Published : 04 Jan 2026, 09:32 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা; আর বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের।
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
এদের কারো কারো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ১ শতাংশ ভোটার সমর্থন তালিকায় গড়মিল থাকার কারণে; কারোটা বাতিল হয় হলফনামায় অসম্পূর্ণ ও অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণে।
মামলার তথ্য গোপন, দ্বৈতনাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি, বিল খেলাপি, দলীয় প্রত্যয়নে জটিলতার মতো কারণেও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে অনেকের।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে যেমন আবেদন করা যাবে, তেমনি কারো প্রার্থিতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া যাবে।
নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানি করবেন এবং সিদ্ধান্ত জানাবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার যেকোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী নিজে কিংবা প্রার্থীর লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পদ্ধতিতে এ আপিল করতে পারবে।
আপিল যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের আপিল করার পদ্ধতি জানাতে এরই মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ইসি আইন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাইনুল ইসলাম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত সম্বলিত ‘সার্টিফাইড কপি’ সংগ্রহ করে ইসির কাছে আপিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে—
>> ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে দায়ের করতে হবে।
>> আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
>> আপিল আবেদনের একটি মূলকপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
>> আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত কেন্দ্রের স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
>> আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য আবেদন দাখিল করতে হবে। এ আবেদন ফরমের নমুনা কপি আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
>> আপিল দায়েরকারী অথবা আপিলদায়েরকারী পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

জেলাভিত্তিক আবেদনের বুথ ১০টি
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে আপিল আবেদন জমা নেওয়ার জন্য ৩০০ আসনের জেলাভিত্তিক নির্বাচনি অঞ্চলের ১০টি বুথ করা হয়েছে।
বুথ ১ খুলনা অঞ্চল: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
বুথ ২ রাজশাহী অঞ্চল: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
বুথ ৩ রংপুর অঞ্চল: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
বুথ ৪ চট্টগ্রাম অঞ্চল: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
বুথ ৫ কুমিল্লা অঞ্চল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর।
বুথ ৬ সিলেট অঞ্চল: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
বুথ ৭ ঢাকা অঞ্চল: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।
বুথ ৮ ময়মনসিংহ অঞ্চল: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা।
বুথ ৯ বরিশাল অঞ্চল: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।
বুথ ১০ ফরিদপুর অঞ্চল: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল।
এবার দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি। এর মধ্যে বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনের। বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিন আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র তার মৃত্যুর কারণে বাছাই কার্যক্রমের বাইরে ছিল।