Published : 27 Jul 2023, 08:21 PM
পুলিশের অনুমতি পওয়ার পর ঢাকার নয়া পল্টনে মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি।
আয়োজনের খুঁটিনাটি সামাল দিতে বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মীরা সকাল থেকেই ভিড় করে আছেন কার্যালয়ের সামনে। বিপুল সংখ্যক পুলিশও আছে সেখানে।
বিএনপির মহানগর উত্তর কমিটির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, শুক্রবার নয়া পল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। আমাদের এই সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ।”
আর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেছেন, “ এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে জনগণ এই সরকারকে সিগন্যাল দেবে, ক্ষমতা ছাড়ো। এনাফ ইজ এনাফ। জনগণ এই সরকারকে আর চায় না।”
মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এই মহাসমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীরা ঢাকায় এসেছেন।
শুক্রবার বেলা ২টায় শুরু হবে সমাবেশের কার্যক্রম। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির পাশাপাশি সমমনা দলগুলোও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করবে।
গণতন্ত্র মঞ্চ: বিকাল ৩ টায়, পুরানা পল্টন মোড়ে
১২ দলীয় জোট: বিকাল ৩ টায়, ফকিরাপুল পানি ট্যাংকের কাছে
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট: বিকাল ৩ টায়, বিজয়নগরে আলরাজী কমপ্লেক্সের সামনে
গণফোরাম-পিপলস পার্টি: বিকাল ৩ টায়, আরামবাগে গণফোরাম চত্বরে
এলডিপি: বিকাল ৩ টায়, পূর্ব পান্থপথে
গণ অধিকার পরিষদ (রেজা কিবরিয়া): বিকাল ৩ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে
গণঅধিকার পরিষদ (নুর): বিকাল ৩ টায়, ফকিরাপুল কালভার্ট রোডে
বাংলাদেশ লেবার পার্টি: বিকাল ৩ টায়, বিজয় নগরে
এনডিএম: বিকাল ৩ টায়, মালিবাগ মোড়ের হোসাফ টাওয়ারের সামনে
সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ: বিকাল ৩ টায়, শাহবাগের মোড়ে
গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য: সকাল ১০টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে
যুগপৎ আন্দোলনের বাইরে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এবি পার্টি সকাল সাড়ে ১১টায় সমাবেশ করবে বিজয়নগর সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে।
গত ১২ জুলাই বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো যুগপৎভাবে এক দফার ঘোষণা দেয়। এই একদফার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান।
এক দফা দাবিতে গত ১৮ ও ১৯ জুলাই সারাদেশে মহানগর ও জেলায় পদযাত্রার পর ঢাকায় এই মহাসমাবেশ করার কথা ছিল বৃহস্পতিবার। সেজন্য নয়া পল্টন অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পুলিশ তা না দিয়ে গোলাপবাগে সমাবেশ করার পরামর্শ দেয়।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে বিএনপি ও সমমনা জোটগুলো মহাসমাবেশের তারিখ একদিন পিছিয়ে শুক্রবার করার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপিকে ২৩ শর্তে নয়া পল্টনের সামনে মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপির অনুমতির পর বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মহাসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরাও ছিলেন।
মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মহাসমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। দলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা সহকারে শান্তিপূর্ণ এই মহাসমাবেশে দলে দলে যোগ দেবেন।
“বিলম্বে হলেও আগামীকালের মহাসমাবেশে পুলিশ কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে আবারও আহ্বান জানাই, আপনারা আগামীকাল নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের নিরাপত্তা বিধানে যথাযথ সহযোগিতা করবেন। আমি আশা করি, সমাবেশে আসার পথে জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে কোনো প্রকার বাধা প্রদান করা হবে না।”
গত দুই দিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
গত কিছু দিনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিএনপির পাশাপাশি মাঠে থাকবেন ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীরাও।
আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ শুক্রবার বিকাললে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করবে।
বিএনপির মত একইরকম ২৩টি শর্তে তাদের এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।