Published : 08 Jul 2025, 12:45 AM
প্রায় দুই বছর আগে ছাদের একটি টবে হঠাৎ একটি জামগাছের জন্ম হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ বড় হয়ে গেছে গাছটা। সেখানে প্রথমবারের মতো এগারোটি জামও ধরেছে।
জামগাছের আশপাশে আছে পেয়ারা, মালটা আর করমচা গাছ। পাশের বাড়ির ছাদবাগানে একটি ডালিম গাছ আছে। সেখানে ছানাপোনা নিয়ে বাসা বেঁধেছে একটি টিয়া পরিবার।
ওরা মোট পাঁচজন। মা-বাবা আর ওদের তিনটি ছানা। টিয়া পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্যের নাম টুকটুকি। টুকটুকির ঠোঁট দুটি একদম লাল টুকটুকে।
একদিন সকালে উড়ে পাশের বাড়ির ছাদে এলো টুকটুকি। সেখানে জামগাছে কয়েকটি জাম দেখতে পেল সে। এর আগে সে কখনো জাম দেখেনি। টুকটুকির খুশি দেখে কে! সে প্রতিদিন নিয়ম করে দুইবার জামগুলো দেখে যায়।
একদিন হঠাৎ খুব জোরে ঝড় এলো। ঝড়ে চারটি জাম পড়ে গেল। খুব মন খারাপ হলো টুকটুকির। বাকি সাতটি জাম ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করল। জামগুলো কবে যে পাকবে!
প্রায় একমাস পর একদিন টুকটুকি দেখতে পেল জামগুলো লাল হতে শুরু করেছে। তিনটি জাম বেশ লাল হয়েছে।
টুকটুকি তার ঠোঁট দিয়ে বোঝার চেষ্টা করল জামগুলো পেকেছে কিনা। কিন্তু সেগুলো তখনো বেশ শক্ত। সে বুঝতে পারল জামগুলো ভালোভাবে পাকতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
কয়েকদিন পর এসে টুকটুকি দেখল, জামগুলো কালো হতে শুরু করেছে। এর একদিন পর টুকটুকি হঠাৎ দেখল, গাছের সবচেয়ে পাকা জাম তিনটি আর নেই। কোথায় গেল ওরা? খুঁজতে শুরু করল সে।
হঠাৎ টবের মাটিতে চোখ পড়ল। সে দেখল, জামদুটো গাছ থেকে খসে পড়েছে। কাদা আর ধুলোতে মাখামাখি হয়ে গেছে ওরা। জামগুলোকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে চোখে পানি চলে এলো টুকটুকির। মন খারাপ করে বাসায় ফিরে গেল সে।
টুকটুকির মন খারাপ দেখে তার মা জানতে চাইল কী হয়েছে। সব শুনে মা বলল, “মন খারাপ করিস না। আরো পাঁচটি জাম তো আছেই। কাল পরশু খাওয়া যাবে একসাথে।”
কিন্তু টুকটুকির কিছুই ভালো লাগছে না। সেই কবে মা-বাবা আর দুইভাইকে জাম খাওয়ার নিমন্ত্রণ দিয়ে রেখেছে সে! ভাইরাও টুকটুকির মতো কখনো জাম খায়নি।
বাকি পাঁচটি জাম তখন সবে লাল রং থেকে কালো হতে শুরু করেছে। এর দুদিন পর দুপুরে আবার জামগাছের কাছে এলো টুকটুকি। অবাক! মাত্র তিনটি জাম আছে সেখানে। টুকটুকি নিচের দিকে তাকাল। কিন্তু সেখানে কোনো জাম দেখতে পেল না সে। কোথায় গেল জামগুলো! কোথাও ওগুলো খুঁজে না পেয়ে কাঁদতে শুরু করল টুকটুকি।
ওর কান্না শুনে পাশের করমচা গাছ থেকে বেরিয়ে এলো দুইটি বুলবুলি পাখি। ওরা প্রায় টুকটুকির বয়সী। টুকটুকির কান্না শুনে ওরা বলল, “কী নাম তোমার? কাঁদছ কেন?”
টুকটুকি বলল, “আমার নাম টুকটুকি। এই গাছের দুইটি জাম কে যেন খেয়ে ফেলেছে। আমি বাসার সবাইকে জাম খাওয়ার নিমন্ত্রণ দিয়েছিলাম। এখন কী হবে! তিনটি জামে তো আমাদের সবার পেট ভরবে না।”
বুলবুলির ছানারা বলল, “ওই জামগুলো দিয়ে আমরা আজ সকালে নাশতা করেছি। আমরা তো জানতাম না তোমার কথা। যাক, মন খারাপ করো না। বাকি তিনটি জাম আমরা খাব না। এগুলো আমরা পাহারা দিয়ে রাখব যেন কেউ না খেতে পারে।”
টুকটুকি বাসায় ফিরে কাঁদতে কাঁদতে সবাইকে জানাল যে আরও দুটি জাম নেই। শুনে বাবা বলল, “তুই একদম কাঁদবি না। আমরা কাল সবাই মিলে তিনটি জাম মজা করে খাব।”
শুনে বাবা বলল, “একসাথে ভাগ করে খেলে দেখবি খুব ভালো লাগবে সবার। খুশিতেই পেট ভরে যাবে আমাদের।”
পরদিন বেশ সকালে জামগাছে উড়ে এলো টিয়া পরিবার। এসে দেখল, বুলবুলির ছানারা জামগাছ পাহারা দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওদের দেখে খুব খুশি হলো টুকটুকিরা। ওরা সবাই মিলে মজা করে জাম খেল।
টুকটুকিরা বুলবুলিদের ওদের ছাদবাগানে পেয়ারা খাওয়ার নিমন্ত্রণ দিল। ওদের বাগানে অনেক লাল পেয়ারা হয়েছে। খুব মজা। সবাই মিলে মিশে পেয়ারা খাওয়া যাবে।
টুকটুকিরা ফিরে আসার সময় মা বুলবুলি ওদেরকে জামের বীজগুলো ঠোঁটে করে নিয়ে যেতে বলল। আরো বলল, “এগুলো একটা টবের ভেজা মাটির উপর যত্ন করে রেখে দিবে। গাছ বড় হতে দুই তিন বছর লাগবে। এরপর দেখবে নিজের বাড়ির ছাদেই মজা করে সবাই মিলে জাম খেতে পারবে।”
টুকটুকিরা নিজেদের ছাদবাগানে ফিরে এলো। এরপর ওরা যত্ন করে বীজগুলো পাশের টবের ভেজা মাটির উপর রেখে দিল।
আশ্চর্য! সাতদিনের মাথায় বীজগুলো থেকে বেরিয়ে এলো সবুজ পাতা। একদিন অনেক বড় হবে গাছগুলো। তখন সবাই মিলে মজা করে জাম খাবে পেট ভরে।