Published : 05 Jan 2026, 02:00 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৭৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ১৬২ জনের।
তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে শনিবার দিনভর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা পৃথকভাবে এসব মনোনয়নপত্র বাছাই করেন।
যাদের মনোনয়নপত্র আইন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে সেগুলোকে বৈধ ঘোষণার বিপরীতে বিধি লঙ্ঘন ও ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে যারা বাদ পড়েছেন এবং যাদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে- এ দুই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আপিল করা করা যাবে নির্বাচন কমিশনে। সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এই আপিলের সুযোগ রয়েছে।
বাদ পড়লেন যারা, কারণ কী
ঢাকা-১ আসন
স্বতন্ত্র প্রার্থী – অন্তরা সেলিমা হুদা- গ্যারান্টার হিসেবে ঋণখেলাপি ও ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম- ১০৫১ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও ফরম অসম্পূর্ণ (২০ ও ২১ পূরণ করেননি)।
জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল হক- প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ঋণখেলাপি।
এছাড়া একজনের দুটি মনোনয়নপত্র জমা, একটি বৈধ হওয়ায় অপরটি বাদ।
ঢাকা-২
জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল হক- প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ঋণখেলাপি।
ঢাকা-৩
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল কবির- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং ক্রেডিট কার্ডে ঋণ খেলাপি ও ৫৫ হাজার ৮১৭ টাকা কর বকেয়া।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী পারুল মোল্যা- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং মনোনয়নপ্রত্রের প্রথম খণ্ডের ৩য় ও ৪র্থ অংশ পূরণ না করা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টার হিসেবে ঋণখেলাপি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক- ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৩৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া।
ঢাকা-৪
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. ফিরোজ আলম- সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-৫
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা- সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-৬
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুসাইনুজ্জামান- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং মনোনয়নপত্রের চতুর্থ অংশ পূরণ করে স্বাক্ষর করেননি।
বাংলাদেশ মুসলীম লীগের মো. আকতার হোসেন- দলীয় মনোনয়ন সভাপতির পরিবর্তে মহাসিচিবের স্বাক্ষরের কারণে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট সত্যায়িত নয়।
ঢাকা-৭
স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-৮
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা - সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
জনতার দলের প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার- শিক্ষা সনদ না য়োর পাশাপাশি দ্বিতয়ি খন্ডে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ না করা।
নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশের মো. সিদ্দিক হোসাইন- প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর ভোটার নম্বর সঠিক না হওয়া এবং দল নিবন্ধিত না হওয়া।
ঢাকা-৯
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান - সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
বাংলাদেশ মুসরীমস লীগের প্রার্থী মাসুদ হোসেন- রাজনৈতিক দল কর্তৃক দলীয় মনোনয়ন এবং হলফনামায় স্বাক্ষর যথাযথভাবে না হওয়া।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।

ঢাকা-১০
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং মনোনয়ন ফরমের ২০ ও ২১ দাখিল না করা।
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয়- ঋণ খেলাপির কারণে।
জনতার দলের মো. জাকির হোসেন- ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশেক উল্লাহ- ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না থাকা এবং ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-১১
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আমিনুল হক সেলিম- দলীয় মহাসচিবের স্বাক্ষর জটিলতা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনুর আক্তার বীথি- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-১২
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কল্লোল বনিক - সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন- হলফনামার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না করা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাহমিদা মজিদ- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন- ঋণখেলাপি ও মনোনয়ন ফরমের কিছু অংশে স্বাক্ষর না করার পাশাপাশি টিন সার্টিফিকেট প্রদান না করা।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজালাল- মনোনয়ন ফরমে ভুল জন্ম তারিখ লেখা এবং হলফ নামায় স্বাক্ষর না করা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান- মনোনয়ন ফরম ও হলফ নামায় স্বাক্ষর না করা।
জনতার দলের ফরিদ আহমেদ- মনোনয়ন ফরমে প্রস্তাবক ও সমর্থকের ভোটার নম্বর না থাকা।
ঢাকা ১৩
স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
গণ অধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান- হলফনামায় স্বাক্ষর না করা।
বাংলাদেশ মুসলীম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার- দলীয় মনোনয়ন সঠিক নয়, বিল খেলাপি ও হলফনামায় ত্রুটি।
বাসদের প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান- মনোনয়ন ফরমের তৃতীয় অংশে সই না করার পাশাপাশি টিআইএন, সনদ, আয়কর রিটার্নের প্রত্যায়ন দেওয়া হয়নি।
আম জনতার দলের রাজু আহমেদ- সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া।
ঢাকা ১৪
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন - সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন- হলফনামায় স্বাক্ষর না করা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদ বিন নাসের- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-১৫
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক- সিপিবির নতুন সভাপতির তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তানজিল ইসলাম- - ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল এবং ফরমের বিভিন্ন অংশে স্বাক্ষর না করা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন হলফনামায় ত্রুটিসহ ফরমের বিভিন্ন অংশ পূরণ না করা।
ঢাকা-১৬
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক (মুক্তি জোট) প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের জিলানী- ফরমের বিভিন্ন অংশ পূরণ না করা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আহসানউল্লাহ- টিন এবং আয়কর রিটার্নের কপি না জমা দেওয়া।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন- ঋণ খেলাপির কারণে।
ঢাকা-১৭
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
বাংলাদেশ লোবার পর্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক- ঋণ খেলাপি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ খান- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কামরুল হাসান নাসিম- হলফনামায় স্বাক্ষর নাই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জিল্লুর রহমান- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ফারাহ নাজ সাত্তার- ঋণ খেলাপি।
ঢাকা-১৮
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ হারুন-অর রশিদ- ছবি নেই, হলফনামায় ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম এম শহীদুজ্জামান কোরেশী- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
লিবারেল ডেমোক্রিটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী মফিজুল ইসলাম- ফরমের বিভিন্ন অংশ অসম্পূর্ণতা ও বিভিন্ন অংশে স্বাক্ষর না করা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন- আয় ব্যায় বিবরণীর ফরমে ভুল।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতউল্লাহ (আমীন)- প্রস্তাবকারী সমর্থনকারী ও প্রার্থীর স্বাক্ষর একই।
ন্যশনাল পিপলস পার্টির মিসেস সাবিনা জাবেদ- দলীয় মনোনয়নের মূল কপি না থাকা এবং আয়কর রিটার্ন না থাকা।
গণ অধিকার পরিষদের এম এম আহসান হাবিব- হলফনামা ও অঙ্গীকার নামা না থাকা।
ঢাকা-১৯
বাংলাদেশ মুসলীম লীগের প্রার্থী মো. কামরুল- দলীয় মনোনয়নপত্রে সভাপতির স্বাক্ষর না থাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ- ১% ভোটারের সঠিকতায় গড়মিল।
ঢাকা-২০
ঢাকা ২০ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সবাই বৈধ।