নেত্রীর ‘শাস্তিতে’ অনেকে বড় জায়গা থেকে নেমে গেছে: কাদের

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, “দলের মধ্যে কেউ ফ্রি স্টাইল করলে শাস্তি কিন্তু পেতেই হবে। সব নোট করে রাখেন, সময়মত ব্যবস্থা নেবেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 April 2024, 10:13 AM
Updated : 4 April 2024, 10:13 AM

অপরাধ করলে জেল জরিমানার বাইরে ‘নেত্রীর শাস্তিও’ যে আছে, সে কথা আওয়ামী লীগের সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, “দলে কিছু শাস্তি শেখ হাসিনা নানাভাবে দিয়ে দিয়েছেন। কতজন অনেক বড় জায়গা থেকে নেমে গেছে।”

মুজিবনগর দিবস সামনে রেখে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক জেলা শাখাগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কথা বলছিলেন ওবায়দুল কাদের।

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “শুধু জেলে পুড়লেই শাস্তি, গায়ে আঘাত করলেই শাস্তি, শাস্তি অনেক রকম। এবার নেত্রী যে কৌশল নিয়েছেন, দলের মধ্যে কেউ ফ্রি স্টাইল করলে শাস্তি কিন্তু পেতেই হবে। সব নোট করে রাখেন, সময়মত ব্যবস্থা নেবেন।”

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী কাদের বলেন, “আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সংকট কাটিয়ে উঠেছি। তারা (বিএনপি) ভেবেছিল ইলেকশন হলেও দুর্ভিক্ষ হবে, সরকার পাঁচ দিনও টিকবে না। আবোল তাবোল বলা তাদের রাজনীতি। আমরা সেদিকে মন দেব না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।

"ইলেকশন হয়ে গেছে, সামনে উপজেলা নির্বাচন, আমাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত, মনোমালিন্য এসব যদি দৃশ্যপটে হাজির করা হয় তাহলে আমাদের চলার পথ কঠিন হয়ে যাবে।"

সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীরা কেউ যেন উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 

তিনি বলেন, "নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা কেউ করবেন না। কেউ প্রার্থী হতে চাইলে হবে, বাধা নেই। নৌকা দেওয়া হচ্ছে না কিছু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি করে নাই, তারপরও ৪২.৮ শতাংশ টার্ন আউট। এটা সারা পৃথিবীর স্ট্যান্ডার্ডে সন্তোষজনক।”

যাই ঘটুক, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, "একজনকে নেতা মানি, তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনিই সঠিক ক্রাইসিস ম্যানেজার। তাকে হাল ধরতে দিন। তার পিছনে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।

“দেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ ভাগের স্বপ্ন দেখলেও সাড়ে পাঁচ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। কিন্তু সংকটে আমরা পড়ব না। জিনিসপত্রের দাম কমা শুরু হয়েছে, পেয়াজের সংকটও কেটে গেছে। জ্বালানি তেলের দামও সমন্বয়ের মাধ্যমে কিছুটা কমানো হয়েছে। আস্তে আস্তে হবে, অপেক্ষা করতে হবে।"

দলের সবাইকে ‘দায়িত্ব নিয়ে’ কথা বলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, " অনেককে দেখি ফেইসবুক লাইভে এসে বলতে থাকেন যার যা খুশি। এগুলো ঠিক নয়। দল করলে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। ফ্রি স্টাইল কোনো কথা বলবে, আর দলকে সেগুলো নিতে হবে এটা ঠিক নয়। আপনারা আসল শত্রুকে চিনুন। আসল শত্রু হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক শক্তি।

"আমাদের অর্থনীতির সংকট একেবারে কেটে গেছে- একথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থা যারা বলেন, সেটাও ঠিক নয়। আজকে আফ্রিকান দেশগুলোতে অস্থিরতা, লোহিত সাগরে দ্বন্দ্ব। এসব আছে, সংকটও আছে। আজকে পৃথিবী একটা গ্লোবাল ভিলেজ, কোথাও সংকট হলে তার রেশ অন্যদেশে এসে পরে। আমাদের জ্বালানি, প্রাইস অফ এসেনশিয়ালস, ডলার সংকট- এসবই আন্তর্জাতিকভাবে সম্পর্কিত।"

সাজা মাথায় নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে থাকা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, "সাহস থাকে দেশে এসে রাজনীতি করুন। এখন লন্ডনে বসে আন্দোলনের ডাক দিলে আর কেউ সাড়া দেবে না, জনগণ সাড়া দেবে না, এখন বিএনপির নেতাকর্মীরাই এই আন্দোলন কে ভুয়া বলছেন।"

১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসে মেহেরপুরের মুজিবনগরে মূল অনুষ্ঠান হবে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এই দিবসটি উপলক্ষে বিএনপিসহ বড় বড় দলগুলো কারো অনুষ্ঠানমালা আছে এমনটা জানা নেই। আমরা পালন করব। কারণ এটি আমাদের জন্মের চেতনা। এই চেতনা আওয়ামী লীগকে ধারণ করতে হবে।

“যারা এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভাবে পর্বতের মূষিক প্রসবের মত কোন ঘটনা, হঠাৎ করে কেউ বাঁশি ফু দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলতে চাই, স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার ম্যান্ডেট জনগণ থেকে পেয়েছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।