কার সঙ্গে কার লড়াই

নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বিএনপি ভাঙার যে তৎপরতা ছিল তাতে কোনো মহলই সফল হয়নি বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। নানা চাপ ও প্রলোভন থাকার পরও ‘দল ভাঙার প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা যায়নি।

মোনায়েম সরকারমোনায়েম সরকার
Published : 6 Dec 2023, 10:58 AM
Updated : 6 Dec 2023, 10:58 AM

৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের প্রতিটিতেে গড়ে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাই এবং জোট-মহাজোট ও মিত্রদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির পর বলা যাবে আসন্ন নির্বাচনে ঠিক কতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই স্পষ্ট হবে এবারের নির্বাচনে কার সঙ্গে কার লড়াই হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৮টি দলের কোনো একটি বিশেষ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না। কারণ সব আসনে কোনো দলই প্রার্থী দিতে পারেনি।

কোন দল নির্বাচনে কয়টি আসন পাবে, সে ব্যাপারে আগাম মন্তব্য করা না গেলেও এটা এখনই প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায় যে আগামী নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিই আবারও সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হলেও সম্ভবত অনুগত বিরোধী দলের ভূমিকায় না-ও থাকতে পারে। কারণ রওশন এরশাদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। দেবর-ভাবির লড়াইয়ে দেবর শেষ পর্যন্ত ওয়াকওভার পেয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের কাছে আনুগত্যের পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়েছেন।

দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে মনে করা হয় বিএনপিকে। বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না। যাওয়ার আর সুযোগও নেই এবার। নির্বাচনে না যাওয়ায় দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচন যখন দুয়ারে দাঁড়ানো তখনও সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবি আদায়ে দিনের পর দিন দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকল বিএনপি। দলের ঘোষণা অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর ভোর ৬টা থেকে ৮ ডিসেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আদৌ তারা মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কর্মসূচি পালন করতে পারুক বা না না পারুক, মানববন্ধন শেষে আবারও কর্মসূচি দেবে দলটি। হয়তো আবারও অবরোধ-হরতাল ডাকবে। বিএনপির নিয়মরক্ষার এই সব কর্মসূচির মধ্যেই রাজধানীসহ সারা দেশে জনজীবন বেশ স্বাভাবিকই আছে। দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল একটু কমলেও, থেমে থাকেনি। রাজপথে দলটির সিনিয়র নেতাদের দেখা নেই। মাঝেমধ্যে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে গুটিকয়েক মানুষের ঝটিকা মিছিল ছাড়া চোখে পড়ার মতো কোনো পিকেটিংও নেই। দলটির এমন আন্দোলন কর্মসূচি গায়ে মাখছে না ক্ষমতাসীনরা।

দ্বাদশ নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পথে ছুটছে আওয়ামী লীগ। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপির কর্মসূচি কি অচলাবস্থার বৃত্তে ঢুকে পড়েছে? কোন আশায় হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি টেনে নিয়ে যাচ্ছে দলটি সে প্রশ্নও আছে। অভিযোগ আছে, স্থায়ী কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ‘লন্ডন’ থেকে আসা নির্দেশে অকার্যকর কর্মসূচির চক্রে পড়ে গেছে দলটি। এ অবস্থায় সিনিয়র অনেক নেতা যেমন হতাশ হয়ে পড়েছেন; তেমনি দলের তৃণমূলেও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।

গত ২৮ অক্টোবর আন্দোলনের মহাযাত্রা পণ্ড হওয়ার মুহূর্তে ‘হ্যান্ড মাইকে’ পরের দিন ২৯ অক্টোবর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে তারা প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শুক্রবার-শনিবার বিরতি দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ অথবা হরতাল কর্মসূচি করে যাচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবর, চলমান আন্দোলনে কর্মসূচি নিয়ে দলটিতে দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র নির্ভরযোগ্য কিনা, সেটা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। দাবি আদায়ে টানা হরতাল-অবরোধের মতো শক্ত কর্মসূচি না দিয়ে আন্দোলনের ধরনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা সেটা আনতেও চান বলে জানা গেছে। তবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকাশ্যে কিছু না বললেও অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা যায় হরতাল-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই তার মত।

পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ নভেম্বর, বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান হরতাল-অবরোধের বাইরে বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় পরের দিন ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরতালের শেষ দিন দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু দুপুরেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রুহুল কবির রিজভীকে টেলিফোন করে রোববার থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। পরে সন্ধ্যায় রিজভী কর্মসূচি ঘোষণা করলে হতচকিত হয়ে পড়েন দলের অনেক নেতাই। এ নিয়ে বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবই যদি লন্ডন থেকে একক সিদ্ধান্তে হয় তাহলে আর স্থায়ী কমিটি দিয়ে কি হবে। তিনি একটি কিচেন কেবিনেট করেছেন শুনলাম, তাদের সঙ্গে আলাপ করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন’।

সত্যাসত্য যাচাই করা কঠিন। তবে বিএনপি যে লন্ডন থেকে পরিচালিত হচ্ছে, তা বুঝবার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই চলে। চলমান হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির এক নেতা একজন সাংবাদিককে বলেছেন, ‘যে কোনো এন্টিবায়োটিক সাত দিনের বেশি কাজ করে না। সাতদিন পর কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে ফের শুরু করতে হয়।’ বিএনপির হরতাল-অবরোধের অবস্থাও অনেকটা সেই পর্যায়ে গিয়েছে। কারণ, মানুষকে কোনো স্বস্তি না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি চালিয়ে গেলে জনগণ বিরক্ত হতে পারে। এ কারণেই কিছুটা গ্যাপ প্রয়োজন।

বিএনপির চলমান হরতাল অবরোধের মাঠের চিত্রে দেখা যায়, ধীরে ধীরে অবরোধ-হরতালের প্রভাব কমে আসছে। দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে ‘দুর্জয় সাহস’ দেখানোর আহ্বানেও কাজ হচ্ছে না। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় বহু নেতা কারাগারে। নাশকতার মামলায় সাজাও হয়েছে বহুজনের। বাকি নেতারা আত্মগোপনে। মামলা হামলার শিকার হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ক্ষেতখামারে রাত কাটাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে না পেয়ে তারা হতাশ হয়েছেন।

তবে বিএনপির আশার জায়গা হলো, দলছুটের ঘটনা কম ঘটেছে। এবারের জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বিএনপি ভাঙার যে তৎপরতা ছিল তাতে কোনো মহলই সফল হয়নি বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। নানা চাপ ও প্রলোভন থাকার পরও ‘দল ভাঙার প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে সরকারের পরিকল্পনা হোঁচট খেয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা বিএনপির জন্য এটিই বড় ধরনের সাফল্য।

অন্য দিকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা দলগুলোর মধ্যেও সেভাবে স্বস্তি বা উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের শরিক দল, নির্বাচনে আসা নিবন্ধিত একাধিক রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি থেকে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে কী রকম সমর্থন বা সহযোগিতা পাবে— তার চূড়ান্ত ফায়সালা এখনো হয়নি। এ বিষয়ে ‘সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় আছেন বেশ কিছু আসনের প্রার্থী। প্রার্থীদের কেউ কেউ চিন্তিত-হতাশ হলেও আশা ছাড়ছেন না কেউ। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বরের আগেই আসনের বিষয়টি সমাধান করা হবে। জোট সঙ্গী ও মিত্রদের আশা, এর মধ্যেই সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার উদ্যোগ নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আসন সমঝোতা নিয়ে তাড়াহুড়া না করে অনেক হিসাব-নিকাশ করেই এগুচ্ছেন শেখ হাসিনা। সম্ভবত তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখছেন তিনি। প্রথমত নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করা, দ্বিতীয়ত দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা, তৃতীয়ত জোট শরিক ও মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখা— এসব বিষয় মাথায় রেখেই হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

এদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নয়, দলটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা চায়। তাহলেই জাতীয় পার্টি বড় বিজয় পাবে বলে আশা দলটির। এমনকি সরকারও গঠন করার সুযোগের কথা বলছেন দলটির নেতারা! দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, তার দল এখন ‘সাবালক’ হয়েছে। তাই নিজের পায়ে দাঁড়াবে।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ ধরনের কথা বলা হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপি অংশ নিলেও জাতীয় পার্টিকে কোথাও জিততে হলে সেই আসনে প্রয়োজন হবে আওয়ামী লীগের সমর্থন কিংবা আসন ছাড়। এমনকি রংপুর অঞ্চলেও আর জাতীয় পার্টির একচেটিয়া প্রভাব নেই। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেখা গেছে, যেসব আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল, সেসব আসনে আওয়ামী লীগ নৌকার কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট পেয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

বিএনপিবিহীন নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দলের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জোট মিত্র জাপাকেই হয়তো এবারও বিরোধী দলের আসনেই দেখা যাবে। বেশ কয়েকটি আসনে তাদের প্রার্থীরা যেন বিজয়ী হয়ে আসতে পারে, সেজন্য একটা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া অনেকটা চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করে ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। বিগত তিনটি নির্বাচনে এই জোটের কয়েকটি দল জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। এসব দলের নিজস্ব প্রতীক থাকলেও নির্বাচনে সেই প্রতীক তারা ব্যবহার করেন না। এবারও এসব শরিক নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। মনোনয়ন ফরম দাখিলও করেছেন তারা। আসন বন্টনের বিষয়ে আলোচনার জন্য ৪ ডিসেম্বর জোটের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর মধ্যে জোট সঙ্গীদের বিষয়ে আসন সমঝোতার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বলেছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। এর মধ্যে আমরা অবজার্ভ করব, মনিটর করব, অ্যাডজাস্ট করব, অ্যাকোমোডেট করব। যেখানে যেটা প্রয়োজন, সেটা আমরা করব। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ডামি ক্যান্ডিডেটের ব্যাপারেও বিষয়টা এরকম। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

দলের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যে অনেকটা দোটানায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কেননা দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে জোট শরিকদের আসনে।

নির্বাচনে কার সঙ্গে কার লড়াই হবে, সেটা পরিষ্কার হবে ১৭ ডিসেম্বরের পরেই।