৯ মাসের খাদ্য আমদানির রিজার্ভ আছে: প্রধানমন্ত্রী

একই সঙ্গে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 12:26 AM
Updated : 27 July 2022, 12:26 AM

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের খাদ্যশস্য আমদানি করা যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও সাশ্রয়ী এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় করোনাভাইরাস মহামারী ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাবের চিত্র তুলে ধরে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন।

পাশাপাশি দেশ নিয়ে যারা বিভ্রান্তি তৈরি করছে তাদের কথায় কান না দিয়ে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রিজার্ভ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে রিজার্ভ কেন থাকে তার ব্যাখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো আপদকালীন সময়ে তিন মাসের খাদ্যশস্য কেনার মত বা আমদানি করার মত যেন অর্থটা আমাদের হাতে থাকে।

“আমাদের এখন যে রিজার্ভ আছে তাতে ৩ মাস কেন ৬ মাস, ৯ মাসের খাবারও আমরা কিনে আনতে পারব। কিন্তু আমাদেরকে আবার সেই পদক্ষেপ নিতে হবে যে, খাদ্যশস্য যেন আমাদের কিনতে না হয়। আমরা যেন নিজেরা উৎপাদন করতে পারি। নিজেরা সাশ্রয়ী থাকি।”

জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ দেখলাম একজন বললেন, আমাদের ডিজেল...ডিজেল আমাদের কিনতে হয় এটা ঠিক। কিন্তু অকটেন আর পেট্রোল কিন্তু আমাদের কিনতে হয় না। এটা আমরা যে গ্যাস উত্তোলন করি সেখান থেকে বাইপ্রডাক্ট হিসেবে আমরা কিন্তু এই পেট্রোল রিফাইন করে পেট্রোলও পাই, অকটেনও পাই।

“বরং আমাদের যতটুকু চাহিদা তার চেয়ে অনেক বেশি পেট্রোল এবং অকটেন কিন্তু আমাদের আছে।”

রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার পাল্টা সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, “২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন রিজার্ভ কত ছিল? ৩ বিলিয়নের কিছু উপরে, ৩.৮ এই রকমই ছিল। আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা যখন ২০০৯ এ সরকার গঠন করি, তত্ত্বাবধায়কের সময়ে কিছুটা বেড়েছিল যে কারণে মাত্র ৭ বিলিয়নের মত আমরা পেয়েছিলাম।

“সেখান থেকে আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত আমাদের রিজার্ভ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিলাম।”

তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে আমদানি বন্ধ থাকলেও পরে পরে আমদানি করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রিজার্ভ খরচ করতে হয়েছে।

বিনা পয়সায় কোভিড টিকা প্রদান ও ভাইরাস পরীক্ষার পাশাপাশি বিমান পাঠিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে আনতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে আমাদের সব আমদানি কিন্তু সমস্ত ক্যাপিটাল মেশিনারিজ। এটা মাথায় রাখতে হবে এ ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আনার পরে যে সমস্ত শিল্প গড়ে উঠবে, সেগুলো যখন প্রডাকশনে যাবে সেখানে কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ লাভবান হবে। এটা তো অনেক সহজ। এই খরচটা আমাদের করতেই হবে।”

দেশ নিয়ে যারা ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এই যে একটা শ্রেণি আছে অনবরত মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের...এই জ্ঞানীদের কথা শুনে মানে অজ্ঞান হয়ে বিভ্রান্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এ কাজটা করতে হবে আমাদের এখন থেকে।”

“আমাদের উন্নয়নের কথাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।প্রত্যেকটা অঞ্চলে গিয়ে একেবারে মানুষের কাছে বারবার বলতে হবে।”

স্বেচ্ছাসেবক লীগ আর্ত মানবতার সেবায় যে কাজ করে যাচ্ছে সেটা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

সরকারপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে অনেক চক্রান্ত আছে। আমি বিশ্বাস করি যত চক্রান্তই করুক বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ বন্ধ করতে পারবে না। আমরা যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ আমরা এগিয়ে যাব।”

সারাদেশে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কথা তুলে ধরে বৈশ্বিক মন্দায় উন্নত দেশগুলোও এখন বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মহাবিপদের মধ্যে যাতে না পড়ি তার জন্য আগে থেকেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেই কারণেই কিন্তু আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি।”

বাংলাদেশ সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এর মানে এই না যে বিদ্যুৎ একেবারে নাই বা শেষ হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু না।”

দেশের উন্নয়নের কথা না বলেও যারা ভুল তথ্য তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন তাদেরও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমাদের কিছু কিছু জ্ঞানী মানুষ আছে মাঝে মাঝে অনেক কথা বলে বেড়ায়। আসলে তারা কোনো খোঁজ রাখে কি না, খবর রাখে কি না জানিও না।”

সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছে, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও বাজেট দিতে পেরেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে এবং জিডিপি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেগুলো কেন কারো চোখে পড়ে না। সেটা আমি জানি না।”

তিনি পদ্মাসেতু নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন। দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করে তার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা সব কিছুতেই খারাপ দিক দেখে। জীবনে ভালো কোনো কিছু চোখে পড়ে না তাদের।

“আমার মনে হয় ওদের দৃষ্টি শক্তিটাই বোধ হয় কমে গেছে। ওদের মাথার ভেতরে বিশেষ করে কেয়ারটেকার গর্ভনমেন্ট যখন ২০০৭ সালে এসেছিল তারা ওদের মাথায় বোধহয় কিছু একটা করে থুয়ে গেছে যার জন্য ওদের মাথার মধ্যে এটাই ঘোরে যে একটা সুস্থ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশে চলুক এটা তাদের পছন্দ হয় না। দেশটা যে এগিয়ে যাচ্ছে এটা তাদের চোখে পড়ে না।”

আওয়ামী লীগ সরকার দেশজুড়ে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমির মালিকানাসহ নতুন ঘর দিচ্ছে জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের নিজের গ্রামে বাড়িঘর আছে। আপনার নিজের নিজের এলাকা আছে। সেই এলাকায় গিয়ে সকলকে দেখতে হবে একটি মানুষও গৃহহীন আছে কি না- কোনো পরিবার ভূমিহীন আছে কি না।

“যদি এটার খোঁজ থাকে অবশ্যই আমাকে তোমরা বলবে। আমি তাদের ঘর করে দেব।“

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক