সত্য প্রকাশের লড়াই চলবে: তৌফিক ইমরোজ খালিদী

‘সংবাদের জন্য, সত্যের জন্য ১৭ বছর’- এই স্লোগান নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কর্মীরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Oct 2023, 06:45 PM
Updated : 23 Oct 2023, 06:45 PM

‘সংবাদের জন্য, সত্যের জন্য’ সতের বছরের যে পথচলা; সব বাধা ও চাপ অতিক্রম করে সেই লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বাংলাদেশের সংবাদসেবাকে ডিজিটাল যুগে পৌঁছে দেওয়া এ সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বললেন, ভুল খবর না দেওয়ার যে সম্পাদকীয় নীতি, তা পুরো যাত্রায় বজায় রেখেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এগিয়ে যাবে।

“আমরা চেষ্টা করে গেছি। লড়াইটা অব্যাহত রেখেছি, এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং লড়াইটা আমাদের সবার জন্য রাখতে হবে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাখতে হবে, আমাদের সন্তানদের জন্য করতে হবে, যারা এই পেশায় ভবিষ্যতে আসবেন, তাদের জন্য করতে হবে।”

‘সংবাদের জন্য, সত্যের জন্য ১৭ বছর’- এই স্লোগান নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কর্মীরা। সদাব্যস্ত বার্তাকক্ষে আড্ডায়, স্মৃতিচারণায় চলে উদযাপন। ঘরোয়া এই আয়োজনে সঙ্গী হয়েছিলেন সাবেক সহকর্মীরাও।

শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মতো ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়। ২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা। এ দিনটি বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংবাদপত্রেরও যাত্রা শুরুর দিন।

‘সবার আগে সংবাদ, তবে বস্তুনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আপস নয়’- এই মন্ত্র দিয়ে সংবাদ পরিবেশন শুরুর পর দ্রুতই পাঠকের মনোযোগ কাড়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। এখনও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেইসবুক পাতায় প্রায় কোটি ‘লাইক’ পাঠকের সেই আস্থারই পরিচয় দেয়।

সপ্তদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সাবেক-বর্তমান সহকর্মীদের নিয়ে কেক কাটেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক খালিদী। তিনি বলেন, “সবাইকে অভিনন্দন। আমাদের কষ্ট-যন্ত্রণা, সমস্যা সবকিছুর পরও আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”

শুধু সাংবাদিকতাটা করতে চাওয়ার কারণে বাধা-বিপত্তির মুখে পড়ার কথা তুলে ধরে তৌফিক খালিদী বলেন, “পুরা সময়টা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। সাংবাদিকদের জীবন, সাংবাদিকতায় কখনোই সেটা থাকে না।

“আপনি যদি সাংবাদিকতাটা খুব ভালো করে করতে চান, যে কোনো দেশেই, যে কোনো সমাজেই, আমাদের দেশেতো বটেই, আপনি প্রতিনিয়তই নতুন নতুন শত্রু তৈরি করবেন, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবেন। তার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়।”

প্রধান সম্পাদক বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কখনো কখনো ‘সত্য বলতে না পারলে’ চুপ থেকেছে, কিন্তু মিথ্যা বলেনি।

“আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। আমরা চেষ্টা করে গেছি, লড়াই করে গেছি। দুর্বৃত্ত শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াইটা অব্যাহত ছিল সবসময়।”

তিনি বলেন, “সমাজে যারা সমস্যা তৈরি করে এবং আইনের শাসনকে তোয়াক্কা করে না বা আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত হতে দিতে চায় না এদেশে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা আসলে কঠিন হয়ে গেছে দিনে দিনে। কারণ, আমরা এতটা সংখ্যালঘু হয়ে গেছি যে, লড়াই করাটা কঠিন হয়ে গেছে।

“ধীরে ধীরে, দীর্ঘ সময় ধরে আসলে তাদের সংখ্যা বেড়েছে। এ পক্ষে, আমাদের পক্ষে সংখ্যাটা কমেছে। যে কারণে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘দুর্বৃত্ত শ্রেণির’ বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর প্রত্যয় জানালেও, সেই লড়াই যে অত সহজ নয়- সে কথাও বলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

“সবচেয়ে খারাপ যেটা হয়, একেবারে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়। সেই অবস্থায় লড়াই করাটা কঠিন হয়ে যায়। মিথ্যেরতো একটা সীমা থাকা উচিত। সীমাহীন মিথ্যাচার যখন হয়, প্রচারণা যখন হয়, একটি শক্তিশালী যন্ত্র যখন কাজ করে কারও বিরুদ্ধে, তখনতো সমস্যা হয়।

“এরা এতটাই শক্তিশালী,… অর্থনৈতিক ক্ষমতার দিক থেকে, রাজনৈতিক ক্ষমতার দিক থেকে, আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর দিক থেকে- এদের ক্ষমতা অসীম, অন্তত এদেশে। সবসময় লড়াই কীভাবে করবেন?”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘দুর্বৃত্ত শ্রেণির’ হাতে একটি ‘সহজ’ অস্ত্র হল অর্থনৈতিক চাপ।

“সব সময় সরকার বা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো করে সেটা না, কখনো কখনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও করে। তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তারাও সমস্যা তৈরি করে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে অতিথি হয়ে এসেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।

তিনি বলেন, “বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এটা প্রথম। অনলাইন মাধ্যমের বিকাশের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে পাল্টেছে।

“দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সংবাদেরও যে উপস্থাপনা, পরিবেশনা এবং তাদের ভেতরের কনটেন্টের যে পরিব্তন হচ্ছে, তার সাথে খুব সজাগ সতর্ক রয়েছে বিডিনিউজ। এখন ব্রেকিং নিউজের চেয়েও মানুষ যে গভীরে কিছু জানতে চায়, অ্যানালাইসিস, অনুসন্ধান এবং গবেষণামূলক (বিষয় চায়), সেই কাজেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম চেষ্টা করছে, হাত দিয়েছে।”

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে যোগ দিতে এসে সাবেক সহকর্মী রাশেদ আহসান স্মরণ করলেন নতুন ধরনের সাংবাদিকতায় মানুষকে অভ্যস্ত করার পেছনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের কথা।

এক সময় এ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার (সেলস/মার্কেটিং) এবং পরে ম্যানেজার (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাশেদ বলেন, প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে অনেক প্রথমের জন্ম দিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, যা ১৭ বছরের এক ‘অসাধারণ যাত্রা’।

“ইন্টারনেট উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করা, সেটা ছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য চ্যালেঞ্জ। তারপরে আমরা মোবাইলে মানুষকে নিউজ সার্ভ করতে শুরু করি। ১৬০ ক্যারেক্টারের নিউজ দেওয়া, সেটাও নতুন অভিজ্ঞতা, লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ছিল। প্রকাশনা, নিউজ আউটলেট হিসেবে একটি যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান।”