Published : 30 May 2026, 02:39 PM
জিয়াউর রহমান ‘বিপ্লবী’ কর্মসূচিগুলো তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবার শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফখরুল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সাড়ে ৩ বছরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন। আজকে তারই যোগ্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তার নেতৃত্বে আমরা আবার সেই বিপ্লবী কর্মসূচিগুলো শুরু করেছি, আমরা সংস্কারের কাজ করছি। আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
“যে বাংলাদেশকে বলা হতো বটমলেস বাস্কেট, সেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দেশে পরিণত হয়েছে। আজকের এই দিনটি এত বেশি জরুরি যে আমরা এ দিনটি বারবার করে স্মরণ করতে চাই, মনে করতে চাই অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে, ভালোবাসার সঙ্গে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে যে এই দিনটি যেন আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে চলার পথ দেখায়।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আজ শাহাদাৎ বার্ষিকী। দীর্ঘকাল ফ্যাসিস্ট শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর আমরা এই দিনটিকে কখনোই সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারিনি।
“আমার এখনো মনে আছে, এখানে আমরা যখন একবার এসেছিলাম, পুলিশের হামলায় অনেক নেতা সেদিন এখানে আহত হয়েছিলেন। সে অবস্থা থেকে আজকে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশে এই দিনটি পালন করতে যাচ্ছি।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।
ওই বছরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েমের নেতৃত্বে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়া। বিএনপি দিনটি তার ‘শাহাদত দিবস’ হিসেবে পালন করে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ভোরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে বিএনপির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়; তোলা হয় জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা।
এরপর বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহামের নেতৃত্বে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।