১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাকের ভেতরে টনটনে ব্রণ নিরাময়ের পন্থা

ভুলেও ব্রণ গলানো যাবে না।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 06:07 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

মুখের ত্বক বা পিঠে ব্রণ হওয়া সাধারণ ও বিরক্তিকর সমস্যা হলেও, নাকের ভেতরে কোনো ব্রণের উপস্থিতি অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নাকের ভেতরের এই ধরনের ফোলা বা ব্রণ যন্ত্রণাদায়ক এবং টনটনে ব্যথার সৃষ্টি করে। বড় সমস্যা হল, মুখের সাধারণ ব্রণের মতো এখানে কোনো ‘একনি প্যাচ’ বা ‘স্পট ট্রিটমেন্টের’ মলম সহজে ব্যবহার করা যায় না।

নাকের ভেতরে ব্যথাময় ফোলার কারণ কী?

সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতিমা ফাহস বলেন, নাকের ভেতরের লোমকূপগুলো যখন অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি এবং মৃত কোষের কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাধারণ ব্রণ বা ‘জিট’ তৈরি হয়। তবে সব ফোলাই সাধারণ ব্রণ নয়।”

ইনগ্রোন হেয়ার: যারা নাকের ভেতরের বাড়তি লোম টুইজার দিয়ে টেনে উপড়ে ফেলেন, তাদের ক্ষেত্রে লোম কাণ্ডের গোড়াটি অসমভাবে ভেঙে ত্বকের নিচে বেঁকে যায় এবং সেখানে পুঁজ জমে ছোট ফোলার সৃষ্টি করে।

ফলিকুলাইটিস: ঘন ঘন নাক ঝাড়া বা আঙুল দিয়ে নাক চুলকানোর কারণে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া লোমকূপে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ন্যাজাল ভেস্টিবুলাইটিস ফুরুনকুলোসিস’ বলা হয়, যা সাধারণ ব্রণের চেয়ে অনেক বেশি লাল ও শক্ত হয়ে ফুলে ওঠে।

নাকের ভেতরের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া নিয়ম

যদি জটিল সংক্রমণ না হয়ে থাকে, তবে এই ব্রণ সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ভালো হয়ে যায়।

এই সময়ে ব্যথা কমাতে ৫টি কার্যকর উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।

নাকের বাইরে গরম সেঁক দেওয়া

অনেকেই সরাসরি নাকের ছিদ্রে গরম কাপড় বা তুলা ঢোকানোর চেষ্টা করেন, যা ভেতরের পাতলা ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে।

ডা. ফাহস নাকের বাইরে গরম সেঁক দেওয়ার পরামর্শ দেন।

একটি পরিষ্কার সুতি কাপড়, কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে নাকের বাইরের ত্বকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চেপে ধরে রাখা উপকারী।

এই গরমের তাপে ভেতরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ভেতরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন দ্রুত কমে আসে।

স্যালাইন ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার রাখা

নাকের ভেতরটি জীবাণুমুক্ত রাখা সবচেয়ে জরুরি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ওশান স্কিন অ্যান্ড ভেইন ইনস্টিটিউট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. দিব্যা শোকিন একই প্রতিবেদনে, প্রতিদিন দুবার স্যালাইন ওয়াশ বা নাকের ড্রপ দিয়ে নাকের ভেতরটি পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন।

স্যালাইনের হালকা লবণাক্ত উপাদান প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ক্ষত স্থানকে প্রশান্তি দেয়।

ওষুধের দোকান থেকে কেনা উপাদান দিয়ে চিকিৎসা না করা

মুখের ব্রণে ব্যবহৃত স্যালিসিলিক অ্যাসিড, বেনজাইল পারক্সাইড বা টি-ট্রি অয়েলের মতো কড়া কেমিক্যালগুলো ভুলেও নাকের ভেতর ব্যবহার করা যাবে না।

নাকের ভেতরের ‘মিউকোসাল ত্বক’ সংবেদনশীল হওয়ায় এই উপাদানগুলো তীব্র জ্বালাপোড়া তৈরি করে। আর অসাবধানতাবশত কেমিক্যাল ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভুলেও ব্রণ গলানো যাবে না

নাকের চারপাশের অঞ্চলটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গেল’ বলা হয়। এই অংশের রক্তনালীগুলো সরাসরি মস্তিস্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

“তাই নাকের ভেতরের কোনো ব্রণ বা ফোঁড়া হাত দিয়ে জোরে চেপে গালালে, সেই সংক্রামিত পুঁজ সরাসরি মস্তিষ্কের রক্তনালীতে গিয়ে ‘স্ট্রোক’ বা ‘ক্যাভারনাস সাইনাস থ্রম্বোসিস’-এর মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পার”, বলেন ডা. ডা. দিব্যা শোকিন।

ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যথানাশক ওষুধ

যদি ব্রণের কারণে হাসতে, কথা বলতে বা হাঁচি দেওয়ার সময় তীব্র টনটনে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িক আরাম দিতে পারে।

সতর্কতা

যদি নাকের ভেতরের ফোলা দ্রুত বড় হতে থাকে, বাইরের চামড়া লাল হয়ে যায় কিংবা তীব্র জ্বর আসে, তবে ঘরে বসে চিকিৎসা না করে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

এক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ বা লোশন দিয়ে থাকেন যা দ্রুত এই রোগ নিরাময় করে।

আরও পড়ুন

ব্রণ খোঁটা কি ভালো?

চল্লিশের পর গলায় ব্রণ ওঠার কারণ

যেভাবে বুঝবেন ব্যাকটেরিয়া নাকি হরমোনের কারণে ব্রণ হচ্ছে