Published : 12 Aug 2026, 06:52 PM
‘স্কিন’ বা ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, রোদে ছাতা নিয়ে বের হন বা শরীরে কোনো সন্দেহজনক তিল দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান।
তবে শত সতর্কতার পরেও শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অংশকে প্রায় সবাই এড়িয়ে যাওয়া হয়, তা হল হাতের বা পায়ের নখ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় নখের এই বিরল কিন্তু মারাত্মক ক্যান্সারকে ‘সাবুঙ্গুয়াল মেলানোমা’ বলা হয়।
‘সেলফ ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ক্যান্সার সাধারণ তিলের মতো দেখায় না বলে শুরুতে ধরা কঠিন। তবে প্রাথমিক ধাপে শনাক্ত করা গেলে এটি শতভাগ নিরাময়যোগ্য।
নখের ত্বকে ক্যান্সার যে কারণে হয়
নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের চর্মরোগবিদ্যার সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ডা. মাইকেল ক্যামেরন বলেন, “সাধারণ ত্বকের ক্যান্সারের মতো অতিরিক্ত সূর্যের আলো বা রোদের কারণে, নখের এই মেলানোমা হয় না। এটি মূলত বংশগত বা জিনেটিক কারণে হয়ে থাকে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইটার্নাল ডার্মাটোলজি অ্যাসথেটিকস’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. ইফে জে. রডনি ব্যাখ্যা করেন, “এই ক্যান্সার নখের শক্ত আবরণে হয় না; বরং নখের নিচে থাকা নরম চামড়ার কোষ বা ‘নেইল ম্যাট্রিক্স’ থেকে শুরু হয়।”
এখানে থাকা মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলো যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তখনই মেলানোমা দানা বাঁধে।
এশীয়, হিস্পানিক (স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন বা যাদের পূর্বপুরুষেরা স্প্যানিশ সংস্কৃতিভুক্ত) এবং কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মধ্যে এই সাবুঙ্গুয়াল মেলানোমার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
নখের নিচে ক্যান্সার চেনার ৫টি প্রধান লক্ষণ
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি (এএডি)’-র নির্দেশিকা অনুযায়ী হাতের বা পায়ের নখে নিচের ৫টি লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
নখে খাড়া কালো বা বাদামি রেখা: নখের উপরিভাগে ওপর থেকে নিচে লম্বালম্বিভাবে একটি সুনির্দিষ্ট বাদামি বা কালো রংয়ের দাগ বা স্ট্রাইপ দেখা দেওয়া এই ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।
ডা. রডনি বলেন, “নখের নিচে আঘাত লেগে রক্ত জমাট বাঁধলে, দেখতে গোল গোল ছোপের মতো হয়; তবে ক্যান্সারের দাগটি হবে একদম খাড়া একটি সোজা রেখা।”
কালো রেখাটি চওড়া বা মোটা হওয়া: যদি দেখা যায় নখের সেই কালো বা বাদামি সোজা দাগটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে চওড়া বা মোটা হচ্ছে, তবে তা উদ্বেগের কারণ। এর অর্থ হল নখের নিচের ক্যান্সার কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নখের চারপাশের চামড়া কালো হওয়া: ক্যান্সারের কোষগুলো যখন নখের নিচের নরম টিস্যু থেকে ছড়িয়ে চারপাশের চামড়া, কিউটিকল বা নখের ভাঁজে পৌঁছায়, তখন চারপাশের ত্বক কালচে হয়ে যায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘হাচিনসন’স সাইন’ বলা হয়, যা উন্নত বা ‘অ্যাডভান্সড’ মেলানোমার বড় লক্ষণ।
নখ ফেটে বা ফেঁসে যাওয়া: রোগের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নখের স্বাভাবিক মসৃণতা নষ্ট হয়ে যায়। নখ মাঝখান থেকে ফেটে যেতে পারে, অতিরিক্ত খসখসে হয়ে ফাটল দেখা দিতে পারে। আর তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়।
নখ চামড়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া: মেলানোমা যখন গুরুতর আকার ধারণ করে, তখন নখের মূল শক্ত অংশটি বা ‘নেইল প্লেট’-এর নিচের মাংসল বিছানা বা চামড়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ওপরে ভেসে ওঠে।
চিকিৎসকেরা একে ‘অনিকোলাইসিস’ বলেন।
প্রতিরোধ ও সুরক্ষার উপায়
ডা. মাইকেল ক্যামেরন স্পষ্ট করে বলেন, “নখে এমন দাগ মানেই ক্যান্সার নয়; জুতা আঁটসাঁট হওয়ার কারণে ঘর্ষণ থেকে, নখ কামড়ানো কিংবা সাধারণ ফাঙ্গাসের সংক্রমণ থেকেও এমন দাগ হতে পারে। তবে সুরক্ষার জন্য সপ্তাহে অন্তত একবার নখ ভালো করে ‘স্ক্যান’ বা পরখ করা উচিত।”
যারা নিয়মিত পার্লারে গিয়ে ‘জেল ম্যানিকিউর’ বা পেডিকিউর করান, যেখানে নখ শুকানোর জন্য কৃত্রিম আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভি) ল্যাম্প বা আলো ব্যবহার করা হয়, তাদের এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিছুটা পরিমিত করা ভালো (যেমন ২-৩ মাসে একবার)।
পার্লারে যাওয়ার আগে বা কড়া রোদে বের হওয়ার আগে নখের ওপর ও চারপাশের চামড়ায় অন্তত এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন লোশন মাখা উচিত বলে পরাশর্শ দেন, এই চিকিৎসক।
আরও পড়ুন
বৈবাহিক অবস্থা থেকে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি
যে কোনো মাত্রার অ্যালকোহল গ্রহণে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি
সানস্ক্রিন ব্যবহার থেকে ত্বকে ক্যান্সার হওয়া বিষয়টা কতখানি সত্য?