Published : 15 Sep 2025, 04:31 PM
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচনসহ পাঁচ দাবিতে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
এসব দাবি আদায়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
এদিন একই দাবিতে তিন দিনের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও।
আগামী সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েক মাস ধরে যে বিরোধ চলছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল দাবি তুলেছে, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সংসদের উভয় পক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতির দাবিও তুলেছে তারা।
অন্যদিকে বিএনপি ও বামপন্থি কয়েকটি দল পিআরসহ কিছু দাবির বিরোধিতা করছে। তারা সাংবিধানিক যেকোনো সংস্কার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে করার কথা বলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পাঁচ দাবিতে সোমবার যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আন্দোলনে এনসিপির থাকার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এলেও দলটির তরফে তা নাকচ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, “আমি বলে দিতে চাই, সরকার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব।”
সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘‘কেবল নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি। দেশকে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করতে মৌলিক সংস্কার ছিল এ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য।
‘‘কিন্তু সংস্কার ও বিচারকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনকে মুখ্য করে তোলা হয়েছে। যা দেশকে অশুভ বন্দোবস্তে নিপতিত করবে।”
তিনদিনে কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করবে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীও ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জেলা-উপজেলায় একই কর্মসূচি পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—
>> জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে;
>> আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে;
>> অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে;
>> ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম ও গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করতে হবে এবং
>> স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল আলম, গাজী আতাউর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেএমস আতিকুর রহমান ও মুফতি মোস্তফা কামাল কেএম শরীয়াতুল্লাহ।