‘ফ্লু’ থেকে রক্ষা পেতে

উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন থেকে চার দিন পর সংক্রমণ বা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Dec 2022, 07:52 AM
Updated : 4 Dec 2022, 07:52 AM

সর্দি-জ্বর, গলাব্যথার এই মৌসুমে সাবধান থাকতে জানতে হবে কিছু বিষয়।

‘ইনফ্লুয়েঞ্জা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্দি-জ্বরে বা ‘ফ্লু’তে ভোগার এই শীত মৌসুমে একটু সাবধান না থাকলেই নয়। কারণ এই ভাইরাস দ্রুত আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে অন্যের মাঝে দ্রুত ছড়াতে পারে।

তাছাড়া এই বছর ‘ফ্লু’তে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার মাত্রাও বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার পামোনা ভ্যালি হসপিটাল মেডিকাল সেন্টার’য়ের ‘মেডিকাল ডিরেক্টর অফ ইনফেকসাশ ডিজিজ’ জন মোরানি।

ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ইনফ্লুয়েঞ্জা’র প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর এই রোগের এত বেশি দেখা দেয়নি, তাই বিষয়টা শঙ্কার।”

ফ্লু’ থেকেও প্রাণ হারায় মানুষ, তবে মাত্রাটা বছরভেদে ভিন্ন

ডা. মোরানি বলেন, “প্রতি বছর বিশ্ব জনসংখ্যার তিন থেকে ১১ শতাংশ ইনফ্লুয়েঞ্জা’তে আক্রান্ত হয়। তবে তা থেকে মৃত্যুর হার একেক বছরে একেক রকম।”

ছড়ানোর ক্ষমতা কখন বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘কার্বন হেল্থ অ্যান্ড সেইন্ট ম্যারি হসপিটাল’য়ের ‘আর্জেন্ট মেডিকাল ডিরেক্টর অ্যান্ড ফিজিশিয়ান’ ডা. বেয়ো কারি-উইনশেল বলেন,, “রোগীর উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন থেকে চার দিন পর রোগীর কাছ থেকে অন্য সুস্থ মানুষের মাঝে রোগের ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ থাকে সবচাইতে বেশি। এসময় ভাইরাস না ছড়ানোর সবচাইতে কার্যকর উপায় হল ঘরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।”

ডা মোরানি বলেন, “উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন থেকে চার দিন পর সংক্রমণ বা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে। তবে কম মাত্রায় হলেও ভাইরাস ছড়াতে থাকে আক্রান্ত হওয়ার পরদিন থেকেই। চলতে থাকে আক্রান্ত হওয়ার সাত দিন পর পর্যন্ত।”

কাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি

ডা. মোরানি বলেন, “বয়স ৬৫’র বেশি এবং বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধিতে যারা আক্রান্ত তাদের মৌসুমী রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি। সেই সঙ্গে গর্ভবতী নারী ও পাঁচ বছরের নিচে বয়স এমন শিশুদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সুরক্ষিত থাকার জন্য আদর্শ উপায় হল টিকা নেওয়া।”

ফ্লু দ্রুত ছড়ানোর কারণ

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক স্বাস্থ্য-সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিয়ারিং’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান চিকিৎসক ডা. জেকব হাসকালোভিসি বলেন, “ফ্লু’ দ্রুত ছড়ানোর প্রধান কারণ হলো, এটি একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস থেকে হয় না। অনেকগুলো ভাইরাসের অনেকগুলো ধরন, সবগুলোই এই রোগ ডেকে আনতে পারে।”

এই ভাইরাসগুলোর বৈশিষ্ট্যও বদলায় দ্রুত। ফলে একটি নির্দিষ্ট টিকা দিয়ে লম্বা সময় সুরক্ষিত থাকা যায় না। তারপরও টিকা নেওয়া জরুরি। কারণ নতুন ধরনগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে না পারলেও পুরানো ধরনগুলো থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে।

ফ্লু’র উপসর্গ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনালএসওএস’য়ের আঞ্চলিক মেডিকেল অফিসার ডা. মার্ক ফিশার বলেন, “মৌসুমী এই রোগগুলোর প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর, কাঁপুনি, গায়ে ব্যথা, কাশি, গলা ব্যথা, অবসাদ, মাথাব্যথা ইত্যাদি। সাধারণত এই উপসর্গগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই সেরে যায়।”

তবে কিছু মানুষের এই রোগের জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। যে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন- শ্বাস নিতে সমস্যা, বুকে ব্যথা, প্রচণ্ড পানিশূন্যতা, পেশিতে অসহনীয় ব্যথা।

ডা. জেকব হাসকালোভিসি বলেন, “বেশিরভাগ সময়ই ফ্লু হঠাৎ করেই আক্রমণ করে। একসঙ্গে অনেকগুলো সমস্যা বা উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণ উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দিলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে মাথা ঘোরানো, শরীর ব্যথা, অবসাদ, কোনো দূরারোগ্য ব্যধির উপসর্গগুলো হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।”

আরও পড়ুন

Also Read: ‘ফ্লু’ হওয়ার কারণ ও করণীয়

Also Read: যেভাবে বুঝবেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে