অখণ্ড অবসরও হতে পারে বিরক্তিকর

সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলেও এক সময় ক্লান্ত লাগতে শুরু করবে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 10:27 AM
Updated : 19 Sept 2022, 10:27 AM

জীবনে অতিরিক্ত ফাঁকিবাজি করলেও সুখে থাকা হবে না।

সারাদিন নানান কাজের সময় বের করতে গিয়ে হয়ত মনে হয় ২৪ ঘণ্টা নয় আরও লম্বা দিন প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস’য়ের ‘সোসাল সাইকোলজিস্ট অ্যান্ড বিহেভিওরাল সাইন্স’য়ের অধ্যাপক কেসি হোম্স নিজেও এমনটা অনুভব করেছেন।

এর প্রেক্ষিতে তার মনে প্রশ্ন জাগে, ‘দিনের মধ্যে আরও বেশি অবসর সময় পেলে আমরা কী আরও সুখী হতে পারবো?’

ব্যস, গবেষণা শুরু হল হাজারও মার্কিন নাগরিকের জীবনযাত্রা নিয়ে। তারা দিনে কতক্ষণ কাজ করেন এবং জীবনে তারা কতটুকু সন্তুষ্ট তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

সিএনবিসি ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হোম্স বলেন, “প্রথমে আমরা বের করি একজন মানুষ দিনে কতটুকু অবসর পায় সেই হিসাব। এরপর সেই অবসরটুকু তার জীবনে কতটুকু সন্তুষ্টি আনে সেটা পরীক্ষা করা হয়। আমরা দেখি, একজন মানুষ দিনে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা অবসর পেলে তার জীবনে সন্তুষ্টি, তৃপ্তির মাত্রা বেড়েছে। এর কম কিংবা বেশি অবসর সময় জীবনে বাড়িয়েছে হতাশা।”

তিনি আরও বলেন, “গবেষণার এই তথ্য নিজের জীবনে প্রয়োগ করে দেখেছি। আমি একদিনে যা করতে চাই বা করতেই হবে সেই তুলনায় আমার হাতে সময় কম। পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ একই পরিস্থিতিতে আছে। এই পরিস্থিতি মানুষকে হতাশাগ্রস্ত করে, বাড়ায় মানসিক চাপ, মানসিক অবসাদ।”

“অপরদিকে, দিনে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি অবসর সময়ও মানুষকে একই পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। কারণ এতটা অবসর জীবনকে লক্ষ্যহীন করে দেয়। জীবনে একটা লক্ষ্য থাকার জন্য আপনি যা করে সময় পার করছেন তা থেকে পয়সা যে আসতেই হবে তা কিন্তু জরুরি নয়। তাই বিনা পয়সায় সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেও যদি সময় কাটান, তবে ওই মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।”

হোম্স আরও বলেন, “দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টার যে অবসর আপনি পেলেন সেখানে আপনি কী করছেন সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিনে আমাদের হাতে আছে ২৪ ঘণ্টা। তবে এই সময়টা পার হওয়ার অনুভূতি সবার জন্য এক নয়। আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে তবে ২৪ ঘণ্টাকে স্বাভাবিক সময়ের মতোই মনে হবে। যদি সময় কম থাকে তাহলে মনে হবে সময় দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। এভাবে সময় ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে দেড় ঘণ্টা অবসরেও আপনি দুই ঘণ্টার অবসরের তৃপ্তির স্বাদ পেতে পারেন।”

সেই উপায়ও জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

শারীরিক পরিশ্রম: সুস্থ শরীর ও প্রাণবন্ত মনের জন্য শরীরচর্চার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে অসংখ্যবার।

হোম্স বলেন, “এই সপ্তাহে কয়েকটি দিন আধা ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ রাখুন শরীরচর্চার জন্য। সেটা ভারি কোনো ব্যায়াম হওয়ার প্রয়োজন নেই, হাঁটাহাঁটিই করুন। সেটা করার পর আপনি কেমন অনুভব করছেন সেটা একটা ডাইরিতে লিখুন। এর ফলে উপকার যেটা হবে তা হল- এরপর যখনই আপনার মনে হবে শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই। তখনই আপনার মনে এই অনুভূতির কথা জাগবে আর সেটাই আপনাকে শরীরচর্চার অনুপ্রেরণা যোগাবে।”

মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ: অন্যদের সময় দেওয়ার মাধ্যমে নিজের অবরস সময়টাকে বেশি মনে হয়, এমনটা দাবি করেন হোম্স।

তিনি বলেন, “এই সপ্তাহের দুটি সহানুভূতিশীল কাজ করুন। যেমন- অসহায় কাউকে খাবার খাওয়ান, সহকর্মীকে কোনো কাজে সাহায্য করুন, পরিবারের কাউকে ভালো কোনো জায়গায় খেতে নিয়ে যান, বন্ধুকে ভালো কিছু উপহার দিন। যেটাই করুন না কেনো আপনার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে ওই মানুষটাকে সাহায্য করা, আর কিছুই না। বিনিময়ে কিছু আশা করা যাবে না।”

মুগ্ধ হন: “ব্যস্ততা কমাতে জীবনের কোনো মনমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর”, বলেন হোম্স।

তার কথায়, “আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মুগ্ধতার এই অভিজ্ঞতা জীবনের সুখের স্মৃতিগুলোর থেকেও শক্তিশালী। এজন্য মনমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা তৈরি করতে হবে। আর সেটার জন্য মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। সেখান থেকে আসতে পারে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, জ্ঞানগর্ভ কোনো আলোচনা, কোনো শিশুর সঙ্গে কাটানো মুহুর্ত। এই সবগুলোও আপনার জীবনের একটা মনমুগ্ধকর ঘটনা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে।”

সপ্তাহে অন্তত একবার করে দেখুন: “প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ানো এক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনার জায়গা।

হোম্স বলেন, “আমার জন্য সমুদ্র হলো মুগ্ধতার উৎস। তবে আপনার জন্য সেটা হতে পারে পাহাড়, নদী, অরণ্য- যেকোনো কিছুই। এমনকি নিজের আশপাশের এলাকায়, পার্কে বেড়িয়েও মুগ্ধতার সন্ধান পেতে পারেন। ভোরের সূর্যদয় দেখাও একটা দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শিল্পের চর্চাও আপনাকে তৃপ্তি দিতে পারে। কারও জীবনের বড় কিছু অর্জন করার গল্পগুলোও আপনাকে মুগ্ধতা যোগাতে পারে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আপনার জীবনে স্থিরতা আনবে, ফলে মানসিক চাপ কমবে।

কিংবা কারও সফলতা পর্যবেক্ষণ করাও সাংঘাতিক অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে। যেমন-- কোনো খেলোয়াড়ের ক্রিড়া কৌশল খুলে দিতে পারে জীবনের সাফল্য বয়ে আনার প্রবল ইচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক