প্রাক্তনের বিয়ে: কী করবেন দাওয়াতপত্র হাতে পেলে?
প্রাক্তন সঙ্গীর বিয়ের দাওয়াত পেলে মনে অদ্ভুত অনুভূতি হতেই পারে।
কেউ কেউ ভাবেন, ‘কী দরকার!’ আবার অনেকের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর একটাই— ‘প্রশ্নই আসে না!’ তবুও বাস্তবে এই প্রশ্নটা কারও কারও জীবনে একবার হলেও আসতে পারে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করে মানসিক প্রস্তুতির ওপর। যদি এখনও মনে কষ্ট, বিদ্বেষ বা ঈর্ষা থাকে, তাহলে যাওয়াটা মানসিক জটিলতা বাড়াতে পারে। বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে দূর থেকে শুভেচ্ছা জানানো বা উপহার পাঠানোই ভালো।”
কেন এই সিদ্ধান্ত এত কঠিন হয়?
সম্পর্ক যত দিনেরই হোক না কেন, ভাঙার পরও মনে একটা অদৃশ্য সূত্র থেকে যায়। প্রাক্তনের বিয়ের খবর শুনলে অনেকের মনে পুরোনো স্মৃতি, আনন্দ, কষ্ট বা অপূর্ণতা একসঙ্গে ভিড় করে। কেউ কেউ ভাবেন, ‘আমি গেলে সে কেমন অনুভব করবে?’ আবার কেউ ভাবেন, ‘আমি না গেলে সমাজ কী বলবে?’
“সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয় যদি বর্তমান সঙ্গী থাকে, তাকে নিয়ে। তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন নাকি একা যাবেন? তিনি কেমন অনুভব করবেন?”- মন্তব্য করেন ডা. দিনা।
যখন যাওয়া উচিত নয়
“যদি বিচ্ছেদের পর এখনও মনে ক্ষোভ, ঈর্ষা বা অসমাপ্ত অনুভূতি থাকে, তাহলে প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট হবে, বর্তমান সম্পর্কে চাপ পড়বে এবং অনেক সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে”- পরামর্শ দেন এই মনোবিদ।
তিনি আরও বলেন, “যদি প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়ার চিন্তায় আপনার মনে অস্বস্তি, দুঃখ বা রাগ জাগে, তাহলে না যাওয়াই মঙ্গল। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।”
যখন যাওয়া যেতে পারে
সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে, উভয় পক্ষ এখন শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং বর্তমান সঙ্গী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন—এমন ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যাওয়া যেতে পারে। তবে সীমা মেনে চলুন। অতিরিক্ত সময় থাকবেন না, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করবেন না এবং বর্তমান সঙ্গীকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।
বর্তমান সঙ্গীকে নিয়ে যাবেন কি?
“এটি সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। যদি বর্তমান সঙ্গী থাকে, আর তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিলে এবং নিজেকে নিরাপদ বোধ করেন, তাহলে তাকে সঙ্গে নিতে পারেন। তবে যদি তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন বা মনে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে তাকে না নিয়ে যাওয়াই ভালো” বলেন ডা. দিনা।
সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন
“প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া বা না যাওয়া শুধু একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রশ্ন নয়। এটি আপনার মানসিক শান্তি, বর্তমান সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং নিজের আত্মসম্মানের প্রশ্ন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন— এতে আমার ও আমার বর্তমান সঙ্গীর মঙ্গল হবে কি-না? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে দূর থেকে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন”- বলেন ডা. ফারজানা রহমান।
আরও পড়ুন
