অল্প খেয়েও রক্তে শর্করা বাড়ার কারণ
কম খেয়েও কমছে না ডায়াবেটিস? কারণ থাকতে পারে ৪টি।
অনেকে মনে করেন, কম খাবার বা কম কার্বোহাইড্রেইট খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকবে। তবে সব সময় সেটা হয় না।
খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পরও কিছু কারণে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।
ওষুধ বা ইনসুলিনের সমস্যা
যাদের ডায়াবেটিস আছে, সেটা নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হয় না, ওষুধ বা ইনসুলিনও সঠিকভাবে নিতে হয়। ওষুধের মাত্রা ঠিক না হলে বা সঠিক সময়ে না নিলে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।
কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন, কোনো ওষুধ খাবারের আগে নেওয়ার কথা থাকলে সেটা খাবারের পরে নিলে কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজ নাও করতে পারে।
তাই খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পরও রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ বা ইনসুলিনের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ইনসুলিন প্রতিরোধ
টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও প্রিডায়াবেটিসে ইনসুলিন প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাধারণত ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, যাতে শরীর সেটা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
তবে ইনসুলিন প্রতিরোধ হলে, শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি ঠিকভাবে সাড়া দেয় না। ফলে রক্তের গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করতে পারে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
এ কারণে শুধু খাবারের পরিমাণ কমালেই সব সময় রক্তে শর্করা স্বাভাবিক নাও হতে পারে।
পানিশূন্যতা
শরীরে পানির ঘাটতি হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। কারণ দেহে পানি কমে গেলে রক্তে বিভিন্ন উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে যায়।
এছাড়া কিডনি বা বৃক্ক রক্ত থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করতে সাহায্য করে। পানিশূন্যতা হলে এই প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে।
কম পানি পান করা, অতিরিক্ত গরমে থাকা, বেশি ঘাম হওয়া বা কঠোর ব্যায়ামের কারণে পানিশূন্যতা হয়। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অসুস্থতা বা সংক্রমণ
সর্দি-জ্বর, সংক্রমণ বা অন্য কোনো অসুস্থতার সময়ও রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। অসুস্থতার বিরুদ্ধে শরীর যখন লড়াই করে, তখন কর্টিসল, অ্যাড্রেনালিন ও গ্লুকাগনের মতো কিছু হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
এসব হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাওয়ার পরও অসুস্থ অবস্থায় রক্তে শর্করা বেশি দেখা যেতে পারে।
তাই খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পরও রক্তে শর্করা বারবার বেশি দেখালে শুধু খাবারের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা না করে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না, তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
ওষুধ বা ইনসুলিনের পরিবর্তন নিজের সিদ্ধান্তে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লেখক: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।
