Published : 20 Dec 2025, 04:34 PM
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগের স্বীকৃতির স্বার্থে হলেও দেশে ‘আগুন লাগানো যাবে না' বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।
আর ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র যে অরাজকতা হয়েছে, তাতে সামনের নির্বাচনের প্রার্থীরা 'আতঙ্কে আছেন' বলে তার ভাষ্য।
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "হাদি কিন্তু নির্বাচনের জন্য কাজ করছিল এবং নির্বাচনে যেন নতুন প্রার্থী আসতে পারে, বাংলাদেশের জনগণ যেন নতুন গণতন্ত্রের সূর্যের আলো দেখতে পারে, সেই কারণে নিরলস হাদি কাজ করছিল।
"তার যে আত্মত্যাগ, সেই আত্মত্যাগের সঠিক স্বীকৃতি দরকার; সেটার জন্য দেশে আগুন লাগানো যাবে না। ভাই, যিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন, তাকে যদি আপনি সম্মান জানাতে চান, তার জন্য যদি দোয়া জানাইতে চান, তাহলে দেশের জন্যই কাজ করতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব।"
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে বসে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয় তাকে।
তাকে শুরুতে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে এক দফা মাথায় অস্ত্রোপচারের পর ওসমান হাদিকে নেওয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পর সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
ওসমান হাদির কফিন সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছার পর রাখা হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা হয়। বিকাল ৪টায় হয় দাফল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিসৌধে।
হাদির মৃত্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় জাগল কিনা, এমন প্রশ্নে ববি হাজ্জাজ বলেন, "দেখেন হাদির মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা খুব কম হতে পারে। কিন্তু এরপর যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার পদে পদে যে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে, তাতে আসলেই কিন্তু সন্দিহান।
"কারণ, হাদির মৃত্যুর পর সব প্রার্থী কিন্তু এখন ভয়ে কাতর আছে বা আতঙ্কে আছে। যে কোনো এলাকায় আপনি দিনরাত যে গণসংযোগ করবেন বা কিছু করবেন, সেগুলো নিয়ে একটা আতঙ্ক আছে।"
তিনি বলেন, "সরকারের দায়িত্ব ছিল আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করা। গত তিন দিন আমরা দেখেছি দিনরাত মব-ভায়োলেন্স আগুন লাগানো, খুন-খারাবি- এগুলো গত কয়েক দিন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।
"এই জায়গা থেকে আমি সরকারের প্রতি আপনাদের মাধ্যমে আবেদন জানাচ্ছি যেন আইনশৃঙ্খলা আরো শক্ত হাতে ধরে।"
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ওসমান বিন হাদির ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ও জুলাই আন্দোলনে নিহত মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্নিগ্ধ বলেন, "এই দেশে জীবিত মানুষের থেকে মৃত মানুষের দাম বেশি। সেটি আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। যখন হাদি ভাই জীবিত ছিল, তার সিকিউরিটির জন্য কোনো কিছু ছিল না। আজ হাদি ভাই মৃত, তার জন্য বিভিন্ন লেয়ারের সিকিউরিটি প্রোভাইড করা হয়েছে।
"তো এজন্যই হয়তোবা যারা বেঁচে থাকতে চায়, তারা কখনো এই দেশে থাকতে চায় না। হাদি ভাই শহীদ মর্যাদা লাভ করেছেন। আজ উনার জানাজার নামাজ পড়তে এসেছি। ১৮ জুলাইয়ের (গতবছর) পরে আমার ভাই জানাজার নামাজ পড়ার সময় যে অনুভূতিটা হয়েছে, আজকে ঠিক সেই অনুভূতি হচ্ছে।"