Published : 07 Feb 2014, 10:10 AM
'ঈশ্বর কণা' নামটা আমার পছন্দের নয় মোটেই। কারণটা আমি আমার সার্ন ভ্রমণের পর একটি সাম্প্রতিক লেখায় বলেছিলাম 1 । কিছু ব্যাপার এখানেও প্রাসঙ্গিক। হিগস বোসনের নাম ঈশ্বর কণা মোটেই ছিলো না প্রথমে। এমনকি এখনো পদার্থবিজ্ঞানের সরকারী পরিভাষায় এটা নেই। এটা 'ঈশ্বর কণা' হিসেবে পরিচিতি পায় নোবেল প্রাইজ বিজয়ী বিজ্ঞানী লিওন ল্যাডারম্যানের একটি বইয়ের প্রকাশনার পর। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ৪৫০ পৃষ্ঠার বইটার শিরোনাম ছিলো – ' দ্য গড পার্টিকেল : ইফ দ্য ইউনিভার্স ইজ দ্য আনসার, হোয়াট ইজ দ্য কোয়েশ্চন?' 2। বলা হয় কণাটির গুরুত্ব বোঝাতে নাকি ঈশ্বর শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মজার ব্যাপার হল, লেখক নাকি নিজেই বইটির নাম ঈশ্বর কণা না রেখে 'গডড্যাম পার্টিকেল' 'ঈশ্বর-নিকুচি' কণা (Goddamn Particle) হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশক শেষ সময়ে গডড্যাম থেকে ড্যাম শব্দটা ছেঁটে ফেলেন। বইয়ের নাম হল গড পার্টিকেল 3। সেই থেকে হিগস বোসনের নাম হয়ে গেল 'দ্য গড পার্টিকেল'! বাঙালি সাংবাদিকরাও সাথে সাথে এর ভাষান্তর করলেন 'ঈশ্বর কণা'। নির্মলেন্দু গুণের মতোই তাইলে বলতে হয়, কেবল স্বাধীনতা শব্দটি বদলে দিয়ে – `ঈশ্বর শব্দটি এ ভাবে আমাদের হলো'।
লিওন ল্যাডারম্যানের 'গড পার্টিকেল' শিরোনামের বইটা আমার কাছে আছে, সেটা ২০০৬ সালে পুনর্মুদ্রিত। সেটার জন্য আলাদা করে ভূমিকাও লিখেছেন তিনি। বইটা এমনিতে খুবই দুর্দান্ত, সহজ সরল এবং সাবলীল ভাষায় রসিকতা করে বইটা লেখা। আমি জানিনা পাঠকেরা বইটি পড়েছেন কিনা, বইটা কিন্তু খুব মজাদার একটা বই। এমন নয় যে ঈশ্বর কিংবা ঈশ্বর কণা সম্বন্ধে শ্রদ্ধায় মরে গিয়ে কিংবা ভাবে বিগলিত হয়ে বইটি লিখেছেন, বরং বইটি পড়লে বোঝা যায়, এগুলো নিয়ে ঠাট্টা তামাসাই করেছেন বেশি। যেমন একটা জায়গায় (পৃষ্ঠা ২২) তথাকথিত ঈশ্বর কণাকে 'সবচেয়ে বড় শয়তান/খলনায়ক' আখ্যায়িত করে লিখেছেন 4 :
'কণা-পদার্থবিদেরা সম্প্রতি এ ধরণের একটি ফাঁদ পাততে সমর্থ হয়েছেন। চুয়ান্ন মাইল পরিধিবিশিষ্ট একটা টানেল আমরা তৈরি করছি যেখানে অতিপরিবাহী কণাত্বরকের মধ্যে যুগল রশ্মির আপতনের সাহায্যে সেই শয়তানকে ধরবার প্রত্যাশা করি।
আহ কি পরিমাণ শয়তান সেই ব্যাটা। ইতিহাসের সবেয়ে বড় শয়তান…'
এ ধরণের রসিকতা আছে সাড়া বইটা জুড়েই। একে তো বিশ্বাসীরা লিওন ল্যাডারম্যানের রসিকতা বোঝেননি, তার উপর এখন সার্নে ঈশ্বর কণার অস্তিত্বের প্রমাণকে ধরে নিলেন ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে।
লিওন ল্যাডারম্যানের পাশাপাশি পিটার হিগসের কথাও বলতে হয়। পিটার হিগস নিজে নাস্তিক, সেটা তার উইকি পেইজেই লেখা আছে। তিনি হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা হিসেবে আখ্যায়িত করারও ঘোর বিরোধী। তাঁর ভাষ্যেই 5 –
এটা আমার জন্য এক ধরণের অপ্রস্তুত হবার (embarrassing) মতই ব্যাপার; কারণ এটা পরিভাষার এক ধরণের ভুল প্রয়োগ, যা কিছু মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে তুলতে পারে।
বিজ্ঞানে অসচেতন আবেগী লোকজন এর পেছনের ইতিহাস না জেনেই হিগস কণা আবিষ্কারকে ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ বলে ভুল করছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ করা যায় – বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার 'ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম' গ্রন্থটিতে "ঈশ্বরের মন জানার" কথা বলেছিলেন বইয়ের একদম শেষ দিকে এসে 6 । অনেকে ভুলভাবে এটাকে হকিং-এর ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসের সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু হকিং, ল্যাডারম্যান কিংবা হিগ্স্ কণার প্রবক্তা হিগ্স্ কেউই ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। হকিং, ল্যাডারম্যান উভয়ই রূপক অর্থে বা আলঙ্কারিকভাবে "ঈশ্বর" শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। আর হিগস তো সেটা করারও ঘোর বিরোধী। কাজেই ঈশ্বর কণার আবিষ্কারের সাথে ঈশ্বরের অস্তিত্বের সম্পর্ক খোঁজাটা কেবল মিডিয়ার ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছু নয়। যেমন, সার্নের হিগস বোসন প্রাপ্তির খবরের পর জি নিউজ খবর দিয়েছিলো এই শিরোনামে- "ইনসান খুঁজে পেল ভগবান"। আবার কেউ কেউ এর মধ্যেই করতে শুরু করেছেন ধর্মগ্রন্থের মধ্যে আয়াতের সন্ধান, যা তাদের যুক্তিহীন আবেগী এবং হুজুগপ্রিয় মন মানসিকতাই তুলে ধরে।
এর মধ্যে বাঙালি জাতির হুজুগ-প্রিয়তা আবার এককাঠি সরেস। এমনিতে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারে কারো কোন মাথা ব্যথা আছে এমন নয়, চিরায়ত-ভাবে হাসিনা-খালেদা-রাজাকার-ধর্ম ইত্যাদির বাইরে চিন্তা বা দৃষ্টি খুব একটা অগ্রসর হতে দেখা না গেলেও হিগস বোসন কণা নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় হবার সাথে সাথে বাঙালি হুজুগের আগুনে যেন ঘি পড়ল। ঈশ্বর কণা তত্ত্বের আবিষ্কারের পিতা হিসেবে 'সত্যেন বোস'কে আখ্যায়িত করে গগনবিদারী কান্নাকাটির ধূম পড়ে গেল। কেউ কেউ আরো কিছুটা অগ্রসর হয়ে বলতে শুরু করলেন – সার্নের খ্রিষ্টান –ইয়াহুদি-নাসারা সায়েন্টিস্টরা নাকি বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের গবেষণা মেরে দিয়ে তাকেই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। এমনি একটি লেখা আমার নজরে এলো একটি ব্লগে, লেখার শিরোনাম – "GOD particale বা ঈশ্বর কণা ত্বত্বের আবিষ্কারের পিতা সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে এভাবে ভুলে গেল বিজ্ঞানীরা!!" (দেখুন এখানে)
লেখায় লেখকের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য –
হিগসের উল্লেখিত ওই কণার চরিত্র সম্পর্কে প্রথম আলোকপাত করেছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। দুই বিজ্ঞানীর নামে কণাটির নাম দেওয়া হয় হিগস-বোসন। GOD particle বা ঈশ্বর কণার তত্বীয় ধারণাটা মূলত আসে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং আলবার্ট আইনস্টাইন এর যৌথ গবেষণা পত্র থেকে। জার্মানির বিখ্যাত জার্নাল 'Zeitschrift fur Physik' তে এটা প্রকাশিত হয়। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে এই ধারণা মূলত আসে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছ থেকে। … এটাই এখন আলোচিত ও বিখ্যাত 'বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব' হিসেবে ।…
লেখাটির লিঙ্কে গিয়ে নীচে মন্তব্য-কারীদের কিছু মন্তব্যের নমুনাও দেখতে পারেন পাঠকেরা।
"ভাবতেও কষ্ট হয়। এতটা নির্লজ্জ ইউরোপিয়ানরা।"
"ইউরোপিয়ানরা পারলে নিজেদের ছাড়া সারা বিশ্বের সব জাতিকেও অস্বীকার করবে"
"পিটার হিগসকে নোবেলের জন্য নমিনেট করার চেষ্টা করা হচ্ছে অথচ বসু অন্তরালেই রয়ে গেলো।"।
এ ধরনের অনেক মন্তব্যই পাওয়া যাবে ওখানে।
শুধু ব্লগ-আর্টিকেল হলেও না হয় কথা ছিলো, অনলাইন, অফ লাইন সব পত্রিকার সম্পাদকীয় কিংবা কলামেও এ ধরণের হাজারো ভুল অনুমানের ছড়াছড়ি। যেমন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম নামের পত্রিকাটিতে ৫ ই জুলাই তারিখে প্রকাশিত "নতুন বিতর্কে 'ঈশ্বরকণা'" শিরোনামের কলামে সাব্বিন হাসান, আইসিটি এডিটর আমাদের জানিয়েছেন 7 –
…পিটার হিগসের সঙ্গে উপমহাদেশের ভারতীয় বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এ কণার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দেন। এ দুই বিজ্ঞানীর নাম থেকেই 'হিগস-বোসন' কণা তত্ত্বের সৃষ্টি। আজ 'ঈশ্বরকণা' নামে পরিচিত।…
দেখলাম আবেগে শুধু বাঁধ ভাসিয়েছেন কেবল উলুখাগড়ারা নয়, অনেক রাজা উজিরই। আমার শুভানুধ্যায়ী বন্ধু আছেন, চিন্তায় চেতনায় মুক্তমনা। দিন দুনিয়ার খোঁজ খবর ভালই রাখেন। তিনি পর্যন্ত হিগস নিয়ে মিডিয়া তোলপাড় শুরু হবার কয়দিন পরে তিনি আমায় একটি লিঙ্ক পাঠালেন 8 – For the Indian Father of the 'God Particle,' a Long Journey from Dhaka। অবশ্য কেউ কোন লিঙ্ক পাঠানো মানেই যে লেখকের বক্তব্যের সাথে তিনি সহমত হবেন তা নয়, আর তাছাড়া এ লেখাটা অবশ্য উপরের বাংলা-ব্লগ লেখকের মত এলেবেলে নয়, কিন্তু মোটা-দাগে বক্তব্য একই। বোসন কণার সাথে সত্যেন বোসের নাম মিলেমিশে আছে। যেহেতু এখন 'গড পার্টিকেল' পাওয়া গেছে তাই তিনিই 'ফাদার অব গড পার্টিকেল'। ইউরোপিয়ানরা তাকে ভুলে গেছে, সঠিকভাবে সম্মানিত করেন নাই। ০৫-০৭-২০১২ তারিখে প্রথম আলো এই ইংরেজি লেখাটার উপর ভিত্তি করে অনলাইন ডেস্কের বরাত শিরোনাম করেছে 9 –'উপেক্ষিত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু', এবং পরবর্তীতে আরেকটি প্রবন্ধ 10 – 'ঢাকা থেকে জেনেভা'।
এই অভিযোগগুলো সঠিক না ভুল তা জানলে হলে পদার্থবিজ্ঞানে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদানের কথা আমাদের ঠিকমত জানতে হবে। আমি বছর কয়েক আগে আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী নামে একটি বই লিখেছিলাম 11। বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৫ সালে অঙ্কুর প্রকাশনী থেকে। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামখ্যাত অধ্যাপক এ এম হারুন-অর রশীদ। সেই বইয়ে সত্যেন বোসকে নিয়ে পরিশিষ্টে কিছু কথা লিখেছিলাম, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করলে হয়তো পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে:
***
১৯২৪ সাল। তখন আক্ষরিক অর্থেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্বর্ণযুগ'। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের একটি ছোট্ট কক্ষে বসে এ বিভাগের তরুণ শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসু (সত্যেন বোস হিসেবে সমধিক পরিচিত) প্ল্যাঙ্ক বিকিরণ তত্ত্বের সংখ্যায়নিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি নতুন সংখ্যায়নের জন্ম দেন যা পরবর্তীকালে 'বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন' (Bose-Einstein Statistics) নামে বিশ্বে পরিচিত হয়। যেসব কণিকা সমষ্টি এই সংখ্যায়ন মেনে চলে ওদের ধর্ম হলো ভর শূন্য অথবা সীমিত, স্পিন শূন্য বা পূর্ণসংখ্যক- আর এদেরকে এখন বলা হয় বোসন। বলা বাহুল্য বোসের নামেই এই নামকরণ।
সত্যেন বোস সেসময় দুটি অনুমিতির ভিত্তিতে এই সংখ্যায়ন মাত্র ৪-পৃষ্ঠার এক প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন:
১. আলোক কণিকাসমূহ (ফোটন) পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ অপার্থক্যযোগ্য
২. এদের দশাস্থানকে নূন্যতম h3 আয়তন বিশিষ্ট অসংখ্য কোষে বিভক্ত—-এ কল্পনা করা যায়।
বোস এ প্রবন্ধটি আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করেছিলেন তাঁর মন্তব্যের জন্য এবং প্রবন্ধটি প্রকাশযোগ্য হলে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে জার্মানির কোন গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন (৪ঠা জুন, ১৯২৪):
"…আপনি লক্ষ্য করবেন, আমি প্ল্যাঙ্কের সূত্রের সহগটি চিরায়ত তাড়িত চৌম্বকতত্ত্ব ব্যবহার না করে নির্ধারণের চেষ্টা করেছি কেবলমাত্র দশাস্থানের ক্ষুদ্রতম আয়তনকে hν ধরা যায় এই অনুমিতি থেকে। যথোপযুক্ত জার্মান ভাষা না জানায় প্রবন্ধটি ভাষান্তরিত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি এটি যদি প্রকাশযোগ্য মনে করেন, তবে সাইটশ্রিফট ফুর ফিজিকে (Zeits. für Physik) প্রকাশের ব্যবস্থা করলে বাধিত হব।…"
আইনস্টাইন কর্তৃক স্বয়ং অনুদিত প্রবন্ধটি "Plancks Gresetz and Lichtquantenhypotheses" শিরনামে প্রকাশিত হয় (Zeits. für Physik, 24, 178, 1924)। আইনস্টাইন প্রবন্ধটির শেষে একটি পাদটীকা সংযোজন করেছিলেন যা আজও বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু পাঠককে চমৎকৃত করে-
"আমার মতে বোস কর্তৃক প্ল্যাঙ্ক সূত্র নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রধাপ। এখানে ব্যবহৃত পদ্ধতি আদর্শ গ্যাসের কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রয়োগ করা যায়, যা আমি অন্যত্র বর্ণনা করব।"
তা প্ল্যাঙ্ক সূত্র আহরণে কি সে অসঙ্গতি যা নতুনভাবে নির্ধারণ করতে গিয়ে বোস কোয়ান্টাম সংখ্যায়নের জন্ম দান করেছিলেন? এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু পেছনের দিকে যেতে হবে।
১৯০৪ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক তত্ত্বীয়ভাবে 'কৃষ্ণকায়া বিকিরণের' সূত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা পরীক্ষণের ও পর্যবেক্ষণের সাথে সুন্দরভাবে মিলে যায়। এতদিন সনাতনী তাড়িত-চৌম্বক তত্ত্বের ভিত্তিতে এই বিকিরণের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এই সূত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি দেখলেন যে আলো তাড়িত-চৌম্বক তরঙ্গ হলেও কোন পরমাণু বা অণু কর্তৃক বিশোষণ বা নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় এই তাড়িত-চৌম্বক শক্তি অবিরত ধারায় শোষিত বা নিঃসৃত না হয়ে গুচ্ছে গুচ্ছে শোষিত বা নিঃসৃত হয়। এখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের জন্মমুহূর্ত হিসেব করা যেতে পারে।
পরিস্থিতিটা বিবেচনা করা যাক। প্ল্যাঙ্কের দৃষ্টিতে, একটি কৃষ্ণ-বিবরের গাত্র থেকে ক্রমাগত প্ল্যাঙ্ক কল্পিত স্পন্দকসমূহ কর্তৃক গুচ্ছ তাড়িত-চৌম্বক শক্তি শোষিত এবং নিঃসৃত হচ্ছে; ফলে বিবরের অভ্যন্তরস্থ বিকিরণ একটি তাপীয় সুস্থিতিতে রয়েছে এবং এই বিকিরণ তাড়িত-চৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে বিবর অভ্যন্তরে স্থির-তরঙ্গ প্যাটার্ন রচনা করছে। প্ল্যাঙ্ক তার স্পন্দক নিঃসৃত বিকিরণ শক্তির গড় মান নির্ধারণ করলেন এবং কম্পাঙ্ক বিস্তারে স্থির তরঙ্গের প্যাটার্ন থেকে কম্পনের প্রকার সংখ্যা বের করলেন। এই প্রকার সংখ্যাকে গড় নিঃসৃত শক্তি দিয়ে গুণ করলেই বেরিয়ে আসে প্ল্যাঙ্কের বিকিরণসূত্র। সুতরাং দেখা যাচ্ছে শোষণ ও নিঃসরণকালে বিকিরণকে গুচ্ছ গুচ্ছ শক্তি কণিকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে , অন্যদিকে বিবর অভ্যন্তরে একে তরঙ্গ রূপে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এটিই হলো সত্যেন বোসের দৃষ্টিতে প্ল্যাঙ্কের নির্ধারণ পদ্ধতির অসঙ্গতি; অবশ্য এ অসঙ্গতি আইনস্টাইনের চোখেও ধরা পড়েছিল। সত্যেন বোসের কৃতিত্ব হলো বিশুদ্ধ ফোটন কণিকার বন্টণবিন্যাসের সংখ্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাঙ্কের সূত্রের প্রতিষ্ঠা করলেন যা প্ল্যাঙ্কের অসঙ্গতি হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। এ প্রবন্ধটি সম্পর্কে আইনস্টাইন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সত্যেন বোসকে লেখা একটি চিঠিতে :
"আমি আপনার প্রবন্ধটি অনুবাদ করে সাইটশ্রিফট ফুর ফিজি'কে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অবদান বলে মনে করি যা আমাকে খুশি করেছে। আপনিই প্রথম 'উৎপাদকটিকে' কোয়ান্টামতত্ত্ব থেকে নির্ধারণ করেছেন, অবশ্য পোলারায়ন উৎপাদক সম্বন্ধে যুক্তি অতটা শক্তিশালী নয়। এটি প্রকৃতপক্ষেই একটি উৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা।"
সত্যেন বোস আহৃত সংখ্যায়নকে বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন বলা হয় কেন? এর উত্তরে বলা যায় যে, বোস সংখ্যায়ন ফোটনের জন্য প্রযোজ্য, যার স্থির ভর শূন্য এ ধরণের কণিকার জন্য বোস এ সূত্রটি উদ্ভাবন করেছিলেন। অন্যদিকে আইনস্টাইন বোস পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কোয়ান্টাম গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বোসের সূত্রকে সাধারণীকরণ পর্যায়ে উন্নীত করেন, যা তিনি বোসের পত্রের পাদটীকায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বোস সংখ্যায়নের আবিষ্কারের পর তা পদার্থবিদ্যার নানা শাখার ব্যবহৃত হচ্ছে বা হয়েছে। বোসের বণ্টন বিন্যাসের মৌলিক সূত্রকে জড় কণিকার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে আইনস্টাইন দেখিয়েছেন যে কোয়ান্টাম গ্যাসের আচরণ অতি শীতল তাপমাত্রায় বিস্ময়কর হতে পারে- যার অনিবার্য পরিণতি হলো 'বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন' । এই ভবিষ্যদ্বাণী পদার্থবিদ্যায় এক চমকপ্রদ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল।
সত্যেন বোস কর্তৃক কোয়ান্টাম সংখ্যায়নের কাজটি কত গভীর তাৎপর্যময় ছিল বোস নিজেই সে সময় তা বুঝতে পারেননি। তার মন্তব্য:"আমার ধারণাই ছিল না যে আমি যা করেছি তা নতুন কিছু।" তবে ১৯২৫ সালে বার্লিনে আইনস্টাইনের সান্নিধ্যে এলে সত্যেন বোস তাঁর কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হন। সে সময়কার কথা তিনি এভাবে স্মরণ রেখেছেন,"…জার্মানিতে যখন উপস্থিত হলাম, তখন দেখি প্রায় সকলেই আমার প্রবন্ধ পড়ছেন ও আলোচনা করছেন। স্বয়ং আইনস্টাইন আমার নতুন সংখ্যায়ন রীতিতে বস্তুকণার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এর প্রয়োগক্ষেত্র অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।"
***
মূল কথা হলো পদার্থবিজ্ঞানে সত্যেন বোসের অনন্যসাধারণ অবদান আছে, এবং সেই অবদানের স্বীকৃতি তিনি পেয়ছেন, গুরুত্বপূর্ণ একটা কণা-পরিবার তার নাম ধারণ করে আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সম্প্রতি লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে যে হিগস কণা আবিষ্কৃত হয়েছে সেটা তার মাথা থেকেই বেরিয়েছিল, কিংবা সত্যেন বোসের আইডিয়া ইউরোপিয়ানরা মেরে দিয়েছে। কী নিদারুণ অজ্ঞতা। বিজ্ঞানী উলফগ্যাং পলির মতই বলতে হয় 'They are not even wrong'। একটা উদাহরণ দেই। নাসায় 'চন্দ্রশেখর টেলিস্কোপ' বলে একটা টেলিস্কোপ আছে যেটা পদার্থবিজ্ঞানে সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখরের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। কেউ যদি বলেন এই টেলিস্কোপের আইডিয়াটা চন্দ্রশেখরের মাথা থেকেই বেরিয়েছিল, আর নাসার বিজ্ঞানীরা তা মেরে দিয়ে একটা বড় সড় টেলিস্কোপ বানিয়ে নিজেদের করে রেখেছেন – এটা যেমন শোনাবে, সত্যেন বোসকে 'ঈশ্বর কণার' জনক বলে জাহির করার চেষ্টাটাও সেরকমই।
তবে আশার ব্যাপার হল – সবাই আবেগের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেননি। এর মধ্যে দেখেছি – সমকাল পত্রিকায় ব্যাপারটি নিয়ে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন হাজির করা হয়েছে। ১০ জুলাই তারিখে প্রকাশিত 'বসু ও বোসন কণা' শীর্ষক প্রতিবেদনে বিজ্ঞান লেখিকা খালেদা ইয়াসমিন ইতি সঠিক ভাবেই উল্লেখ করেছেন 12 –
হিগস কণাকে বিজ্ঞানে হিগস বোসন বলেই উল্লেখ করা হয়। কারণ হিগস কণা একটি বোসন কণা। এর স্পিনও পূর্ণসংখ্যার। এ রকম অসাধারণ আবিষ্কারের খবর দেশের গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে এমন কিছু বক্তব্য আসছে যা তরুণ প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্তিকর হয়ে দেখা দেবে। যেমন_ 'এই কণা আবিষ্কারে উৎফুল্ল বিজ্ঞানীরা স্মরণ করতেই ভুলে গেছেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু বা উপেক্ষিত সত্যেন্দ্রনাথ বসু।' এ প্রসঙ্গে বলতে হয় সত্যেন্দ্রনাথ বসু উপেক্ষিত। তবে তা নিজ দেশে, বাইরে নয় এবং হিগস বোসন কণার আবিষ্কারে এসব কথা প্রাসঙ্গিকও নয়। ড. আলী আসগর বলেছেন, যে কোনো তত্ত্ব বিকশিত হয়ে শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়ে। এর তাৎপর্য সম্পর্কে ওই বিজ্ঞানীও অতটা অবগত থাকেন না। হিগস বোসন ভর বাহক বোসন বৈশিষ্ট্যের একটা কণা। বোস আইনস্টাইন পরিসংখ্যান মেনে চলে এটুকুই। সার্নের গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সুবীর সরকার ডয়চে ভেলেকে বললেন, এই ঈশ্বর কণা আবিষ্কারে সত্যেন বসুর কোন অবদান নেই। তবে হ্যাঁ, পরমাণুর চেয়ে ক্ষুদ্র 'বোসন জাতের কণা সত্যেন বসুর সংখ্যাতত্ত্ব মেনে চলে। একই কথা ডয়চে ভেলেকে বললেন সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর হাই এনার্জি বিভাগের বিজ্ঞানী সুকল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। ১৯২৪ সালে বোসন কণার অস্তিত্বের কথা সবাই জানতে পারেন। কিন্তু এর সঙ্গে বোসের কোন সম্পর্ক নেই তবে বোসের আবিষ্কৃত সংখ্যাতত্ত্বের অবদান আছে।
খালেদা ইয়াসমিন ইতি তার লেখায় পদার্থবিদ ড. আলী আসগরের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখিয়েছেন যে তথাকথিত ঈশ্বর কণার সাথে সত্যেন বোসকে জুড়ে দেয়ার কিংবা তাকে জনক বানানোর চেষ্টা আসলে খুবই ভ্রান্ত। আসলে সত্যি বলয়ে কী – যারা পদার্থবিজ্ঞানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত, কিংবা কণা পদার্থবিজ্ঞানের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্বন্ধে খোঁজ-খবর রাখেন তারা সবাই আসলে এটার সাথে একমত হবেন। যেমন প্রথম আলোতে ১৩-০৭-২০১২ তারিখে প্রকাশিত ''ঈশ্বর' কণার খোঁজ' শিরোনামের প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরশাদ মোমেনের প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি 13 –
সব মৌলিক কণারই ঘূর্ণন (স্পিন) বলে একটা বিশেষ ধর্ম রয়েছে, যা কিনা পূর্ণ সংখ্যা (০, ১, ২,…) বা অর্ধপূর্ণ সংখ্যা (১/২, ৩/২,…) দ্বারা নির্দেশিত হয়। যাদের মান পূর্ণ সংখ্যা, তাদের দলটিকে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সম্মানে বলা হয় 'বোসন'। উল্লেখ্য, অধ্যাপক বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯২৪ সালে এ ধরনের কণার পরিসংখ্যান তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিলেন। যে বিশেষ কণাগুলোর আদান-প্রদানের কারণে মৌলিক বলগুলোর উদ্ভব হয়, তার সবকটি এই বোসন দলেরই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের অতিপরিচিত আলোর কণা যে ফোটন, তা-ও একটি বোসন কণা। সার্নে আবিষ্কৃত কণাটির ঘূর্ণন সংখ্যা শূন্য। তাই এটিও একটি বোসন। মনে রাখতে হবে, বসুর অবদান ১৯২০-এর দশকের এবং পিটার হিগসের কাজ ১৯৬০-এর দশকের।
আমরা জানি আইনস্টাইন যেমন বেহালা বাজাতে পছন্দ করতেন, রিচার্ড ফেইনম্যান যেমন বাজাতেন বঙ্গো, ঠিক তেমনি সত্যেন বোস বাজাতেন এস্রাজ। কিন্তু এস্রাজ বাদকের আসলে হিগস বোসন বা হিগস কণার অন্বেষণে কোন অবদান ছিলো না, এটা আমার কথা নয়, ব্যাপারটি স্পষ্ট করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আহমেদ শফি, ১৪ই জুলাই বিডিআর্টসের ইংরেজী বিভাগে প্রকাশিত তার চমৎকার Nearly finished brief biography of a well-known scintilla শিরোনামের লেখায় 14 –
'Bose spent the rest of his life doing little important physics, and the proposal for using a Higgs particle for spontaneous symmetry breaking had nothing to do with the esraj player'
তারপরেও যদি পাঠকদের ব্যাপারটা বুঝতে সমস্যা হয়, তবে আমার নিজের লেখায় দেয়া খুব প্রিয় অ্যানালজি দিয়ে শেষ করি। 'পথের পাঁচালী' নামের বিখ্যাত সিনেমাটার সাথে সত্যজিৎ রায়ের সম্পর্ক থাকলেও পরিচালকের নামের সাথে অভিজিৎ রায়ের সাথে কেবল নামের শেষাংশের কাকতালীয় মিল ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু এই মিলের সূত্র ধরে যদি আমি সিনেমাটির জনক সাজার চেষ্টা করি, তাহলে যেমন দেখাবে, হিগস বোসন কণায় বোসন দেখেই সত্যেন বোসকে জনক বানানোর প্রচেষ্টাটাও সেরকমই।
সত্যেন বোস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব, সেই সাথে গর্ব সমগ্র বাঙালি জাতির। তাকে ছোট করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বরং অনর্থক অতিরঞ্জন, অতিকথন এবং নীচুমানের স্তবতা বিসর্জন দিয়ে নির্মোহভাবে তাকে স্বআসনে অভিসিক্ত করাই এ লেখার উদ্দেশ্য।
তথ্যসূত্রঃ
1. আমার সাম্প্রতিক সার্ন ভ্রমণ এবং হিগস কণা নিয়ে একটি ব্লগ আর্টিকেল (মুক্তমনা, জুলাই ৯, ২০১২)এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক 'সার্ন থেকে হিগ্স বোসন – প্রলয়-নাচন নাচলে যখন আপন ভুলে!''; লিঙ্ক – http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=27255
2. Leon Lederman, The God Particle: If the Universe Is the Answer, What Is the Question?, Delta, 1993
3. ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার উৎস উল্লেখ করে লেখা হয়েছে এখানে –
"…অনাবিষ্কৃত কণাটির গুরুত্ব সাধারণ মানুষকে বোঝাতে ১৯৯৩ সালে কলম ধরেছেন লিও লেডারম্যান। বইয়ের নাম কী হবে? লেডারম্যান বললেন, "নাম হোক হিগস বোসন।" ঘোর আপত্তি প্রকাশকের। বললেন।, "এমন নামের বই বিক্রি হবে না। ভাবা হোক জুতসই কোনও নাম।" বিরক্ত লেডারম্যান বললেন, "তা হলে নাম থাক গডড্যাম পার্টিক্যাল।" অর্থাৎ, দূর-ছাই কণা। প্রকাশক একটু ছেঁটে নিলেন সেটা। বইয়ের নাম হল 'দ্য গড পার্টিকল'। নামের মধ্যে ঈশ্বর! বই বিক্রি হল হু হু করে। …"
ব্যাপারটা ঠিক এরকমভাবেই ঘটেছিল কিনা তা পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিয়ে না বলা গেলেও লেখক আসলে তার বইয়ের জন্য গড পার্টিকেলের বদলে গডড্যামন পার্টিকেল (Goddamn Particle) প্রস্তাব করেছিলেন,আর প্রকাশক শেষ সময়ে সেটা পরিবর্তন করেন, তার উল্লেখ আছে এখানে, এখানে কিংবা এখানে।
4. লিওন ল্যাডারম্যানের মুল বইয়ে ভাস্যটি এরকমের –
Particle physicists are currently setting just such a trap. We're building a tunnel fifty-four miles in circumference that will contain the twin beam tubes of the Superconducting Super Collider, in which we hope to trap our villain.
And what a villain! The biggest of all time!….
5. James Randerson, Father of the 'God Particle', The Guardian, Sunday 29 June 2008
6. ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত স্টিফেন হকিং এর বিপুল জনপ্রিয় বই – 'ব্রিফ ফিস্ট্রি অব টাইম'। বইটি বৈজ্ঞানিক যুক্তিতে ভরপুর, এমনকি শূন্য থেকে কী ভাবে মহাবিশ্ব উদ্ভুত হতে পারে তারও সম্ভাব্য ধারনা আছে ওতে – কিন্তু বইয়ের শেষ লাইনটিতে এসেই প্যান্ডোরার বাক্সের মতোই রহস্যের ঝাঁপি মেলে দিয়েছিলেন হকিং ; বলেছিলেন – যেদিন আমরা সার্বজনীন তত্ত্ব (Theory of every thing) জানতে পারব, সেদিনই আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে 'ঈশ্বরের মন' (mind of god) কে পরিপূর্ণভাবে বোঝা। তারপর থেকে হকিং এর বলা এই 'মাইণ্ড অব গড' নিয়ে হাজারো ব্যাখ্যা আর প্রতিব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেটার অবসান ঘটেছে হকিং এর শেষ বই 'গ্রাণ্ড ডিজাইন'-এ, যেখানে তিনি পরিস্কার করেই বলেন, 'মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য কোন প্রয়োজন নেই ঈশ্বরের'। বইটি নিয়ে আমার আলোচনা আছে এখানে: http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=10307
7. সাব্বিন হাসান, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, নতুন বিতর্কে 'ঈশ্বরকণা', জুলাই ৫, ২০১২
8. Samanth Subramanian, For the Indian Father of the 'God Particle,' a Long Journey from Dhaka, http://india.blogs.nytimes.com, July 6, 2012।
9. উপেক্ষিত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, প্রথম আলো, অনলাইন ডেস্ক, তারিখ: ০৫-০৭-২০১২
10. হুমায়ূন রেজা, ঢাকা থেকে জেনেভা, প্রথম আলো, তারিখ: ১৩-০৭-২০১২
11. অভিজিৎ রায়, আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী, অঙ্কুর প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ – ২০০৫, পুনর্মূদ্রণ ২০০৬।
12. খালেদা ইয়াসমিন ইতি, বসু ও বোসন কণা, কালস্রোত, দৈনিক সমকাল, জুলাই ১০, ২০১২।
13. আরশাদ মোমেন, 'ঈশ্বর' কণার খোঁজ, প্রথম আলো, তারিখ: ১৩-০৭-২০১২
14. Ahmed Shafee, Nearly finished brief biography of a well-known scintilla, http://opinion.bdnews24.com/
ড. অভিজিৎ রায়: আমেরিকা প্রবাসী গবেষক এবং বিজ্ঞান-লেখক।