যে জন্য হতে পারে দিনের শুরুতে মাথাব্যথা
মাথাব্যথায় মাথা কাটা নয়, বরং কারণ বুঝে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথা ভারী লাগা, অফিসে কাজ করতে করতে কপালে চাপ অনুভব করা বা রাতে ঘুমাতে গিয়ে মাথায় টনটন ব্যথা— এসব অনেকেরই নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “মাথাব্যথার ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি ‘টেনশন টাইপ হেডেক’। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, পানিশূন্যতা বা ক্ষুধার্ত থাকার কারণে এই ব্যথা হয়। তবে মাইগ্রেইন, সাইনাস, চোখের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।”
মাথাব্যথার প্রধান কারণগুলো
মাথাব্যথাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের।
প্রাথমিক মাথাব্যথা
এটি সবচেয়ে সাধারণ। এর মধ্যে রয়েছে-
টেনশন টাইপ হেডেক: কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা বা ক্লান্তির কারণে মাথা, ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে টান লেগে এই ব্যথা হয়। মাথাজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অনুভূত হয়। কাজের সময় অনেকে বুঝতেও পারেন না, কিন্তু কাজ শেষে ব্যথা ফিরে আসে।
মাইগ্রেইন: তীব্র আধকপালি ব্যথা। আলো বা শব্দে ব্যথা বেড়ে যায়। সঙ্গে বমি বা বমিভাব থাকতে পারে। অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে স্বস্তি পাওয়া যায়। মেয়েদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
ক্লাস্টার হেডেক: তুলনামূলক কম হয়। চোখের চারপাশে বা পেছনে তীব্র ব্যথা হয়। চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে। প্রতিদিন একই সময়ে ব্যথা হয় এবং কয়েক প্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের মাথাব্যথা
এটি কোনো শারীরিক রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। যেমন— মস্তিষ্কের আবরণী প্রদাহ (মেনিনজাইটিস), সাইনোসাইটিস, মাথায় আঘাত, টিউমার, স্ট্রোক বা উচ্চ রক্তচাপ।
যখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত
ভালো থাকতে যা করা যায়
মাথাব্যথা প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে:-
পর্যাপ্ত পানি পান: পানিশূন্যতা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। দিনে অন্তত আড়াই-তিন লিটার পানি পান করা উচিত।
নিয়মিত ঘুমান: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার পাশাপাশি সাত-আট ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক চাপ কমান: ধ্যান, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করা। দুশ্চিন্তা কমাতে ডায়েরি লেখা যেতে পারে।
চোখের যত্ন নেওয়া: চশমার পাওয়ার ঠিক আছে কি-না নিয়মিত পরখ করানো জরুরি। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকলে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা উচিত।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: ক্ষুধার্ত থাকা যাবে না। নিয়মিত খাবার খাওয়া উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত চা-কফি ও চিনিযুক্ত খাবার কমাতে হবে।
ব্যায়াম করা: হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আরও পড়ুন
