শেখ কামাল বেঁচে থাকলে ‘ক্যারিশম্যাটিক লিডার’ হতেন: কৃষিমন্ত্রী

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ কামাল চাইলে কলকাতায় গিয়ে সরকারি কাজে যোগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 03:39 PM
Updated : 5 August 2022, 03:39 PM

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল পঁচাত্তরে সপরিবারে হত্যার শিকার না হলে বাবার মত ‘ক্যারিশম্যাটিক লিডার’ হতে পারতেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেছেন, “তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন। বেঁচে থাকলে বঙ্গন্ধুর মত একজন ক্যারিশম্যাটিক লিডার হতে পারতেন তিনি। তরুণদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারতেন শেখ কামাল।”

শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘শেখ কামাল: বহুমাত্রিক প্রতিভাবান সংগঠক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একজন ‘প্রাণচঞ্চল’ মানুষ ছিলেন শেখ কামাল। বয়সে তরুণ হলেও তার মধ্যে সংগঠকের ‘অসাধারণ নৈপুণ্য’ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং ক্রীড়া-অঙ্গনে শেখ কামালের বড় ভূমিকা ছিল। ওই বয়সেই তিনি আবাহনী ক্রীড়া চক্র ও স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

“মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চাইলে কলকাতায় গিয়ে সরকারি কাজে যোগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।”

মানুষকে ‘বিভ্রান্ত’ করার জন্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ‘অপপ্রচার’, ‘মিথ্যাচার’ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই থেকে বাদ যাননি শেখ কামালও। তবে সত্য প্রকাশিত হওয়ায় মানুষ এখন সঠিক তথ্য জানে। বাংলার মানুষ ঘৃণাভরে সেই মিথ্যাচার প্রত্যাখ্যান করেছে।”

শেখ কামালের জন্ম ১৯৪৯ সালের ৫ অগাস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়, বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই রাতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে নিহত হন ২৬ বছর বয়সী শেখ কামাল। শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসাবে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন শেখ কামাল। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারলে আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে শেখ কামালের বিয়ে হয়। ১৫ অগাস্ট সুলতানাকেও হত্যা করে ঘাতকরা।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক অনুষ্ঠানে বলেন, “শেখ কামালকে নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে। ইতিহাস সেই মিথ্যাচারীদের বর্জন করেছে।” শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক