের কর্মী সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে কয়েক দফা মোবাইল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
এক কর্মী বললেন, “স্যার এখন বাসায় আছেন। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।”