Published : 01 Dec 2024, 07:55 PM
সংবাদমাধ্যমে জেন্ডার সমতা, ন্যায্যতা, মর্যাদা ও সংবেদনশীলতা প্রতিষ্ঠার‘জেন্ডার-বিষয়ক অঙ্গীকার সনদ’ প্রকাশ করেছে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ- এমআরডিআই।
রোববার রাজধানীতে এই অঙ্গীকার সনদ প্রকাশ অনুষ্ঠানে আলোচকরা সংবাদমাধ্যমে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস অনুষ্ঠানে বলেন, “মিডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল সমাজের বিভিন্ন দিককে প্রতিফলিত করা। গণতন্ত্রের জন্য নারী ও পুরুষকে সমানভাবে চিত্রিত করা অত্যাবশ্যক।
“গণতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমের নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘সংবাদমাধ্যমের জন্য জেন্ডার-বিষয়ক অঙ্গীকার সনদ’ প্রণয়নে এমআরডিআইয়ের উদ্যোগে সাংবাদিকতার শিক্ষক, সংবাদমাধ্যমের সিদ্ধান্তগ্রহীতা, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং জেন্ডার ও আইন-বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১০ জনের একটি দল গঠন করা হয়।
সেই দল ১১টি বৈঠকের মাধ্যমে সনদটি তৈরির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ এবং প্রতিটি স্তরে পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সনদ প্রণয়নের জন্য কাজ করে। সনদ প্রণয়নে ১৫টি দলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে রাজধানী ও জেলা পর্যায় থেকে ১২৯ জন অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়।
জেন্ডার চার্টার্ড ওয়ার্কিং গ্রুপ জানিয়েছে, মোট ২০টি সংবাদ মাধ্যম জেন্ডার-বিষয়ক অঙ্গীকার সনদে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া আরও দুটি টিভি স্টেশন এ অঙ্গীকার সনদে স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং জেন্ডার চার্টার ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান গীতি আরা নাসরিন বলেন, “বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের মধ্যে এবং পরিবেশিত সংবাদে নারী, পুরুষ ও অন্যান্য জেন্ডারের উপস্থিতির ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
“সে লক্ষ্যে সংবাদমাধ্যমের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীলতা বিষয়ে একটি অঙ্গীকার সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সনদ সংবাদ প্রতিষ্ঠানে এবং তাদের পরিবেশিত সংবাদে সব জেন্ডারের উপস্থিতি, অংশগ্রহণ এবং সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে তাদের অঙ্গীকারবদ্ধ করবে।”
এ সনদে বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিক ঐকতানের মধ্যে বিবেচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে গীতি আরা নাসরিন বলেন, “বৈচিত্র্যময় কর্মে নারীর অংশগ্রহণ থাকলেও সংবাদমাধ্যমে নারী অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। সংবাদমাধ্যমে সব জেন্ডারের মতামত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে, যদিও অনেক সংবাদমাধ্যমে তা নেই। অথচ সংবাদমাধ্যম স্বচ্ছতা বিষয়টি বেশি দাবি করে।
“শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়। সচেতনতার জন্য আইনগত ঝুঁকি থেকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাই যেন মুক্ত থাকেন, সেজন্যই এ সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।”
গণমাধ্যম সংস্কার বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, “সংবাদমাধ্যম সংস্কারের জন্য আমি বলছি কম শুনছি, পড়ছি, জানার চেষ্টা করছি বেশি। আর যাতে কোনো সংবাদমাধ্যম অফিস পুড়িয়ে দেওয়া না হয় সেজন্য কী করা যায় সেটা নিয়ে একটা নীতিগত অবস্থান তৈরি করতে হবে।
“বাংলাদেশ বেতার সংস্কারের জন্য একটা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশনের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৮৩ সালে প্রেস কমিশন গঠিত হয়েছিল। সেটারও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। কোনো কিছুই সংবাদমাধ্যমে চাপিয়ে দিলে হবে না। সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে এ সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “নতুন কোনো সংবাদমাধ্যম আসার পর তাদের কর্মীদের জেন্ডার-বিষয়ক অঙ্গীকার সনদ ও জেন্ডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত পিআইবি। গণমাধ্যমে কাউকে একক ক্ষমতাবান করা উচিত নয়।”
গণমাধ্যমে কর্মীদের স্বার্থে একদিন নয়, দু’দিন ছুটি চালু করা উচিত বলে তিনি মত দেন।
এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুরের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাশরুরুজ্জামান রনি, যশোর থেকে প্রকাশিত লোক সমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, যশোরের গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হাসান মিল্লাত, মানবাধিকার কর্মী হোচি মিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।