চুল বেশি পড়তে পারে শীতকালে

তাপমাত্রা কমে যাওয়া আর ঠাণ্ডা বাতাস চুলের নানান রকম ক্ষতি করে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Jan 2024, 07:08 AM
Updated : 8 Jan 2024, 07:08 AM

শীতকালে কেবল ত্বক আর ঠোঁট নয় চুলেও শুষ্কতার সমস্যা দেখা দেয়।

এই সময় চুল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে থাকে। আর খুশকি, চুল পড়া, আগা-ফাটা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

কারণ

শীতকালে চুল বেশি পড়ার কারণ যেমন অনেক তেমনি ব্যক্তি ভেদে এসব প্রভাব একভাবে পড়ে না।

শুষ্ক মাথার ত্বক: ঠাণ্ডা বাতাস শুষ্ক হয়। আর ঘরে থাকা তাপীয় যন্ত্র আর্দ্রতা হ্রাস করে।  

এই বিষয়ে হেল্থশটস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের চুল ও ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. যতিন মিত্তাল বলেন, “এতে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানি ও খসখসে ভাবের সৃষ্টি হয়।”

শুষ্ক মাথার ত্বক চুলের ফলিকল দুর্বল করে ফেলে। ফলে চুল পড়া বৃদ্ধি পায়, বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

আর্দ্রতার অভাব: ঘরে হিটারের ব্যবস্থা থাকলে, সেটা বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নেয়। আবার গরম পানিতে গোসল করার ফলেও চুল ও মাথার ত্বক শুষ্ক হয়। আর্দ্রতার অভাবে চুলে ভঙ্গুর ও আগা ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির অভাব: ডা. মিত্তাল বলেন, “শীতকালে মানুষ তুলনামূলক কম সুষম খাবার গ্রহণ করে থাকে। ফলে ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।”

ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, কম ভিটামিন এ, সি, ডি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, লৌহ ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ খাবারের ঘাটতি চুল দুর্বল করে ও পড়ার পরিমাণ বাড়ায়।

সূর্যালোকের কম স্পর্শ: ভিটামিন ডি’র প্রাকৃতিক উৎস সূর্যালোক। আর এই ভিটামিন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

শীতের সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম থাকার কারণে দেহে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি সৃষ্টি করে। ফলে মাথার ত্বক ও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ে।

মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার মান: কম তাপমাত্রা, কাজের চাপ ও ছুটির মৌসুম অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। মানসিক চাপের ফলে চুলের বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন অভ্যাসের পরিবর্তন আসে যেমন- টুপি পরা, স্কার্ফ ব্যবহার না করা ইত্যাদি চুল ফাটার অন্যতম কারণ।

শীতকালে চুল পড়া কমানোর উপায়

ডা. মিত্তাল বলেন, “দৈনিক প্রায় ১০০টা চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি পড়া দুশ্চিন্তার বিষয়।”

এক্ষেত্রে সমস্যা কমাতে কয়েকটি পন্থার কথা জানান তিনি।

সুষম খাবার গ্রহণ

ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, লৌহ এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় যোগ করা উচিত। বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং গোটা শস্য খাবার তালিকায় রাখা প্রয়োজন।

বায়োটিন, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা থ্রি’র সম্পূরক চুল সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত পানি পান

শরীর ও মাথার ত্বক আর্দ্র রাখতে পানি পান করা আবশ্যক। আর্দ্র থাকতে এবং চুলের শুষ্কতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পানের প্রয়োজন রয়েছে।

চুল ধোয়ার সময় সাবধান হওয়া

মৃদু, আর্দ্রতা রক্ষাকারী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া এড়াতে সহায়তা করে। গরম পানিতে মাথা ধোয়া এড়ানো উচিত। কারণ এটা চুলের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়।

চুল শুকাতে নরম, পাতলা তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিতে হবে।

চুল স্টাইলের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব তাপীয় যন্ত্রের ব্যবহার এড়াতে হবে। আর কখনও এসব ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তাপ সুরক্ষক স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

শীতকালে পড়া চুল কি পুনরায় ফিরে পাওয়া যায়?

“অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শীতকালে চুল পড়ার প্রবণতা সাময়িক। আর নতুন করে চুল গজায়”- বলেন ডা. মিত্তাল।

চুল বৃদ্ধির চক্রাকার প্রক্রিয়ার তিনটি পর্যায় রয়েছে।

  • সক্রিয় বৃদ্ধি পর্যায় বা অ্যানাজেন ফেইজ, যখন চুলের ফলিকলগুলো নতুন চুল সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকে।

  • ক্যাটাজেন ফেইজ, এক ধরনের অন্তর্বর্তী পর্যায় যেখানে ফলিকলগুলো ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং চুল গজায়।

  • টেলোজেন ফেইজ বা বিশ্রাম পর্যায়, যখন চুলের ফলিকলগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং চুল পড়া শুরু হয়।

এই পর্যায়গুলো চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুব সাধারণ বিষয়। চুল পড়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা হলেও মৌসুমী পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা ইত্যাদি কারণগুলো অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করে থাকে।

সবার চুলের ধরন এক নয়। তাই যত্নের ধরনটাও হবে কিছুটা ভিন্ন।

শুষ্ক চুল

শুষ্ক চুলের অধিকারীদের চুল আর্দ্র রাখে এমন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। হেয়ার মাস্ক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করা চুল আর্দ্র ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করে।

তৈলাক্ত চুল

যাদের চুল কিছুটা তৈলাক্ত তাদের মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে মৃদু, সালফেট মুক্ত, শ্যাম্পু ব্যবহার করা পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।

কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ চুল নয় বরং এর অগ্রভাগের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কোঁকড়া চুল

কোঁকড়া চুলের অধিকারীদের সালফেট মুক্ত, আর্দ্রতা রক্ষাকারী শ্যাম্পু এবং ঘন কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। দুবার শ্যাম্পু করার মধ্যবর্তী সময়ে একবার ‘কো-ওয়াশ’ বা কেবল কন্ডিশনার মেখে চুল ধোয়া প্রয়োজন। 

পাতলা অথবা সমতল চুল

যাদের চুল খুব বেশি পাতলা এবং কিছুটা লেপ্টে থাকে তাদের ঘনত্ব বাড়ায় এমন হালকা শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। ‘লিভ ইন কন্ডিশনার’ ব্যবহারের মাধ্যমে চুলে বাড়তি ভারীভাব আনা ছাড়াই আর্দ্রভাব যোগ করা যায়।

রং করা চুল

যাদের চুল রং করা তাদের উচিত সালফেট মুক্ত এবং রং উপযোগী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা। বাইরে যাওয়ার আগে সূর্যালোক থেকে চুল বাঁচাতে স্কার্ফ অথবা টুপি ব্যবহার করা উচিত। চুল সাজাতে যতটা সম্ভব তাপীয় যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে।

চুলের রং ধরে রাখতে নিয়মিত হেয়ার মাস্ক ও ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করতে হবে।

যত্নের বিভিন্ন পদ্ধতি ও পরিষেবা গ্রহণে চুল কেমন প্রতিক্রিয়া করে সেটা পর্যবেক্ষণ করা জরুরী।

আরও পড়ুন

Also Read: যে খাবারে চুল পড়ে

Also Read: চুল পড়া কমাতে ৬ উপায়

Also Read: চুল পড়া কমায় যেসব তেল