Published : 29 Jun 2026, 09:47 PM
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা প্রত্যাহারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন-সিজেএ।
গত রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বাংলাদেশে চার সাংবাদিককে কারাবন্দি রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা হলেন সিজেএ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং একাত্তর টিভির মোজাম্মেল হক বাবু, ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদ।
সংগঠনটি বলছে, মঙ্গলবার শ্যামল দত্তকে বাংলাদেশের হাই কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সিজেএর বিশ্বাস, সাংবাদিকতার প্রতিশোধ হিসেবেই শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বাংলাদেশ সরকারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান করছি। আমরা এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনার দাবি জানাই।”
যেসব মামলায় ‘বিশ্বাসযোগ্য’ কোনো প্রমাণ নেই, সেগুলো প্রত্যাহার করে চার সাংবাদিককে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
চার সাংবাদিক গত ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছেন; অথচা প্রায় ৬০০ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজেএ বলেছে, “চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে জনসম্মুখে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী আটকাবস্থা আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দেয়।”
চার সাংবাদিকের এই আটকাবস্থা প্রমাণিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেয়ে ‘রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ধারণার’ দ্বারা প্রভাবিত বলেও মনে করছে সিজেএ।
সংগঠনটি বলছে, “রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা পেশাগত সংগঠনের ভিত্তিতে সাংবাদিকতাকে কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।”
চার সাংবাদিকের বন্দিদশার মানবিক দিকগুলো নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, “শ্যামল দত্ত হৃদরোগ এবং গুরুতর ‘স্লিপ অ্যাপোনিয়া’ সমস্যায় ভুগছেন। এর জন্য তার সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন প্রয়োজন। অন্যদিকে মোজাম্মেল বাবু ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য একটি বড় অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
“একইভাবে ফারজানা রূপাকে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখার খবর হেফাজতে থাকাকালে তার প্রতি আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।”
বিবৃতিতে সিজেএ জোর দিয়ে বলছে, “প্রতিটি সাংবাদিকের সম্পাদকীয় অবস্থান বা রাজনৈতিক মত যাই হোক না কেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক আচরণ এবং আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার যেন সুনির্দিষ্টভাবে, স্বচ্ছভাবে এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করা হয়, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”