Published : 26 Aug 2026, 05:20 PM
রান্নাঘরের সিঙ্কের ড্রেনে প্রতিনিয়ত চর্বিযুক্ত তেল, চটচটে চর্বি ও খাবারের সূক্ষ্ম কণা জমা হয়, অন্যদিকে বাথরুমের ড্রেনে টুথপেস্টের আঠালো ফেনা, চুল ও শরীরের মৃত চামড়ার ময়লা জমে পাইপের ভেতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
অনেকে ভাবেন সাধারণ পানির ফ্লাশ করলেই পাইপের গভীরের এই ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে সেটা সবসময় কাজে দেয় না।
দামি কেমিক্যাল বা মিস্ত্রির পেছনে অনর্থক অর্থ খরচ না করে রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপাদানের সাহায্যে ড্রেনকে মুক্ত ও দুর্গন্ধহীন রাখা পুরোপুরি সম্ভব।
লাইফস্টাইল-বিষয়ক পোর্টাল ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের চার দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গৃহস্থালি অর্থনীতি গবেষক মেরি মার্লো লেভারেট সিঙ্কের পাইপ সচল রাখার ৩টি সহজ কৌশল সম্পর্কে জানান।
তিনি বলেন, “বেইকিং সোডা ও সাদা ভিনেগারের প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া ড্রেনের ভেতরের কঠিন মেদ বা জমে থাকা ময়লাকে মাত্র ১০ মিনিটে গলিয়ে দিতে ভালো কাজ করে।”
ড্রেন ডিপ-ক্লিন করার ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
মেরি মার্লো লেভারেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী ড্রেনের গভীরের ময়লা ও শক্ত চর্বির আস্তরণ দূর করার নিয়মটি হল-
ধাপ ১ (সিঙ্ক খালি করা): প্রথমে সিঙ্কের ভেতরের সমস্ত থালাবাসন সরিয়ে সাবান দিয়ে সিঙ্কটি ভালো করে ধুয়ে শুষ্ক করে নিতে হবে, কারণ অনেক সময় দুর্গন্ধ সিঙ্কের উপরিভাগের ময়লা থেকেও ছড়াতে পারে।
ধাপ ২ (রাসায়নিক দ্রবণ তৈরি): একটি পাত্রে ১ কাপ পরিষ্কার পানি এবং ১ কাপ ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার বা সাদা ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে চুলায় ফুটিয়ে নিতে হবে।
ধাপ ৩ (বেইকিং সোডার জাদু): এবার সিঙ্কের শুকনো ড্রেনের ছিদ্রে সরাসরি আধা কাপ খাঁটি বেইকিং সোডা ঢেলে দিয়ে, ওপর থেকে ধীরে ধীরে সেই ফুটিয়ে রাখা গরম ভিনেগারের তরল দ্রবণটি ঢালতে হবে।
ভিনেগার ও সোডা সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তীব্র ফেনা বা ‘ফোমিং’ তৈরি হবে, যা পাইপের দেয়ালের ময়লাকে ভেঙে ফেলে।
ধাপ ৪ (ভিজিয়ে রাখা ও ফ্লাশ): দ্রবণটি ঢালার পরপরই ড্রেনের মুখটি একটি সিঙ্ক স্টপার বা প্লাগ দিয়ে শক্ত করে আটকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ঢাকনা খুলে লাইনের কল থেকে গরম পানি পাইপের ভেতর ঢেলে ফ্লাশ করে দিলেই ভেতরের সব জঞ্জাল নিমেষেই তরল হয়ে ধুয়ে নেমে যাবে।
পাইপ বা পি-ট্র্যাপ ব্লকেজের কড়া সতর্কতা
যদি বেইকিং সোডা ও ভিনেগারের এই মিশ্রণ ব্যবহারের পরেও ড্রেন থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হওয়া বন্ধ না হয়, তবে বুঝতে হবে সমস্যাটি আরও গভীরে।
মেরি মার্লোর মতে, “সিঙ্কের নিচে অবস্থিত বাঁকানো পাইপ, যাকে ‘পি-ট্র্যাপ’ বলা হয়, সেখানে হয়তো অতিরিক্ত ময়লা জমে শক্ত হয়ে আছে বা ভেতরের সিলিং ওয়াটার শুকিয়ে গেছে।
পি-ট্র্যাপের কাজ হল, নর্দমার ক্ষতিকর গ্যাস ও গন্ধকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া।
যদি হাতুড়ি বা রেঞ্চ ব্যবহারে অভিজ্ঞতা থাকে, তবে সিঙ্কের নিচে বালতি রেখে সাবধানে পি-ট্র্যাপটি খুলে পরিষ্কার করা যেতে পারে, অন্যথায় কোনো প্রকার অবহেলা না করে একজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রির সাহায্য নেওয়াই হবে নিরাপদ।
ড্রেন সবসময় পরিষ্কার রাখার পন্থা
কড়া নিষিদ্ধ উপাদান বর্জন: চর্বিযুক্ত তেল, পোড়া মবিল, কফির গুঁড়া, ডিমের খোসা, ময়দা কিংবা রান্নার কাঁচা চাল ও নুডলসের মতো খাবার ভুলেও সিঙ্কের ড্রেনে ফেলা যাবে না; এগুলো পাইপের বাঁকে জমে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়।
সাপ্তাহিক গরম পানির ফ্লাশ: প্রতি সপ্তাহের শেষে নিয়ম করে অন্তত লিটার গরম পানি সরাসরি ড্রেনের পাইপে ঢেলে দেওয়া উচিত, যা টুথপেস্টের চটচটে ফেনা ও তেলের হালকা আস্তরণকে জমতে দেয় না।
গার্বেজ ডিসপোজাল হ্যাক: রান্নাঘরে যদি ময়লা কাটার মোটর বা গার্বেজ ডিসপোজাল থাকে, তবে সেটি চালু করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ড অনবরত পানির ট্যাপ ছেড়ে রাখতে হবে যেন ক্ষুদ্র কণাগুলো পুরোপুরি ফ্লাশ আউট হয়ে যায়।
চুল আটকানোর ছাঁকনি ব্যবহার: বাথরুমের বেসিনে চুলের জটলা আটকাতে সবসময় একটি সুনির্দিষ্ট নেট বা ছাঁকনি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ‘স্টপার’টি খুলে পরিষ্কার করলে বাথরুমের ড্রেনের ভেতর চুল জমার সম্ভাবনা কমে।
আরও পড়ুন
ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে যে স্থান পরিষ্কার জরুরি