Published : 09 Sep 2026, 04:19 PM
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। পার্কে হাঁটতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর লাইভ ভিডিও থেকে জানা যাচ্ছে, তার দিকে ডিম, পানি ও অন্যান্য কোমল পানীয়ের বোতল ছুড়ে মারা হয়েছে।
শারীরিকভাবেও হেনস্তা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনায় বাঁধনের ভাইয়ের কোলে থাকা শিশুকে কাঁদতে দেখা গেছে। বাঁধনকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
শুরুতেই বলে রাখি, আমার এই লেখা কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রতি দরদ দেখানোর জন্য নয়, লেখার বিষয়বস্তুও বাঁধন নন; বরং এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপট যে গত দুই বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এখন সত্যিই যখন ঘটছে, তা দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি অন্য দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করা।
দুই বছর আগে দেশে যে মবের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, সেটি এখনো থামেনি। দেশের নানা জায়গায় মব করে মানুষকে হয়রানি থেকে শুরু করে হত্যা পর্যন্ত করা অব্যাহত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাত খাইয়ে ভবঘুরে তোফাজ্জলকে হত্যা, ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে যাওয়ার অপরাধে রিকশাওয়ালা থেকে নারী—অনেককে অনেকবার পেটানো হয়েছে। দফায় দফায় মব করে এই ঐতিহাসিক ভবন ভাঙা হয়েছে। রাজশাহীতে নবজাতকের জন্য ওষুধ কিনতে বের হওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে দিনদুপুরে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা এখনো সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রংপুরে রাতের অন্ধকারে ডাকাত আখ্যা দিয়ে দুই ভায়রা ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
দেশে সংঘটিত হাজার হাজার মব সন্ত্রাসের মধ্যে এগুলো মাত্র কয়েকটি উদাহরণ। এখন এই ঘটনাগুলোর প্রতিটিই যদি মববাজি হয়, তাহলে ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটিও মবসন্ত্রাস এবং আগে সংঘটিত প্রতিটি মববাজির মতো এটিও গর্হিত ও নিন্দনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী কে, তার রাজনৈতিক পরিচয় কী, তিনি অতীতে কাকে সমর্থন করেছেন—এসব দিয়ে মবসন্ত্রাসের বৈধতা তৈরি হয় না।
বাঁধনের মতোই সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, মাহফুজ আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, শফিকুল আলমসহ আরও অনেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মব-হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা জুলাইয়ের ‘কুশীলব’ এবং এদের কারণে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে।
বাঁধনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ শুধু ‘লাল বদর’ হওয়া নয়। অভিনেত্রী আওয়ামী লীগের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ‘দ্য পোস্ট’সহ বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে তিনি নানাভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বাঁধন মূলত জুলাই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন—দ্বিতীয় অংশটি অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের করা অভিযোগ।
তাহলে কি বিষয়টি এমন যে, সে সময় বাঁধনের রাস্তায় নামার কারণে আওয়ামী লীগের লোকজন নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন? যদি তাই হয়, তবে সেটি রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু কোনোভাবেই মব দিয়ে তার জবাব দেওয়া যায় না।
আর যদি ব্যাপারটি তা না হয়, তাহলে প্রশ্ন আরও বড়। সে সময় রাস্তায় তো আরও অসংখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রী নেমেছেন, নেমেছেন এই দেশের লাখ লাখ মানুষ। মধ্য জুলাই থেকে দেশে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, ইন্টারনেট বন্ধ, গুলি ও জোরজবরদস্তি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দেওয়ার মতো নানা ঘটনায় পৃথিবীর নানা প্রান্তে অবস্থান করা বাঙালিরাও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশে তো বটেই, পৃথিবীর নানা গুরুত্বপূর্ণ শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।
এই প্রতিবাদে শুধু বিএনপি-জামায়াতের মানুষই ছিল না; ছিল দলমত-নির্বিশেষে উদার, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষেরাও। আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও রাস্তায় নেমেছেন। এমনকি খোদ আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক, যারা রাস্তায় নামেননি, তারাও চুপ থেকেছেন—এবং সেই নীরবতাও আন্দোলনের সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের তত্ত্বমতে ধরে নিলাম, জুলাই ছিল ষড়যন্ত্র। কিন্তু বিনা ভোটের নির্বাচন, গণতন্ত্রহীনতা, জোরপূর্বক ক্ষমতা ধরে রাখা, গুম, সরকারি দলের লোকজনের পাহাড়সম দুর্নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাবসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কী অসংখ্য অভিযোগ ছিল না?
এসবের সম্মিলিত ফলাফলেই তো আওয়ামী লীগের পতনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। এর সঙ্গে বিরোধীদের আন্দোলন যুক্ত হয়েছিল, বলা হচ্ছে যুক্ত হয়েছিল বিদেশি শক্তির ভূমিকাও। প্রেক্ষাপট যাই হোক, সত্য হলো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানকে প্রতিবেশী দেশে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। দলের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংস রাজনীতির আগুনে পুড়ে যাওয়া দলীয় অফিস; পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ নয়, আস্থার রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজতে হবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে।
এ রকম পরিস্থিতিতে আবার সংগঠিত হওয়া বা ক্ষমতায় ফিরে আসার নজির পৃথিবীতে খুব বেশি রাজনৈতিক দলের নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা কিছুটা আলাদা। দেশের বড় একটা অংশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখা এই দলের ফিরে আসা প্রয়োজন—সেটি বাংলাদেশের স্বার্থেই। তা ছাড়া তৃণমূলে কয়েক প্রজন্ম ধরে এই দলের সমর্থক আছে।
কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে ফিরে আসার জন্য শুধু মানুষের নস্টালজিয়া যথেষ্ট নয়। মাঠে থাকতে হয়, মানুষের কাছে যেতে হয়, নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হয়; এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—মানুষকে বোঝাতে হয় যে, ফিরে এলে অতীতের পুনরাবৃত্তি হবে না।
কিন্তু গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের মাঠের উপস্থিতি কোথায়? গালমন্দের মাধ্যমে—যেটি আগে শুধু জামায়াত ও শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা যেত—সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি ছাড়া মাঠে এ দলটির অস্তিত্ব খুব একটা দেখা যায়নি। দুই দফায় নিষিদ্ধ হওয়া, দলীয় প্রধানের ফাঁসির রায়ের মতো ঘটনাতেও দলের সমর্থকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই-একটি মিছিল ছাড়া দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি।
এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। গত মাসে ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আবারও চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বাড়ি এবং মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। মুখাবৃত মুষ্টিমেয় কয়েকজন এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। অথচ তাদের প্রতিহত করার মতো সাংগঠনিক শক্তি আওয়ামী লীগ দেখাতে পারেনি।
রাজনৈতিক দল টিকে আছে কি না, তার প্রধান লক্ষণ রাজপথে উপস্থিতি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবশ্য যুক্তি দেওয়া যেতে পারে—দল তো নিষিদ্ধ, মিছিল-সমাবেশ করলে ধরে জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে; তাহলে শোডাউন করবে কীভাবে? যুক্তিটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দল সরকারের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দীর্ঘ সময় মাঠ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে—সেটিও কি খুব বিশ্বাসযোগ্য?
তাহলে গত দুই বছরে আওয়ামী লীগ যতটুকু ফিরেছে, তারা যে বছরজুড়ে আলোচনায় থাকছে, তার কৃতিত্ব কার?
এর বড় অংশের কৃতিত্ব আওয়ামী লীগের নয়; বরং ‘জুলাই যোদ্ধা’র নামে মব ও লুটপাট করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা কতিপয় তরুণ, দেশের বাইরে থেকে উসকানি দেওয়া মববাজ, ধর্মীয় উগ্রবাদ বা তৌহিদী জনতার উত্থান এবং নতুন সরকারের ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করেছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট, সার-বীজের সমস্যা—এসব যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপন্ন করে, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তুলনা করতে শুরু করে। আগের শাসনামল নিয়ে স্মৃতি তখন নতুন করে কাজ করে। এর মধ্যেই জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে—‘আগেই ভালো ছিলাম।’
এই জায়গাটিই আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ। কিন্তু সুযোগ আর প্রত্যাবর্তন এক জিনিস নয়। ফিরতে হলে শুধু নিজেদের নেতাকর্মীর ওপর ভরসা করে নয়, সাধারণ মানুষের সমর্থনের ওপর ভর করে ফিরতে হবে। শুধু নিজেদের কর্মীর ওপর ভরসা করে ফিরতে পারলে বিএনপি-জামায়াতকে ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হতো না।
ফলে সামনের দিনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় কাজ হওয়া উচিত মানুষের ভয় দূর করা, ক্ষোভ কমানো এবং নিজেদের অতীত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। বিগত শাসনামলের ভুলত্রুটি, স্বেচ্ছাচারিতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঐতিহাসিক গ্লানি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া। অতীত ব্যর্থতার দায়ভার এড়িয়ে গিয়ে কখনো গণমানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়; স্পষ্ট ক্ষমাপ্রার্থনা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমেই রাজনৈতিক পুনর্জন্মের সূচনা হতে পারে। অনুশোচনার এই সততা দেখানোর বদলে আওয়ামী লীগ যদি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চতুরতা অব্যাহত রাখে, তবে তা জনমনে আস্থা ফেরানোর পথকে আরও রুদ্ধ করবে। অথচ বিরোধীদের ব্যর্থতায় যখনই আওয়ামী লীগ খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসে, সামাজিক মাধ্যম থেকে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের টকশো পর্যন্ত যখন আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখনই তাদের নেতাকর্মীরা এমন কোনো একটি ঘটনা ঘটিয়ে বসেন, যা পুরো আলোচনাটাকেই অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
বাঁধনের ঘটনা স্রেফ আরেকটি উদাহরণ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সম্পর্কে যে ধারণাটি তৈরি হয়, তা হলো—তাদের কোনো অনুশোচনা নেই; বরং ক্ষমতায় ফিরতে পারলে এই দেশে আবারও রক্তের উৎসব হতে পারে। অথচ জুলাইয়ে মানুষ তো সেই রক্তের উৎসব বন্ধ করার জন্যই মাঠে নেমেছিল।
এখানেই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বৈপরীত্য। তারা যদি সত্যিই ফিরে আসতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে—রাজনীতিতে মানুষের স্মৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের ভয়ও তেমন গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ অতীতের ভালোটা মনে রাখে, আবার অতীতের ভয়াবহতাও মনে রাখে। ফলে প্রশ্নটা শুধু ক্ষমতায় ফেরার নয়; মানুষের আস্থা ফেরানোরও।
ক্ষমতায় ফেরার রাজনৈতিক পথ কখনোই শুধু প্রতিপক্ষের ব্যর্থতার ওপর তৈরি হয় না। মানুষের মনে এই বিশ্বাসও তৈরি করতে হয় যে, ফিরে এলে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না। যেখানে প্রয়োজন ছিল অনুশোচনা, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতিশোধের ভাষা; যেখানে প্রয়োজন ছিল মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা, সেখানে দেখা যাচ্ছে মব; যেখানে প্রয়োজন ছিল নিজেদের অতীত নিয়ে আত্মসমালোচনা, সেখানে দেখা যাচ্ছে অন্যের ওপর ক্ষোভ।
ফলে বাঁধনের সঙ্গে ইতালিতে যা ঘটেছে, সেটি আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য এমন এক আয়না, যে আয়নায় মুখ দেখতে চাইলে তাদেরকে এই অস্বস্তিকর সত্যও মেনে নিতে হবে যে—তাদের সবচেয়ে বড় বাধা সবসময় বিএনপি নয়, জামায়াত নয়, নিষেধাজ্ঞাও নয়; বরং তাদের নিজেদেরই কিছু নেতাকর্মীর আচরণ—যে আচরণ গণমানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করে দলটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। তারা স্মরণে রাখেনি যে, জনবিচ্ছিন্নতা থেকেই জুলাইয়ের সৃষ্টি।
মানুষ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষই নেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাজ হওয়া উচিত সেই সিদ্ধান্তকে মানুষের জন্য সহজ করা, কঠিন করা নয়।
অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কামকাজ দেখে মনে হচ্ছে, বাকি সবাই তাদের ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তারা নিজেরাই ফিরতে রাজি নন।
উল্টো নিজেদের ফেরার পথে নিজেরাই কাঁটা বিছিয়ে রাখছেন—যেন ফেরার চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে অসম্ভব করে তোলাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
রাজু নূরুল: উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও লেখক। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পূর্ব আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পরিচালিত প্রকল্পে ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। ইমেইল: raju_norul@yahoo.com