১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নির্বাচনে যখন আয়ছেন এবার দেখা যাইব উনি কেমন’

ভোটারদের কাছে নতুন মুখ জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেরীফা কাদের প্রচারে নেমেছেন ঢাকা-১৮ আসনে; তাকে দেখে ভোটের আলাপে মেতেছেন ভোটাররাও।

‘নির্বাচনে যখন আয়ছেন এবার দেখা যাইব উনি কেমন’

ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেরীফা কাদের মঙ্গলবার উত্তরখান এলাকায় নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেন।

আবুল বাসার সাজ্জাদ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Dec 2023, 11:25 PM

Updated : 20 Dec 2023, 02:36 AM

সংসদে আগেও ছিলেন। তবে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শেরীফা কাদের এবারই প্রথম সরাসরি ভোটে নেমেছেন। নতুন মুখ হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনের মাঠে তার জন্য সুবিধা নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন ওই এলাকার ভোটাররা। 

মঙ্গলবার দুপুরের পর তিনি যখন ভোটারদের কাছে যাচ্ছিলেন, তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপে মো. সোহেল নামে উত্তরখান এলাকার এক বাসিন্দা তো স্পষ্ট করেই বললেন, “নতুন মুখ, একবার পরখ কইরা দেখা যাইতেই পারে।” 

সোহেল মনে করেন, নতুন মুখ হওয়ার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধেও রয়েছে একটা। তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো নির্বাচনে আইছেন। মানুষ তেমন চিনে না। মানুষের কাছে যাইয়া তার ভোট চাওন লাগব। দেইখা তো মনে হইতাছে মানুষটা মানবিক হইব। দেখা যাক যদি জিততে পারেন, জিতার পর কেমন হন?” 

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হয়েছে গত সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পরপরই। তবে উত্তরা, উত্তর ও দক্ষিণ খানসহ আশপাশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের প্রচার শুরু করেছেন মঙ্গলবার দুপুরের পর। উত্তরখানে কবির শাহের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে। সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ কবির স্থানীয়দের কাছে কবির শাহ নামে পরিচিত। 

ঢাকার এ আসন নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে। এতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা। 

নেতাকর্মীদের নিয়ে মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেরীফা বলেন, “আমি আগে অনেক সামাজিক সংগঠনে ছিলাম, মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছি। এখন এই বৃহৎ পরিসরে আসতে পারলে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব।” 

Image

ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেরীফা কাদের মঙ্গলবার উত্তরখান এলাকায় নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেন। ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

তিনি বলেন, “অনেকেই আমাকে বলেছে আপা আপনি তো দল-মতের ঊর্ধ্বে। আমার একটা দলীয় পরিচয় আছে এটা সত্য। তবে আসলেই আমি কিন্তু সবার জন্য আছি। তাই দলমত নির্বিশেষে আমি আপনাদের সবার কাছে ভোট চাচ্ছি।” 

সংরক্ষিত আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, “এই আসনের অনেকের সাথে আগে পরিচয় ছিল, অনেকের সাথে নতুনভাবে পরিচয় হচ্ছে। শুধু লাঙ্গল মার্কা না, আমাকে সবাই ভোট দেবেন।” 

বক্তব্যে শেষে মাজার সংলগ্ন বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিজের হাতে ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে লিফলেট দিয়ে ভোট চান তিনি। 

এসময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “প্রথমবারের মতো আমি আপনাদের এই আসনে প্রার্থী হয়েছি। আমাকে একবার সুযোগ দিন, আমি আপনাদের পাশে থাকবো।” 

এরপর পর্যাক্রমে উত্তরখান থানার মাদারবাড়ি ও পোলারটেক এবং খিলক্ষেত থানার ডুমনিতে তার নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন করেন। আবার এসব জায়গায় যাবার পথে ভোটারদের মাঝে তিনি লিফলেটও বিতরণ করেন। 

আগামী ৭ জানুয়ারির ভোটে জাতীয় পার্টির সঙ্গে ২৬টি আসনে সমঝোতা করেছে আওয়ামী লীগ। সংসদের বিরোধী দলটির সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া আসনগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় শুধু এই একটি আসনই রয়েছে। এটি হচ্ছে ঢাকা-১৮ আসন। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা বিমানবন্দর উপজেলা নিয়ে এ আসন। এখানে ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬০৮ জন।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হাবিব হাসান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদেরকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। 

তবে প্রথম দিনের নির্বাচনি প্রচারণায় শেরীফার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তেমন কাউকেই দেখা যায়নি।

শেরীফা কাদের দীর্ঘদিন ধরই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। উচ্ছ্বাস ললিত কলা একাডেমি নামে একটি সংগঠনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি এবং লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। তার মেয়ে ইশরাত জাহান কাদেরের স্বামী অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। 

মঙ্গলবার প্রচারের শুরুতে শেরীফার সঙ্গে থাকা কর্মীরা জানিয়েছিলেন, “প্রচারে মাহফুজ আহমেদও আসবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর আসেননি।”  

ঢাকা-১৮ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনএফ) থেকে টেলিভিশন প্রতীকে এস এম আবুল কালাম আজাদ, ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম তোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি থেকে হাত ঘড়ি প্রতীকে দয়াল কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে ছড়ি প্রতীকে ফাহমিদা হক সুকন্যা, তৃণমূল বিএনপি থেকে সোনালি আঁশ প্রতীকে মোহাম্মদ মফিজুর রজমান, কেটলি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খসরু চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে আম প্রতীকে মো. জাকির হোসেন ভূইঁয়া, মোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন ও ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বশির উদ্দিন।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে গেলে শেরীফা কাদেরের পাশাপাশি কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী খসরু চৌধুরীর সমর্থকদেরও গণসংযোগ করতে দেখা যায়। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করছেন।

উত্তরখানের মাজার সংলগ্ন স্থানীয় চা দোকানি মো. সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি দলই তেমন একটা উন্নয়ন করতে পারেনি। উনি (শেরীফা কাদের) বিরোধী দলের হয়ে আর কতটুকুইবা উন্নয়ন করবেন। উত্তরখানে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। কেউ উন্নয়ন করে না।” 

শেরীফা কাদেরের গাড়ি থেকে লিফলেট পাওয়ার পর নিজেদের মধ্যেই কথা বলছিলেন, উত্তরখানের বাসিন্দা প্রদীপ দাসসহ কয়েকজন। তাদের বক্তব্য, “হাবিবকে টেক্কা দেওয়ার মতন একজনই আছিল, সেইটা হইল খসরু চৌধুরী। হাবিব নমিনেশন তুলে নিলেও খসরু আছে। শেরীফা কাদেরের সঙ্গে লড়াইটা খসরুরই হবে। বাকিরা ভোটের মাঠের দুধভাত।” 

খিলক্ষেত থানার বাসিন্দা সনিয়া আক্তার বলেন, “শেরীফা কাদেররে নতুন দেখছি। এর আগে দেখি নাই। নির্বাচনে যখন আয়ছেন এবার দেখা যাইব উনি কেমন?”