Published : 15 May 2013, 03:07 AM
ঝড় মোকাবেলায় উপকূলের জেলাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মাঝারি মাত্রার এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ চার দিন ধরে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি টেকনাফ উপকূলের দিকে যেতে পারে। বিবিসি ও নামার আবহাওয়া বার্তায়ও একই আভাস দেয়া হয়েছে।
বিবিসি বলছে, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্ব উপকূল ভাগ ও মিয়ানমার অতিক্রম করতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সঙ্গে ৫ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
আর আবহাওয়া উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাসা বলছে, বৃহস্পতিবার ঝড়টি যখন চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে, তখন এর গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২৯ কিলোমিটার।
মহাসেনের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কায় সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিন হাজার মুনষ হয়েছে ঘরছাড়া। প্রবল ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবে শতাধিক লোকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথম দিকে ঝড়টির গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি ধরা না গেলেও এখন তা অনেকটা স্পষ্ট।
“চারটি বিষয় এখন সুস্পষ্ট হয়েছে। মহাসেন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে, এর ইনটেনসিটি (তীব্রতা) বাড়েনি, ইটস মুভিং স্লোলি, বুধবারের পরে বৃহস্পতিবার যে কোনো সময় তা উপকূল অতিক্রম করবে।”
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ঝড়টি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এর গতিপথ ভারতের উড়িষ্যা ঊপকূলের দিকে।
দিক পরিবর্তন না করলে মহাসেন বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে এরপরই ঘূর্ণিঝড়টি দিক বদলায় বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান করছিলো ঘূর্ণিঝড়টি। বেলা ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এগোয় ১০/১২ কিলোমিটার। আর সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে ৪০ কিলোমিটারের মতো পথ পাড়ি দিয়েছে মহাসেন।

ঝড়টি মাঝারি মাত্রার বলে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হলেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উপকূলের চার-পাঁচশ’ কিলোমটারের মধ্যে এলে এর তীব্রতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
বুধবার সকাল ৬টায় ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে আগের মতোই চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম জানান, ঝড়টি কাছাকাছি আসার পর গতিপ্রকৃতি দেখে সতর্কতা সঙ্কেত বাড়ানো হবে।
“আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলছি। আতঙ্কিত না হয়ে জানমাল রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে,” বলেন তিনি।
উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।