অসুস্থতায় দেহে আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি। এজন্য পানি পান করতে হবে পর্যাপ্ত।
Published : 18 Feb 2025, 11:12 AM
গলাব্যথা, সর্দি-কাশিতে গরম পানি দিয়ে গার্গল করা আরামের।
আর সাথে যদি উষ্ণ পানীয় পান করা যায় তবে আরও উপকার হয়।
কারণ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক চিকিৎসক নিকোলাস জেনেরালস বলেন, “কিছু পানীয় রয়েছে যেগুলো ঠাণ্ডার সমস্যায় খুবই আরাম দেয়। আর সেগুলো তৈরি করাও যায় সহজে।”
ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশতি প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “শরীর খারাপ করলে অবশ্যই দেহ আর্দ্র রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পানিশূন্যতা হলে দেহ রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে না। দেহে পানির অভাব হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে নাক ও গলায় শুষ্ক ভাব। এছাড়া জ্বর ছাড়ার সময় ঘাম হয়, এভাবেও পানি বের হয়ে যায় শরীর থেকে। তাই আর্দ্র থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ঘরেই তৈরি করা যায় এরকম কয়েকটি আরামদায়ক উষ্ণ পানীয় তৈরির পদ্ধতি দিয়েছেন তিনি।
আদা এবং স্ক্যালিয়ন পেঁয়াজের চা
“উষ্ণ তরল শ্লেষ্মা গলিয়ে নাক দিয়ে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। আদা ও স্ক্যালিয়ন পেঁয়াজে ঝাঁজ সাথে কুসুম গরম পানি সর্দি-কাশিতে ভালো উপকার দেয়”- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন ক্যালিফোর্নিয়া, ওকল্যান্ডে অবস্থিত ‘গ্রিফিন আকুয়াপাংচার অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটিভ মেডিসিন’য়ের প্রতিষ্ঠাতা লিসা ফ্রানজিটা।
প্রায় ১০ টুকরা পাতলা করে কাটা আদা ও তিনটা স্ক্যালিয়ন পেঁয়াজ কুচি, দুই কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলার আঁচ কমিয়ে পাঁচ মিনিটের মতো সিদ্ধ করতে হবে।
পান করার সময় ছেঁকে নিতে হবে। এই পানীয় দৈনিক তিন বেলা গ্রহণের পরামর্শ দেন, ফ্রানজিটা।
মধু, লেবু ও আদার পানীয়
গলা খুসখুসের সমস্যায় উপকারী মধু। চাইলে এক চামচ সরাসরি খাওয়া যায়। অথবা লেবু ও আদার সাথে মিশিয়ে চা বানিয়ে পান করা যায়।
লেবুর রস থেকে মিলবে ভিটামিন সি। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। আদাতে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান।
গরম পানিতে ২ চা-চামচ মধু, ১ টেবিল-চামচ কুচি করা আদা ও বড় লেবুর অর্ধেক পরিমাণ রস গুলে নিতে হভে। তারপর পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রেখে পান করতে হবে।
দিনে দুতিনবার এই পানীয় গ্রহণ করা উপকারী।
লেবু ও মধুর ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়
ঠাণ্ডা কাশির অসুস্থতায় যেহেতু আর্দ্র থাকা জরুরি। সেজন্য পানিশূন্যতা রোধে এই পানীয় বেশ কার্যকর।
দুই কাপ উষ্ণ পানিতে ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল-চামচ মধু এবং অল্প পরিমাণে লবণ গুলে পান করতে হবে।
মসলার চা
দুটি মাঝারি আকারের দারুচিনি, তিনটা-চারটা এলাচ ও দুতিনটা লবঙ্গ ভালো মতো গুঁড়া করে নিতে হবে।
এর সাথে আধা টেবিল-চামচের কম পরিমাণ কালো-গোলমরিচের গুঁড়া ৩ কাপ পানিতে গুলিয়ে ২০ মিনিট ফোটাতে হবে।
ফ্রানজিটা পরামর্শ দেন, “দিনে দুতিনবার এই পানীয় পান করতে হবে।”
হলুদ-দুধের পানীয়
প্রাচীনকাল থেকেই এই পানীয়র প্রচলন রয়েছে। হলুদে থাকা ‘কার্কুমিন’ উপাদান প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ঠাণ্ডার সমস্যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রভাব রাখে।
ফ্রানজিটা বলেন, “হলুদের সাথে এক চিমটি কালো-গোলমরিচের গুঁড়া দিলে, দেহে কার্কুমিন শোষণ ভালো হয়।”
১ কাপ দুধ হালকা ফুটিয়ে, এর মধ্যে আধা চা-চামচ হলুদের গুঁড়া, ১ টেবিল-চামচ মধু এবং এক চিমটি কালো-গোলমরিচ মিশিয়ে নিতে হবে।
অসুস্থতায় প্রতিদিন একবার এই পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
চিকেন ব্রথ
মুরগির হাড় পানিতে ফুটিয়ে তৈরি করা ব্রথে শুধু যে ইলেক্ট্রোলাইট সোডিয়াম থাকে তা নয়, পাশাপাশি মিলবে প্রদাহরোধী উপাদান।
এটা তৈরি করতে মুরগির হাড়, পেঁয়াজ, গাজর হালকা মসলা ইত্যাদি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা জ্বাল দিতে হবে। সুগন্ধ বের হলে সুপের মতো পান করা যাবে।
আরও পড়ুন
যেভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি নাকি ঠাণ্ডা-কাশি