সারাদিন শান্ত ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
কর্মব্যস্ত দিনে মানসিক চাপ দূর করুন মাত্র ১০ সেকেন্ডে।
আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক জীবনে প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার ইঁদুরদৌড়ে বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের অবচেতন মনে এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটোপাইলট’ মেজাজে জীবনযাপন করেন।
দিনের পর দিন শরীরের ক্লান্তি ও মনের সংকেতকে অবহেলা করে ক্রমাগত কাজ করে যাওয়ার এই প্রবণতা, মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েলসিম্পল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে থেরাপিস্টরা জানিয়েছেন, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে বাঁচতে অনেকেই মনে করেন পুরো এক ঘণ্টা সময়, থেরাপিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দীর্ঘ ছুটির প্রয়োজন।
তবে সারাদিনের পুঞ্জীভূত মানসিক চাপ জমে, সম্পর্কের অবক্ষয় বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর আগেই সহজ ও মাত্র ১০ সেকেন্ডের কিছু মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে মনকে শান্ত করা সম্ভব।
কানাডার মনোবিদ এবং ‘নুমিয়া হিলিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্যারোলিনা কোরেয়া প্রতিবেদনে বলেন, সারাদিন শান্ত থাকার জন্য কার্যকর ও শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হল, একটি ‘গ্রাউন্ডিং ব্রেথ’ বা মনকে শান্ত করার শ্বাসক্রিয়া এবং এর সঙ্গে একটি দৈনিক ‘মন্ত্র’ বা ইতিবাচক বাক্যাংশের সংমিশ্রণ।”
এই কৌশলের বৈজ্ঞানিক হল— প্রথমে একটি দীর্ঘ ও ধীর শ্বাস ভেতরে নিতে হবে, এরপর শ্বাস নেওয়ার চেয়েও দীর্ঘ সময় নিয়ে সেটি মুখ দিয়ে বাইরে ছাড়তে হবে।
শ্বাস ছাড়ার সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে মনে মনে অত্যন্ত শান্তভাবে একটি ছোট বাক্য বা মন্ত্র তিনবার পুনরাবৃত্তি করতে হবে, যা হল- ‘আমি এখানে আছি। আমি নিরাপদ। আমি শিথিল হতে পারি’।
ক্যারোলিনা কোরেয়ার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘আমি এখানে আছি’ বাক্যটি মনকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনে, ‘আমি নিরাপদ’ বাক্যটি শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত হওয়ার সংকেত দেয় এবং ‘আমি শিথিল হতে পারি’ বাক্যটি অবচেতন মনকে নিজের ভেতরের সব চাপ বা ‘বাউন্ডারি’ ছেড়ে দেওয়ার মানসিক অনুমতি দেয়।
এই কৌশলটির ব্যবহারিক সুবিধা হল, এটি চর্চা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শান্ত ঘর, অ্যাপ বা ধ্যান করার ম্যাটের প্রয়োজন নেই; ফলে অফিসের মিটিংয়ে, ট্রাফিক জ্যামে বা কারও সঙ্গে তর্কাতর্কির ঠিক মধ্যবর্তী সময়েও এটি অনায়াসে করা যায়। আর সেটা চারপাশের কেউ বুঝতেই পারবে না।
মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আনা এলিটজুর, এর সঙ্গে যুক্ত করে আরেকটি কৌশলের কথা বলেন। সেটি হল ‘সেল্ফ-রিফ্লেকশন’ বা আত্ম-পর্যালোচনা।
মানুষের শরীর ও মন প্রতিনিয়ত স্ট্রেস বা চাপের সংকেত পাঠায়; যেমন— বিকেলের দিকে চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া বা মানসিক চাপের কারণে একই ইমেইল বারবার পড়া।
ডা. এলিটজুর-এর মতে, “কঠিন মুহূর্তে কোনও তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে বা ‘পজ’ নিয়ে এই শ্বাসক্রিয়া ও মন্ত্রের চর্চা করলে, মস্তিষ্ককে একটি সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সাহায্য করে।”
ফলে পরবর্তী সময়ে আফসোস বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
