১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রিকেটের রাজনীতিকরণ এবং বিশ্বকাপ বর্জন—আসিফ নজরুলের শেষ দুই অর্জন

বাংলাদেশের ক্রিকেট যদি আন্তর্জাতিক পরিসরে পূর্বাবস্থানে ফিরে যেতে না পারে, তবে প্রতিবার বিশ্বকাপের দামামা বাজলেই আক্ষেপ হয়ে ফিরে আসবে আসিফ নজরুলের নাম।

ক্রিকেটের রাজনীতিকরণ এবং বিশ্বকাপ বর্জন—আসিফ নজরুলের শেষ দুই অর্জন
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে সমর্থনের সুযোগ হারিয়েছেন। ফাইল ছবি: অ্যান্ড্রু বয়ার্স, রয়টার্স

সালেহ উদ্দিন আহমদ সালেহ উদ্দিন আহমদ

Published : 03 Jun 2026, 12:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বিশ্বকাপ শুরুর দিন ‘ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া মানেই ভাঙা হৃদয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘একসময় ঐক্যের প্রতীক হলেও, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন রাজনীতির জালে আটকা পড়েছে। সমর্থকরা এতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব দেখছেন, সমালোচকরা দেখছেন একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মের জন্য বড় ধাক্কা আর খেলোয়াড়রা দেখছেন হারানো মঞ্চ।’

আস্তে আস্তে আমাদের ক্রিকেটপাগল জনগণকে ক্রিকেট-রাজনীতির বাস্তবতা বুঝতে হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটিকে ‘সরকারের সিদ্ধান্ত’ বলে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পরে দায় চাপান ‘ক্রিকেটার ও বোর্ডের’ ওপর এবং সবশেষে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অজুহাত দিয়ে আবার আগের অবস্থানে ফেরেন। মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছেন সদ্য প্রাক্তন এই উপদেষ্টা।

“আসিফ নজরুল খাঁড়ার ওপর মিথ্যা বলেছেন”, এমন অভিযোগ জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। আসিফ নজরুল এখন আর ক্ষমতায় নেই এবং এটাই তাকে নিয়ে শেষ সমালোচনা নয়। বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে তিনি যেভাবে বাংলাদেশের ছেলেদেরকে বঞ্চিত করেছেন, সামনে তার আরও অনেক সমালোচনা সইতে হবে।

এক সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুজনও কোনো রাখঢাক করেননি। তিনি বলেছেন, ‘আই ফিল সরি ফর লিটন অ্যান্ড হিজ টিম যে ওরা একটি বিশ্বকাপ খেলতে পারল না। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিকেটের ছিল না, এটা আরও ওপর থেকে এসেছে।’

সব মিলিয়ে, ঘটনাটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করার নয়; এটি নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্ন। ওপরটা কত ওপরের তা হয়তো জানা যাবে পরে। তবে আসিফ নজরুলের কথাগুলো একটু ঝালিয়ে নেওয়া যায়। গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, “আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাএটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।”

বাংলাদেশের চাওয়া ছিল ভারত থেকে সরিয়ে ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিনের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি।

তবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবসে তিনি বলেন অন্য কথা। বিশ্বকাপ না খেলায় কোনো আক্ষেপ আছে কি না, এই প্রশ্নে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

তার এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশ্য তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, তার কথার “প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সরকারের ছিল বলেই আবার জানান তিনি। তবে ক্রিকেটারদের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েই গেছে, তা সালাউদ্দিনের কথাতেই স্পষ্ট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড খেলছে মাঠে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড তেমন ভালো খেলতে পারেনি; বাংলাদেশ থাকলে হয়তো বড় আপসেট ঘটাতে পারত। জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে হারিয়ে দিয়েছে, তেমন হতেও পারত!

নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমিনুল হক বলছেন, বিসিবির বিষয়ে আইসিসির নিয়মের মধ্যে থেকে এগোতে হবে। আইসিসির নিয়ম ও সিদ্ধান্ত মেনে চললে আমাদের ছেলেরা আজ বিশ্বকাপ খেলত।

বাংলাদেশ না খেললেও প্রচুর লোক টিভিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখছেন। সরকারি নির্দেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ থাকবে, কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়নি কেন? এক সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করতেই তিনি প্রশ্নটা হেসে উড়িয়ে দিলেন; বললেন“আপনি ভাই দেখছি কোনো খবরই রাখেন না। মুস্তাফিজকে নিয়ে ঝামেলা তো আইপিএলে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার বন্ধ হবে কেন?” আমি কিছু বললাম না। সহজ প্রশ্নের খুবই সহজ উত্তর, আমি তো এইভাবে ভেবে দেখিনি!

অল্পের জন্য পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে পারল না। তারা প্রথমে বলেছিল, বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানাতে তারা শ্রীলঙ্কায় ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। সমবেদনার পেন্ডোরা বাক্স খুলতেই আসল কারণগুলো বের হয়ে আসল। পাকিস্তান আইসিসি থেকে শুধু তিনটা জিনিস চাচ্ছিল আয়ের আরও বড় ভাগ, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় খেলার সুযোগের অঙ্গীকার এবং ভারত তাদের সঙ্গে এশিয়া কাপে হাত না মিলিয়ে যে অভদ্রতা করেছে তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সবই ন্যায্য দাবি। তবে ভাবখানা ছিল বাংলাদেশের

পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে না খেললে আইসিসির বিরাট ক্ষতি হয়ে যেত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তাদের রেভিনিউ অনেক কমে যেত। অপরদিকে পাকিস্তান যদি ভারতের খেলা বয়কট করত, তাহলে তাদেরকে বিরাট জরিমানা দিতে হতো, হয়তো আইসিসির সদস্যপদও হারাতে হতো। দুই পক্ষের জন্যই এটি ছিল একটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা।

শেষ পর্যন্ত আইসিসি ও পাকিস্তান সমঝোতা করেছে। আইসিসি পাকিস্তানের অনেক দাবি-দাওয়া মেনে নিয়েছে এবং পাকিস্তানও ভারতের সঙ্গে খেলেছে এবং বড় ব্যবধানে হেরেছে। খেলায় হার-জিত থাকবেই।

ভারতীয়রা বিশ্বকাপেও ভদ্রতা দেখায়নি; এইবারও পাকিস্তানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একে একে ক্রিকেটে খারাপ রীতিনীতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তবে একবার যখন শুরু হলো, প্রতিটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে এইসব রাজনীতি এবং বয়কট হুমকি আবার দেখা দিতে পারে। ‘বিগ ইভেন্ট’ পরিচালনায় আইসিসির এতদিনের সুনাম বড় ধাক্কা খেল।

বাংলাদেশের কাঁধে সমবেদনা জানাবার নামে ভর করে পাকিস্তানের বেশ লাভ হলো। বাংলাদেশ যা হারাবার তা আগেই হারিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে। তবে খুশির ব্যাপার হলো আইসিসি বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেবে না; আপাতত। আপাতত বলছি এইজন্য যে, আইসিসি চায় না বিশ্বকাপ চলাকালীন আর কোনো ঝামেলায় যেতে। তবে মোড়লদেরকে খেপিয়ে ভবিষ্যৎ নিষ্কণ্টক নয়; বিশেষ করে বাংলাদেশের পাকিস্তানের মতো এমন কোনো লিভারেজ বা অস্ত্র নেই যে আইসিসির সঙ্গে দর কষাকষি করতে পারবে।

ক্রিকেটের এই ক্রাইসিস থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়েছে ক্রিকেট দুই দলের খেলা। কোনো এক দল বা এক দেশ বা এক সংস্থা অন্যদেরকে দাবিয়ে রাখতে চেষ্টা করলে একটা চেইন প্রতিক্রিয়া হবেই। এতে কে জিতবে, কে হারবে তা অনির্ধারিত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এটা একটা সাবধানবাণী।

এইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়াতে আমাদের একটা লাভ হয়েছে। আমরা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় নিজেদের একটা টুর্নামেন্ট শুরু করতে পেরেছি ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। আশা করব ভবিষ্যতে পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলোও আমাদের এই টুর্নামেন্টে যোগ দেবে। আইসিসি বলেছে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বাগতিক করা হবে। লাভজনক টুর্নামেন্ট হলে তো ভালো, না হলে হবে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এতে যে প্রচার হয়েছে, তাতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন বলেছেন, “বাংলাদেশের নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকাটা আমার ভালো লেগেছে। তারা তাদের খেলোয়াড় ‘ফিজ’ (মুস্তাফিজ)-এর জন্য দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থানও আমার ভালো লেগেছে।”

অবশ্য ইংল্যান্ডের আরেক প্রাক্তন অধিনায়ক মার্ক বুচার ভিন্নমত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “হয় তুমি গিয়ে খেল এবং তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত কর, যেমনটা অনেক দেশ করেছে, নয়তো টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নাও। এরপর অন্য দলের সুযোগ থাকা উচিত।”

এইসব ব্যাপারগুলো হয়তো মার্ক বুচারের চেয়ে নাসের হুসেইন আরও ভালো বুঝেন। নাসের হুসেইন যখন অধিনায়ক ছিলেন, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তখন রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ে যেতে অস্বীকার করেছিল।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি খামাকা বয়কট করেনি। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্ণয় করেছিলেন, ভারতে বাংলাদেশিরা একদম নিরাপদ নয়। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদিও খুব গর্ব করার মতো নয়, তবু ঘরের লোক বাইরের বিপদে পা দেবেই বা কেন?

ক্রিকেট বয়কটের কয়দিন পরই এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে শুটার রবিউল ইসলামকে ভারতে যেতে দেওয়া হলো। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুজন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত এবং গাজী সোহেলও নিরাপত্তার অজুহাত ভেদ করে চলে গেলেন আম্পায়ারিং করতে। বাংলাদেশের একজন ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানও তড়িঘড়ি করে চলে গেলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিতে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা সবাই ভালো আছেন।

আমাদের মুস্তাফিজকে ক্রিকেটের বাইরে আগে কেউ তেমন চিনত না। এখন বিশ্বের অনেক জাদরেল নেতার কাছে ফিজ খুব পরিচিত হয়ে গেলেন। প্রথমে এগিয়ে এলেন ভারতের প্রাক্তন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেছেন, “আমি মনে করি, বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতায় খেলার চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রাজনীতির অনুপ্রবেশ এখানে স্পষ্ট।” তারপর কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহসহ অন্য নেতারাও ডি-টু মারলেন। বলা যায়, ফিজের নামে এখন সবাই ক্রেজি।

এখন আমাদেরকে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। ২০২৭ সালের আইপিএল-এর নিলাম দিয়ে শুরু করতে হবে। সেখানে ভারতীয় কোনো দল যদি মুস্তাফিজকে ১৮ কোটি রুপিতে কেনে, আমি আশ্চর্য হব না। নয় কোটি নিলামের দাম, প্লাস নয় কোটি ক্ষতিপূরণ। এইবার মুস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যে নাকানি-চুবানি খেয়েছে, আশা করি সেই ভুল তারা আর ভবিষ্যতে করবে না।

একটা দৈনিকের কমেন্ট সেকশনে ক্রিকেট নিয়ে দুজন পাঠকের মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন লিখেছেন, “খেলাধুলা হলো শরীর চর্চার জন্য, দেহকে সুস্থ রাখার জন্য। সুতরাং আমরা যদি ব্যায়াম চর্চায় ফিরে যাই, তাহলে এইসব আন্তর্জাতিক ঝামেলায় পড়তে হবে না।” আরেকজন পাঠক মন্তব্য, “আমাদেরকে এইসব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতেই বা হবে কেন? আমরা যদি হাডুডু ও ডাংগুলি খেলায় ফিরে যাই, তাহলে সব সমস্যা মিটে যায়।” তাদের দুইজনের কথায় অবশ্যই যুক্তি আছে। ক্রিকেট এখন সারাবিশ্বে হিজিবিজি হজপজ; এই হিজিবিজি থেকে নিস্তারের জন্য দেশীয় খেলা হলো খুব সহজ উপায়।

তবে আশা করি আইসিসি তার কথা রাখবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। আইসিসির টাকা-কড়ি ছাড়া এই দেশে ক্রিকেটের শ্বেতহস্তী বয়ে বেড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট যদি আন্তর্জাতিক পরিসরে পূর্বাবস্থানে ফিরে যেতে পারে, তবে আসিফ নজরুলের কথা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে। যদি তা না হয়, তবে প্রতিবার বিশ্বকাপের দামামা বাজলেই আক্ষেপ হয়ে ফিরে আসবে তার নাম।

 'আসিফ নজরুল খাঁড়ার ওপর মিথ্যা বলেছেন', অভিযোগ সালাউদ্দিনের

সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক