১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মেইকআপের নতুন ধারা ‘হাইব্রিড বিউটি’ ও ‘পুলসাইড স্কিন’

কড়া ফাউন্ডেশন নয়, বরং প্রাকৃতিকভাবে সতেজ রূপ পাওয়াই চলতি মেইকআপ ধারা।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2026, 05:39 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

কড়া ‘কেক-সদৃশ’ মেইকআপ, কয়েক স্তরের ভারী ফাউন্ডেশন বা মুখের দাগ পুরোপুরি ঢেকে ফেলার ম্যাট ফিনিশিংয়ের দিন এখন ফুরিয়ে এসেছে। রূপচর্চা এবং কসমেটিকস দুনিয়ায় এখন চলছে পরিবর্তন।

বর্তমানের মূল মন্ত্র হল, ত্বকের আসল গঠন বা রূপ লুকিয়ে ফেলা নয়, বরং প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে যতটা সম্ভব সতেজ, প্রাণবন্ত এবং উজ্জ্বল দেখানো।

এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে ‘হাইব্রিড মেইকআপ’ এবং ‘পুলসাইড স্কিন’-এর ধারণা।

সহজ কথায়, ‘হাইব্রিড মেইকআপ’ হল, ত্বকের যত্ন এবং প্রসাধানীর জাদুকরী সংমিশ্রণ। এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া রূপটি দেখে মনে হবে, এই মাত্র কেউ সুইমিং পুল বা গোসল থেকে সতেজ হয়ে উঠে এসেছেন, সেটিকে রূপচর্চার পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘পুলসাইড স্কিন’।

নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চর্মরোগবিদ্যার সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেনিস কুইন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গ্রাহকেরা এখন এমন পণ্য চান, যা শুধু মুখের খুঁত ঢাকবে না, বরং ভেতরে থেকেও ত্বকের চিকিৎসা করবে। হাইব্রিড কসমেটিকস এই চাহিদাই পূরণ করছে।”

ডা. জেনিসের পরামর্শ-সহ অন্যান্য মেইকআপ শিল্পীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, নতুন ধারারটি মূল বৈশিষ্ট্য এবং ঘরে বসে এই ‘লুক’ বা সাজ পাওয়ার সহজ উপায়গুলো নিচে দেওয়া হল।

মেইকআপের মোড়কে ত্বকের যত্ন

সেলিব্রিটি মেইকআপ আর্টিস্ট এবং বিউটি কনসালট্যান্ট মারিও দেদিভানোভিচ, একই প্রতিবেদনে বলেন, “হাইব্রিড মেইকআপের সুবিধা হল, এর ভেতরেই নিয়াসিনামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন-সি এবং এসপিএফ-এর মতো শক্তিশালী ত্বক পরিচর্যার উপাদান মেশানো থাকে। ফলে আলাদা করে সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগানোর ঝামেলা থাকে না।”

এই প্রসাধনীগুলো ত্বকে কোনো কৃত্রিম স্তর তৈরি করে না, বরং ভেতর থেকে আর্দ্র করে।

তরল ও ক্রিম-ধর্মী পণ্যের রাজত্ব

‘পুলসাইড স্কিন’ বা প্রাকৃতিকভাবে ভেজা ও সতেজ লুক পাওয়ার জন্য পাউডার ধরনের মেইকআপ পুরোপুরি বর্জন করা উপকারী। এর বদলে তরল বা ক্রিম ব্লাশ, ক্রিম ব্রোঞ্জার এবং হাইলাইটার ব্যবহার করা উচিত।

এগুলো ত্বকের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশে গিয়ে এক ধরনের প্রাকৃতিক তরল উজ্জ্বলতা এনে দেয়, যা দেখতে মোটেও কৃত্রিম মনে হয় না।

কনসিলারের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার

পুরো মুখে ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে কেবল চোখের নিচে, নাকের পাশে কিংবা মুখের নির্দিষ্ট কিছু কালো দাগ ঢাকতে সামান্য কনসিলার ব্যবহার করা এই ধারার প্রধান কৌশল।

মেইকআপ শিল্পীদের মতে, এতে পুরো মুখের ত্বক শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায় এবং দেখতে একদম ‘নো-মেকআপ’ লুক মনে হয়।

গ্লসি লিপস

ঠোঁটের ক্ষেত্রে ম্যাট বা শুষ্ক লিপস্টিকের বদলে, বর্তমানে ‘টিন্টেড লিপ অয়েল’ বা ‘লিপ গ্লস’-এর চল উঠেছে। আর মেইকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে ম্যাট সেটিং স্প্রের পরিবর্তে একটি ‘ডিউই হাইড্রেটিং মিস্ট’ বা ‘ফিক্সার’ পুরো মুখে স্প্রে করা উপকারী, যা ‘পুলসাইড স্কিন’-এর ভেজা ভাবটিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখে।

পরামর্শ

ডা. জেনিস কুইন সতর্ক করে বলেন, “হাইব্রিড মেইকআপে, ত্বক পরিচর্যার উপাদান থাকলেও দিনশেষে এটি মেইকআপেরই একটি অংশ। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ‘ডাবল ক্লিনজিং’ পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি।”

না হলে, ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

ত্বকের ভেতরের রং না চিনলে মেইকআপেও লাগতে পারে ম্লান

ফাউন্ডেশন আগে, নাকি কনসিলার?

মেইকআপ ছাড়া সুন্দর দেখানোর উপায়