Published : 09 Apr 2026, 05:33 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।
একই দাবিতে ২৭ এপ্রিল সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৬ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দাবির পক্ষে সারা দেশে গণসংযোগ ও প্রচার চালানো হবে।
বৃহস্পতিবার ১৩টি বামপন্থি, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
এ দিন সংবাদ সম্মেলনে জোটের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাদের মুখপাত্র বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
ঢাকায় সিপিবি অফিসের মৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে ফেলবে।
“চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হবে। একইসঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষিখাত মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে।”
অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জোটের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে’ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।
একইসঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।