Published : 22 Apr 2026, 08:47 PM
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে ‘নাজেহাল’ করতে বিরোধী দল ‘চক্রান্ত’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া।
তিনি বলেছেন, তাদের ভোটাররা বসে বসে ‘আঙুল চুষবে না’, প্রতিবাদ করবে।
তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে ‘হুমকির ভাষায়’ কথা বলেছেন, যা সংসদীয় আচরণ নয়। এ ধরনের ভাষা এক্সপাঞ্জ করারও দাবি জানান তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া ওই প্রসঙ্গ তোলেন।
এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলছিল। আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়ার বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শুরুতে আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হয়েও রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং জুলাই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।”
এরপর তিনি বিরোধী দলের সমালোচনায় যান। চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে গতকাল সিটি কলেজে ছাত্রদলের উপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল? ছাত্রদল শুধু বলেছে ‘গুপ্ত’। সেই জন্যই তারা একটা ‘গুপ্ত’ শব্দকে উল্লেখ করে ছাত্রদলের উপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উপর আঘাত করেছে।”
এই সময় বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তাদের আপত্তির মধ্যেই বক্তব্য চালিয়ে যান আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া।
তিনি বলেন, “আমাদের এই সংসদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভিতরে এবং বাইরে এই সরকারকে নাজেহাল করার জন্য যে চক্রান্তের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এটা কোনোভাবেই একটি সুস্থ বাংলাদেশে মেনে নেওয়া যায় না।”
আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না।”
বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “আজকে বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছে। এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না।”
এরপরই তার সেই বক্তব্য আসে, যা নিয়ে বিরোধী দল ফ্লোর নিয়ে আপত্তি তোলে।
আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, “বিরোধী দলের ভাইয়েরা আজকে কণ্ঠ চেপে ধরতে চায়। ফ্যাসিস্টদের মত গলা চেপে ধরতে চায়।”
তিনি বলেন, “আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না। তারা তাকিয়ে তাকিয়ে থাকবে না। প্রতিবাদ করবে।”
সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারকে সাহায্য করুন। ফ্যাসিস্টের মত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা ঠিক হবে না।”
বক্তব্য শেষ হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথমে বিরোধী দলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, সব বক্তব্য সবার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে কারও বক্তব্যের জবাব বক্তব্যের মাধ্যমেই দিতে হবে, বক্তব্যের সময় বাধা দেওয়া যাবে না।
এরপর ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, “প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপাঞ্জ করা হোক।”
জামায়াত আমির শফিকুর বলেন, “একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভিতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
“জনগণ বসে থাকবে না, তার মানে কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকে দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ না।”
জবাবে স্পিকার বলেন, বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, কিছু বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাষারই অংশ এবং সেগুলোর জবাব বক্তব্যের মাধ্যমেই দিতে হবে।
স্পিকার বলেন, “এটা বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। ‘আমরা চুপ করে থাকব না’ এগুলো তো শত বছর ধরে বাঙালিরা বলে এসেছে। এগুলোর জবাব আপনারা বক্তৃতা যখন দেবেন, তখন দেবেন।”
এই ঘটনার পরও অধিবেশন চলতে থাকে। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের সিটি কলেজের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তিনি বলেন, “কারও উপর দায় না চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এর জন্য কারা দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আবেদন জানাচ্ছি।”
একই আলোচনায় পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবও বিরোধী দলের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “বিরোধী দল যেভাবে অসহিষ্ণু আচরণ করছে, যেভাবে আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখছে, এতে কে উপকৃত হবে সেটি আমার বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশ্ন।”
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, স্বাক্ষরিত সনদের প্রতিটি অক্ষর তিনি বাস্তবায়ন করবেন।
সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে আসুন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করি, ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করি।”