১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম দেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

“সময় যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচন নিয়ে জনমনে ততই সংশয়, উদ্বেগ ও আশংকা বাড়ছে,” বলেন সাইফুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Dec 2025, 06:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১২ ডিসেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

বুধবার ঢাকার তোপখানা রোডে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

নির্বাচনের আগে এসে অবৈধ অস্ত্র ও কালো টাকার ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক।

তিনি বলেন, “সময় যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচন নিয়ে জনমনে ততই সংশয়, উদ্বেগ ও আশংকা বেড়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, সভা- সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হচ্ছে, তা রীতিমত আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ। 

“কোনো কোনো এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া চলছে, গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটছে। একেক প্রার্থী ইতোমধ্যে হাজার হাজার বিলবোর্ড, ফেস্টুন, নানা রংয়ের পোস্টার লাগিয়ে কোটি কোটি টাকাও খরচ করেছে। নানা প্রলোভন দেখিয়ে, অগ্রিম মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করে ভোটের আগেই বেশুমার টাকা খরছ করে ফেলেছে।”

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, “অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো কালো টাকার খেলা । আগে যে মনোনয়নপত্রের জামানত ছিল কুড়ি হাজার টাকা, সেটা বাড়িয়ে এবার পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে, আর নির্বাচনি ব্যয় যেখানে পঁচিশ লাখ টাকা ছিল, সেটাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

“তাতে আগামীতে সৎ এবং দেশপ্রেমিক মানুষের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী জাতীয় সংসদও যে কালো কালো টাকার মালিক, ব্যবসায়ী আর রাজনৈতিক - অর্থনৈতিক মাফিয়াদের ক্লাবে পরিণত হবে। আর এটা হবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিরাট পরাজয়।”

নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, “নির্বাচনে প্রশাসনিক ম্যানিপুলেশান, ধর্মের ব্যবহার, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, মাস্তানি, জবরদস্তি, জবরদখল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

“স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ যে নির্বাচনের অপেক্ষা করছে, তাকে কোনোভাবে বিতর্কিত করা যাবে না। অতীতের মতো আগামী নির্বাচনও যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে পরবর্তী সংসদ ও সরকারও বিতর্কিত হবে, দেশ-বিদেশে সরকারের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কোনোভাবেই চেন সহিংসতা আর জবরদখলের পর্যায়ে নিয়ে না যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, সদস্য আকবর খান মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, সিকদার হারুন মাহমুদ, সংগঠক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যুবরান আলী জুয়েল, স্বাধীন মিয়া, আরিফুল ইসলাম আরিফ উপস্থিত ছিলেন।