Published : 10 Sep 2026, 08:02 PM
প্রতিদিন গোসল শেষে শরীর ও চুল মোছার জন্য তোয়ালের ব্যবহার প্রাত্যহিক জীবনের অনুষঙ্গ। অনেকেই ভাবেন, একটি তোয়ালে বা গামছা যত দিন না পর্যন্ত পুরোপুরি ছিঁড়ে যাচ্ছে, ততদিন সেটি অবলীলায় ব্যবহার করা যায়।
তবে স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতা বিশেষজ্ঞদের মতে, তোয়ালের সুনির্দিষ্ট আয়ু রয়েছে, যা পার হওয়ার পর সেটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত জীর্ণ তোয়ালে অনেক সময় ‘ব্যাকটেরিয়াল ব্রিডিং গ্রাউন্ড’ বা জীবাণু জন্মানোর স্থান হিসেবে গড়ে ওঠে। ফলে সেখান থেকে ত্বকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ব্রণ এবং অ্যালার্জির উপদ্রব বাড়িয়ে দিতে পারে।
গৃহস্থালি-বিষয়ক পোর্টাল ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, বহুজাতিক সংস্থা পিঅ্যান্ডজি-এর ‘ফেব্রিক কেয়ার’ বিজ্ঞানী কিম রোমাইন স্পষ্ট বলেন, “একটি ভালো মানের বাথ টাওয়েলের সর্বোচ্চ আয়ুষ্কাল বা লাইফস্প্যান হল মাত্র ৫ বছর।”
তোয়ালের কাপড় ক্ষয়ের নেপথ্য কারণ
কিম রোমাইন ব্যাখ্যা করেন, “একটি তোয়ালে কত দিন টেকসই হবে তা মূলত তার বুনন শৈলী, ব্যবহারের ধরন এবং ধোয়ার রুটিনের ওপর নির্ভর করে। নিয়মিত ব্যবহার এবং অনবরত ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া ও তাপে শুকানোর কারণে তোয়ালের সুক্ষ্ম সুতি তন্তু প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষয়ে যায়।
এর ফলে সুতার ভেতরের আর্দ্রতা বা পানি কণা শোষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। আর তোয়ালেটি চামড়ার জন্য রুক্ষ হয়ে ওঠে।”
যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে তোয়ালে করতে হবে বাতিল
কিম রোমাইনের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাথরুমের তোয়ালে দ্রুত ফেলে দেওয়ার ৭টি লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হল।
ধোয়ার পরেও পচা গন্ধ থাকা: তোয়ালে ভেজা থাকলে সাময়িক গুমোট গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাবান দিয়ে কড়া নিয়মে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকানোর পরেও যদি তোয়ালে থেকে পচা বা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়, তবে বুঝতে হবে কাপড়ের গভীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছাতা স্থায়ী বাসা বেঁধেছে।
সুতা ওঠা ও বর্ডার ছিঁড়ে যাওয়া: তোয়ালে বা গামছার চারপাশের অংশ ছিঁড়ে সুতা বের হয়ে যাওয়া মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। এটি নির্দেশ করে যে কাপড়ের অভ্যন্তরীণ বুনন বা ‘উইভ’ পুরোপুরি অবশ ও দুর্বল হয়ে গেছে, যা শরীর মোছার কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
পানি শোষণের ক্ষমতা শতভাগ হারানো: গোসল বা শ্যাম্পু করার পর যদি দেখা যায় তোয়ালেটি গায়ের পানি সহজে টানছে না এবং শরীর শুষ্ক করতে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করতে হচ্ছে, তবে বুঝতে হবে এর ভেতরের সুক্ষ্ম আঁশগুলো মরে গেছে।
জেদি কেমিক্যাল বা রংয়ের দাগ: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মেইকআপের ডাই, তেল বা ক্ষতিকর কেমিক্যালের স্থায়ী দাগ তোয়ালেকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। বিশেষ করে বাড়িতে অতিথিদের জন্য এমন দাগযুক্ত তোয়ালে রাখা অস্বস্তিকর ও পরিচ্ছন্নতা পরিপন্থী।
খসখসে অনুভূতি: তোয়ালে যদি ত্বকে ঘষার সময় খসখসে কাগজের মতো লাগে, তবে তা ত্বকের রক্ষাকবচ ছিলে ফেলতে পারে। কাপড়ের ক্ষতির কারণেই তোয়ালের মখমলে নরম ভাব হারিয়ে যায়।
সুতা ক্ষয়ে পাতলা হয়ে যাওয়া: তোয়ালেটি আলোর সামনে ধরলে যদি এর একপাশ থেকে অন্যপাশ পরিষ্কার দেখা যায় বা কাপড়ের মাঝে ছোট ছোট ‘টাক’ বা ন্যাড়ার মতো দেখা দেয়, তবে তা ব্যবহারের অযোগ্য।
অন্তিম ৫ বছরের সময় পার হওয়া: কাপড় বিশেষজ্ঞদের নিয়ম অনুযায়ী, বাহ্যিক কোনো বড় ক্ষতি না দেখা গেলেও একটি বাথ টাওয়েল ৫ বছর পার হওয়া মাত্রই, বাথরুম থেকে পুরোপুরি বিদায় করা বাধ্যতামূলক।
পুরানো তোয়ালে পুনর্ব্যবহার করার কৌশল
নষ্ট হয়ে যাওয়া তোয়ালে সরাসরি প্রকৃতিতে না ফেলে সেগুলোকে ৪টি ঘরোয়া উপায়ে পুনরায় কাজে লাগানো যায়।
পোষা প্রাণীর যত্নে: বাড়ির প্রিয় বিড়াল বা কুকুরের গোসল শেষে কাদা মাখা পা ও শরীর মুছতে এই পুরনো তোয়ালে সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
প্রাণী আশ্রমে দান: স্থানীয় অ্যানিমেল শেল্টার বা পশু হাসপাতালের খাঁচার নিচে নরম আস্তরণ দিতে এবং নোংরা পরিষ্কার করতে এই পুরানো কাপড়গুলো সানন্দে দান করা যায়।
ঘর মোছার ন্যাকড়া: তোয়ালেটিকে ছোট ছোট চারকোনা টুকরো করে কেটে রান্নাঘরের ওভেন, বেসিন বা মেঝে মোছার ডাস্টার বা ন্যাকড়া হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ।
ভঙ্গুর জিনিসপত্র প্যাকেজিং: ঘর বদলানোর সময় বা দূরের কোনো পার্সেল পাঠানোর সময় দামী কাচের পাত্র, ক্রিস্টাল বা ডিনার সেটকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে পরিবেশ বান্ধব কুশনিং তৈরি করা যায়।
তোয়ালের যত্ন নেওয়ার ২টি পন্থা
তোয়ালে ধোয়ার সময় ভুলেও কখনও অতিরিক্ত ‘ফেব্রিক সফটনার’ ব্যবহার করা যাবে না। এটি তোয়ালের সুতার ওপর একটি অদৃশ্য মোমের চটচটে আস্তরণ তৈরি করে পানি শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এর বদলে ধোয়ার সময় ১ কাপ সাধারণ ‘ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার’ বা সাদা ভিনেগার ব্যবহার করলে তোয়ালে অনেকদিন মখমলের মতো নরম ও তুলতুলে থাকে।
আরও পড়ুন
হয়ত তোয়ালেগুলো ঠিক মতো পরিষ্কার করছেন না
টয়লেট ঠিক মত সাফসুতরো করছেন তো?