Published : 08 Jul 2025, 12:18 AM
বরিশাল শহরের রসুলপুর চরে এক কিশোরীকে সম্ভাব্য ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করেন হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজন মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে সপ্তাহখানেক আগে, গত ১ জুলাই। মেয়েটির চিৎকার শুনে হিজড়ারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন—জানান তাদের নেত্রী কাবরী হিজড়া।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে কিছুটা আলোড়ন তুললেও মূলধারার গণমাধ্যমে তা এক ধরনের 'প্রতীকী সেন্সরশিপ' বা ‘নীরব উপেক্ষা’র শিকার হয়। অথচ যদি ঘটনাটি হতো ‘হিজড়াদের হাতে ছিনতাই’, ‘হিজড়াদের অত্যাচার’ বা ‘অপরাধী হিজড়া’—তবে তা হয়তো প্রথম পাতা দখল করে নিত।
সংবাদমাধ্যমে হিজড়াদের নিয়ে প্রকাশিত অনেক শিরোনামই আমাদের সমাজের লিঙ্গভীতি, ভেদবুদ্ধি এবং আধিপত্যবাদী মনোভাবের প্রতিচ্ছবি। যেমন: ‘রাজধানীতে হিজড়াদের উৎপাত বাড়ছে’, ‘হিজড়ারা দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে’, ‘হিজড়ারা কি মগের মুল্লুক পেয়েছে’—এই ধরনের শব্দ ও বাক্যচিত্র এক ভয়ের বৃত্ত তৈরি করে।
‘উৎপাত’, ‘ভয়ঙ্কর’, ‘উগ্র’—এই শব্দগুলো যেন কৌশলে হিজড়া সম্প্রদায়কে অপরাধী বা সমাজবিরোধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেয়।
কিন্তু আমরা কি কখনও থেমে ভেবেছি—তাদের এই তথাকথিত ‘উগ্রতা’ আসলে কী?
এটি আসলে এক দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রীয় অবহেলা, সামাজিক নিপীড়ন এবং মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া—একধরনের আত্মরক্ষার ভাষা, নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার মরিয়া প্রয়াস।
যখন আইন, সমাজ, ধর্ম এবং পরিবার সবাই মিলে কোনো মানুষকে গলা টিপে ধরতে থাকে, তখন তার কণ্ঠস্বর একটু বেশি জোরে বের হয়ে আসতেই পারে। সেটি ‘উগ্রতা’ নয়, বরং ‘বেঁচে থাকার আর্তনাদ’।
এই ভাষা শুধু হিজড়াদের অপমান করে না, জনমনে ভয় ও ঘৃণার বীজ বপন করে—যার ফলে তাদের প্রতি সহিংসতা যেন স্বাভাবিক ও বৈধ হয়ে ওঠে।
তারা যখন ধর্ষণ রোধে সাহস দেখায়, তখন তা খবর হয় না; কিন্তু রাস্তায় একটু উচ্চস্বরে কথা বললেই তাদের ‘উৎপাত’ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই দ্বিমুখী সংবাদ-নৈতিকতা আমাদের সমাজে বৈষম্য ও বিদ্বেষকে আরও গভীর করে তোলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হিজড়াদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্যের ছড়াছড়ি। ‘মূর্খ’, ‘অমানুষ’—এই শব্দগুলো শুধু গালিগালাজ নয়, বরং মানুষ-হিসেবে তাদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে, এক নির্মম ডিহিউম্যানাইজেশনের প্রতিফলন ঘটায়।
‘হিজড়ারা উগ্র’, ‘তাদের আচরণ ভয়ঙ্কর’, ‘তারা রাস্তায় টাকা আদায় করে’—এই অভিযোগগুলো যেন এক প্যাকেজে তাদেরকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখি—এই আচরণগুলো কি আমরা মানসিক আঘাত, সামাজিক প্রত্যাখ্যান ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে দেখেছি?
রাস্তায় কি শুধু হিজড়ারাই সহিংসতা ছড়ায়? ছিনতাই, ইভ টিজিং, ধর্ষণ, খুন—এই অপরাধগুলো কি কেবলমাত্র হিজড়ারা করে?
কোনো হিজড়া কি কখনও কোনো নারীকে রাস্তায় ধর্ষণ করেছেন, হত্যায় অংশ নিয়েছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে জড়িয়েছেন—এই প্রশ্নগুলো আমরা করতে ভয় পাই, কারণ উত্তরটা আমাদের আরামদায়ক সামাজিক বৃত্তিকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
বরং রাজধানী ঢাকায়ও এমন দৃশ্য বিরল নয় যে অন্ধ ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে পারাপার করে দিচ্ছেন কোনো হিজড়া। মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে একা হয়ে যাওয়া কিশোরীটিকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখে, স্বজনের খোঁজ করছেন, নিজের মোবাইল ফোনের পয়সা খরচ করে। হিজড়াদের এমন অনেক রোডসাইড গল্প আমাদের সবারই জানা আছে—সহানুভূতি যার ভাষা, মানবতা যার পরিচয়। এই সব আমরা দেখেও না দেখার ভাণ করি। হিজড়াদের নিয়ে বলবার বেলায় বলি তাদের উগ্রতা আর উৎপাতের গল্প।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই বাংলাদেশ কি সত্যিই সবার জন্য প্রযোজ্য? একটি রাষ্ট্র শুধু প্রশাসনিক ভবন আর সংবিধানের পাতায় নয়—গড়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে। কিন্তু সেই নতুন বাংলাদেশে হিজড়া সম্প্রদায়ের স্থান কোথায়—এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজে দেখা জরুরি।
বাংলাদেশের হিজড়া সম্প্রদায় ইতিহাসজুড়ে বৈষম্য, বঞ্চনা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে এসেছে। নীতিমালায় তাদের স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা থেকে তারা উপকৃত হয়নি। সামাজিক অবহেলা ও ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা—এই দুই মিলিয়ে তাদের জীবন এক নিরবচ্ছিন্ন মানসিক আঘাতের চক্রে বন্দি হয়ে আছে।
তাদের জন্য আইন আছে, কাগজে-কলমে স্বীকৃতি আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই শিক্ষা, চাকরি কিংবা নিরাপত্তায় সমান সুযোগ। তারা যেন এই রাষ্ট্রে ‘অসম্পূর্ণ নাগরিক’ হয়েই বেঁচে থাকে, যেন তাদের অস্তিত্বই পরিপূর্ণতার দাবিদার নয়। অথচ এই দেশেই সংবিধান বলে, ‘সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’—তাহলে এই অসাম্য কোথা থেকে আসে?
নাগরিকত্ব কেবল জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম থাকার বিষয় নয়, বরং তা এক গভীর আত্মমর্যাদার অনুভূতি—যেখানে একজন মানুষ নিজেকে নিরাপদ, স্বীকৃত ও সম্মানিত মনে করে। হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য সেই অনুভূতি এখনও অধরাই থেকে গেছে।
অবহেলা, অপমান আর রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা একজন মানুষের প্রতিক্রিয়াকে কেবল আবেগে আটকে রাখে না—তা হয়ে ওঠে এক নির্মম অস্তিত্বের সংগ্রাম। হিজড়া সম্প্রদায়ের তথাকথিত ‘উগ্রতা’ আসলে গভীর মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া, যা জন্ম নেয় অস্বীকৃতি ও বর্জনের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা থেকে।
তাদের জীবন শুরু হয় পরিবার থেকেই প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। স্কুলে নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে উপহাস, চিকিৎসা ও শিক্ষায় বাধা, নাগরিক অধিকারে বঞ্চনা—প্রতিটি স্তরে তারা আহত, অবহেলিত এবং একপ্রকার নির্বাসিত।
তাই রাস্তায় তাদের ‘উগ্র’ আচরণ আসলে একধরনের প্রতিরোধ—নিজেকে দৃশ্যমান করার মরিয়া প্রয়াস। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘ফাইট রেসপন্স’— নিরবচ্ছিন্ন মানসিক আঘাতের চক্রব্যুহ থেকে বের হওয়ার স্বাভাবিক ও আত্মরক্ষামূলক প্রকাশ।
দীর্ঘদিনের অপমান ও বর্জনের মুখে একজন মানুষ সাধারণত চারটি পথে প্রতিক্রিয়া দেখায়: নিচু স্বরে তোষামোদ করে, নীরব হয়ে পালিয়ে যায়, অন্যের ইচ্ছায় নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলে, নয়তো শেষ বিকল্প হিসেবে রুখে দাঁড়ায়।
হিজড়াদের ‘উগ্রতা’ আসলে এই শেষ বিকল্প—একটি আর্তচিৎকার, যাতে তারা অদৃশ্য হয়ে না যান।
এটি ভীতিকর নয়, বরং সমাজে থেকে সমাজ থেকে বহিষ্কৃত এক সত্তার জীবন-মরণ স্পন্দন।
আমরা—যারা শিক্ষা, চাকরি, সম্মান বা প্রেমের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি—তাদের জন্য সমাজ অনেকটাই সহজ করে রাখা হয়। কিন্তু হিজড়াদের জন্য এই সমাজ প্রতিনিয়ত একটি যুদ্ধক্ষেত্র। সমাজ ‘ভদ্র’ হিজড়াকে উপেক্ষা করে, আর ‘উগ্র’ হিজড়াকে ভয় পায়।
তাদের উচ্চস্বর, চড়া ভঙ্গি বা প্রকাশ্য উপস্থিতি—এসব কিছুই আসলে অস্তিত্বের ভাষা, না-দেখার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একমাত্র হাতিয়ার।
বরিশালের ঘটনায় যখন হিজড়ারা এক কিশোরীকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করে সাহসিকতার পরিচয় দেয়, তখন তা কিছু মানুষের চোখে মানবিক হয়ে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার নিচে দেখা যায় ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ আর লিঙ্গবিদ্বেষে ঠাসা মন্তব্য: ‘পুরুষদের তো নারীদের রক্ষা করার কথা, এখন হিজড়ারা করছে!’ ‘আসল পুরুষ তো হিজড়ারাই!’ এই মন্তব্যগুলো শুধু হিজড়াদের সাহসকে বিদ্রূপ করে না, বরং লিঙ্গ পরিচয়ের পুরনো রূঢ় ধারণাকে আরও শক্ত করে তোলে। এ যেন সাহস আর মানবিকতাকেও পিতৃতান্ত্রিক ছাঁচে ফেলে বিচার করার এক নোংরা প্রয়াস।
কৃতিত্বের জন্য প্রশংসা নয়, বরং ঠাট্টা করে তা খাটো করার প্রবণতা আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত।
এই ধরনের বক্তব্য—‘হিজড়ারাই পুরুষ’ বা ‘পুরুষরাই হিজড়া’—হিজড়া পরিচয়কে পরোক্ষে গালির সমতুল্য করে তোলে।
এ ধরনের মন্তব্য শুধু ব্যঙ্গাত্মক নয়—এটি সমাজে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈধতা দেয়।
যারা এসব কথা বলেন, তাদের মনের গভীরে ধারণা থাকে—হিজড়া পরিচয় মানেই কিছুটা অপ্রয়োজনীয়, কিছুটা অস্বস্তিকর, এবং কিছুটা অসামাজিক।
এটাই হলো সামাজিক ঘৃণার ভাষা—যা সহিংসতার আগে মঞ্চ তৈরি করে।
সুযোগ পেলেই হিজড়া সম্প্রদায় যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে—তার উদাহরণ অগণিত।
করোনা মহামারীর ভয়াবহ দিনগুলোতে, যখন অনেকেই মৃতদেহ ছুঁতেও ভয় পেত, তখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের হিজড়ারা এগিয়ে এসে দাফন-কাফনের কাজ করেছেন, খাদ্য ও নগদ সহায়তা বিতরণ করেছেন—নির্বিচারে, নিঃস্বার্থভাবে।
২০২৩ সালের ঈদের আনন্দ তারা নিজেদের জন্য নয়, উৎসর্গ করেছিলেন বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য। ঈদের খরচ বাঁচিয়ে তারা দাঁড়িয়েছিলেন মানুষের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
২০২৪ সালে যখন লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় বন্যা আঘাত হানে, তখন সিলেটের হিজড়া সম্প্রদায় নিজেদের সীমিত উপার্জন থেকে খাদ্যসামগ্রী পাঠায় দুর্গতদের সাহায্যে।
তাদের এই সহানুভূতি কোনো এনজিওর প্রজেক্ট নয়, কোনো ক্যামেরার সামনে নয়—শুধু নিঃশব্দ দায়িত্ববোধ।
গত বছরের জুলাই আন্দোলনে তারা শুধু অংশ নেননি, আন্দোলনে বিজয় অর্জনের পর দেশে যখন কয়েক দিন সরকার বলে ছিল না, তখন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন। একই সময়ে ফেনীর বন্যায় পাঠিয়েছেন ত্রাণের প্যাকেজ।
মানবিকতা যখন স্রোতের বিপরীতে হাঁটে, তখন তা শুধু সাহায্য নয়—প্রতিবাদের ভাষাও হয়ে ওঠে। হিজড়াদের এই সাহায্যগুলো যেন সমাজের অমানবিক মুখোশের বিপরীতে এক জোরালো নৈতিক জবাব।
কিন্তু আমরা এই মানবিকতাকে দীর্ঘদিন ধরে মনে রাখি না। হিজড়া সম্প্রদায় রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ হতে পারলেও মিডিয়া ও সমাজ এক ধরনের প্রতীকী বিলুপ্তির জাল বুনে তাদের অস্তিত্বকে অদৃশ্য করে রাখে।
তাদের ভালো কাজ প্রচার পায় না; বরং ‘উৎপাত’, ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ এবং ‘অপরাধী’র মতো হীন ধারণা বারবার উঠে আসে।
সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো, নির্বাচন বা জাতীয় দিবসের শোভাযাত্রায় হিজড়াদেরকে ‘বৈচিত্র্যের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরা হয়, কিন্তু তাদের কল্যাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ বা উন্নয়নমূলক কোনো কার্যক্রম থাকে সীমিত বা টুকরো টাকাও নয়।
এই প্রতীকী স্বীকৃতি বাস্তব অধিকারকে খর্ব করে, তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে প্রহসনে পরিণত করে।
আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং মিডিয়াকে একযোগে প্রশ্ন করতে হবে—কেন হিজড়াদের মানবিক সত্তা মুছে ফেলা হচ্ছে? কেন তাদের প্রতিরোধ ও সহমর্মিতাকে সংবাদ করে তোলা হয় না? তাদের দোষ খুঁজে দেখার আগে আমাদের প্রথমেই খতিয়ে দেখতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতাকে।
হিজড়া সম্প্রদায়কে দেশের অমূল্য সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার অপরিহার্য শর্ত। যখন একজন হিজড়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করেন, তখন সেটা শুধু সংবাদ নয়—এটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক সরাসরি চপেটাঘাত।
আমাদের দায়িত্ব এখন স্পষ্ট—তাদের পাশে দাঁড়ানো, অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য বন্ধ করা। না হলে আমরা প্রমাণ করব যে, মানবতার কোনো ‘লিঙ্গ’ নেই—শুধু বঞ্চনা, অবিচার আর ক্ষমতার অহঙ্কার রয়েছে।