Published : 23 Jun 2026, 11:40 PM
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রস ফায়ারে’ হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এসআই খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসআই খলিলুর দাবি করেন, বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহর নির্দেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হয় বলে তিনি শুনেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মঙ্গলবার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
খলিলুর রহমান ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বরিশালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বরিশালে সিআইডি ক্রাইম সিনে এসআই হিসেবে কর্মরত।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ওই দুই জনকে গ্রেপ্তারের অভিযানের আগের ও পরের ঘটনা তুলে ধরেন।
ওই দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ তার অফিসে আমাকে ডাকেন। যাওয়ার পর দেখি সেখানে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ও এসআই নজরুল ইসলাম উপস্থিত আছেন। এসপি আমাদের বলেন যে, বাকেরগঞ্জ থানার মামলা নং-২২(৩)১৪ এবং আগৈলঝাড়া থানার মামলা নং ০১(২)১৫ এর আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।
“তিনি (এসপি) আরো বলেন, ‘ওই মামলার আসামিদের যে কোন মূল্যে ধরতে হবে, না ধরলে চাকরি থাকবে না এবং উপরের অনেক চাপ আছে’।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি ও ডিবির মুখপাত্র মনিরুজ্জামানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও তাদের বলেন এসপি।
এরপর ঢাকা ডিবির সহায়তায় অভিযানের তথ্য দিয়ে খলিলুর দাবি করেন, “২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আশুলিয়ার কুরগাঁও পুরাতন পাড়া নামক স্থানে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কবির মোল্লাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়। একই রাতে আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ থানাধীন মধ্যেরচর নামক স্থান থেকে টিপু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করি।
“গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেই। কিন্তু নিজের মামলার কাজে ভুরঘাটা এলাকায় নেমে ঢাকায় ফিরে আসি। তবে আগৈলঝাড়া থানার এসআই নজরুল ইসলাম তার ফোর্সসহ আসামিদের নিয়ে বরিশালের দিকে চলে যান। তারপরে আমি লোকমুখে ও টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে জানতে পারি, গ্রেফতারকৃত আসামিদের ক্রস ফায়ারে দেওয়া হয়েছে।”
এই ‘হত্যা’ মোটেই সমীচিন হয়নি ও অভিযুক্তরা অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এসআই খলিলুর।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ওই ‘ক্রস ফায়ারের’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন।
এদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক। অন্য দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। অভিযোগ গঠনের সময় কারাগারে থাকা দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে ডিসেম্বরে প্রতিবেদন জমা পড়ার পর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।