সাক্ষাৎকার
Published : 25 Apr 2026, 01:05 PM
ঢাকার তেজগাঁওয়ের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমানের ওড়াউড়ি দেখে কৈশোরে মনে যন্ত্রের রহস্য নিয়ে প্রথম কৌতূহল জেগেছিল। আজ তিনি ইউরোপের প্রথম সারির গবেষক ও শিক্ষক। বিএএফ শাহীন স্কুল ও নটরডেম কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি এবং ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওউলু থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ড. মো. সানাউল হক, বর্তমানে ফিনল্যান্ডের এলইউটি ইউনিভার্সিটিতে গবেষক, সুইডেনের ইয়ংশপিং বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক এবং আয়ারল্যান্ডের একটি গবেষণা প্রকল্পের সহ-প্রধান গবেষক হিসেবে কর্মরত। ম্যারি কুরি ফেলোশিপের মতো বিরল বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি অর্জনকারী এই মানুষটি উঠে এসেছেন এ দেশের এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। তার কর্মজীবন, ভুল থেকে শেখার গল্প আর আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ভাবনার নানা দিক উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।
আপনার ক্যারিয়ারের শুরুটা কীভাবে হলো? ছোটবেলায় কি গবেষক হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল?
সত্যি বলতে, ছোটবেলায় গবেষক হওয়ার কোনো ছকবাঁধা পরিকল্পনা আমার ছিল না। আমার বেড়ে ওঠা ঢাকায়, পড়তাম বিএএফ শাহীন স্কুলে। স্কুলের সামনেই ছিল ঢাকা এয়ারপোর্ট, যেখান দিয়ে যুদ্ধবিমান আর যাত্রীবাহী প্লেনগুলো সবসময় চোখের সামনে ওড়াউড়ি করত। ওগুলো দেখে আমার শিশু মনে অদ্ভুত সব প্রশ্ন জাগত- এই বিশাল যন্ত্রগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে!
পরবর্তীতে ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ার সময় মামা বেলজিয়াম থেকে আমার জন্য একটি ওয়াকম্যান এনেছিলেন আর কাকা সৌদি আরব থেকে এনেছিলেন ভিডিও গেমস। আমি সেগুলো নিয়ে শুধু খেলতাম না, বরং ভাবতাম এটা কীভাবে বানানো হলো, ব্যাটারি থেকে শক্তি কীভাবে আসছে কিংবা এই যন্ত্রটা আমাকে আনন্দ দিচ্ছে কীভাবে। মানুষ আর মেশিনের এই মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটাই আমাকে মূলত টানত।
অবসরে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে ছোটখাটো মোটর বা রোবট তৈরির চেষ্টা করতাম স্রেফ কৌতূহল থেকে। আর সেই কৌতূহলই একসময় আমার প্যাশনে পরিণত হলো। আমি গবেষণায় এসেছি পেশাগত কোনো বাধ্যবাধকতা থেকে নয়, বরং শৈশবের সেই ভালোলাগা থেকে। তাই আমি মনে করি ক্যারিয়ার চাকরি পাওয়ার দিন থেকে শুরু হয় না, বরং যেদিন আপনি কোনো বিষয়ের প্রতি সত্যিকারের কৌতূহল অনুভব করেন, যাত্রাটা সেদিন থেকেই শুরু হয়।
লন্ডনে উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? বাংলাদেশের শিক্ষার সঙ্গে ওখানকার মূল পার্থক্যটা ঠিক কোথায় দেখলেন?
এইচএসসির পর যখন লন্ডনে পাড়ি জমাই, তখন আমি নেহাত একজন কিশোর। নতুন দেশ, অচেনা সংস্কৃতি আর পরিবার ছাড়া একা থাকার সেই চ্যালেঞ্জগুলোই আসলে আমাকে মানুষ হিসেবে তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা আর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো সমস্যাকে দেখা, এই শিক্ষাগুলো কোনো বই পড়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের দেশের পড়াশোনা মূলত পরীক্ষানির্ভর। নটরডেম কলেজে পড়ার সময় দেখতাম ব্যবহারিক পরীক্ষার চেয়ে তত্ত্বীয় বা সংজ্ঞার ওপর জোর বেশি দেওয়া হতো। ফলে আমরা মুখস্থ করতে শিখতাম, কিন্তু সেই সংজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে ভাবার সুযোগ খুব একটা পেতাম না। লন্ডনে গিয়ে দেখলাম সেখানে প্রকৌশলগত সমস্যার বাস্তব সমাধান বের করা এবং দলগত প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ শেখাই হলো শিক্ষার মূল অংশ।
সেখানে তত্ত্ব শুধু পড়া হতো না, তা প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা করা হতো। অবশ্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিপুল শিক্ষার্থী আর বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রাখলে শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দোষ দেওয়া যায় না। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের দায়িত্ব হলো যা শিখছি তা বাস্তবের সঙ্গে মেলাতে পারছি কি না, সেই জিজ্ঞাসা নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখা।
আপনার গবেষণা কীভাবে বাস্তব জীবনে কাজে লাগে? সাধারণ মানুষ এর মাধ্যমে ঠিক কী সুবিধা পায়?
আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি- যেমন পারসুয়েসিভ টেকনোলজি, গ্যামিফিকেশন বা ডিজিটাল নাজিং, সেগুলো শুনতে জটিল মনে হলেও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ধরুন আপনার ফোনে সকাল ৬টার অ্যালার্ম দেওয়া আছে। সেই অ্যালার্মে যদি স্রেফ রিংটোন না বেজে একটি বার্তা লেখা ওঠে যে ‘এখনই উঠুন, কিছুক্ষণ হাঁটুন’, তবে সেটা এক ধরনের ডিজিটাল নাজিং বা মৃদু ধাক্কা হিসেবে কাজ করে। এটি ছোট রিমাইন্ডার হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষের আচরণ বদলে দেয়।
আমার পিএইচডি গবেষণায় আমি একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলাম যা মানুষকে জাঙ্ক ফুড এড়াতে এবং শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে সাহায্য করত। বর্তমানে আমরা রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা ফোনে স্ক্রল করার যে সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমার সেই অ্যাপটি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করেছে এবং অনেকে এর মাধ্যমে ওজন কমিয়ে মানসিকভাবেও সুস্থ হয়েছেন।
বর্তমানে সুইডেনে আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি যা শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা বাড়াবে। দিনশেষে গবেষণার সার্থকতা হলো মানুষের জীবনকে একটু সহজ ও উন্নত করা।
ক্যারিয়ারের শুরুতে কোনো ভুল করেছিলেন কি? সেখান থেকে ঠিক কী শিখেছেন?
ক্যারিয়ারের শুরুতে আমার মধ্যে এক ধরনের তাড়াহুড়ো ছিল, যা বর্তমানের অনেক তরুণের মধ্যেই দেখা যায়। আমরা খরগোশের মতো দ্রুত দৌড়াতে চাই, অথচ জীবনটা আসলে কচ্ছপের মতো ধীরস্থির যাত্রার নাম। আমি বুঝেছি যে বড় কোনো অর্জন করতে গিয়ে যদি নিজের স্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলি, তবে সেই অর্জনের কোনো মূল্য নেই। ১০০ বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ৩০ বছরের ঝড়ো জীবনের চেয়ে অনেক বেশি ভালো।
আরেকটি বড় ভুল ছিল নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব না বোঝা। পরবর্তীতে দেখেছি যে ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন সায়েন্স ক্লাব বা ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইইই) স্টুডেন্ট সোসাইটির মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ক্যারিয়ারের জন্য কত বড় আশীর্বাদ। ক্লাসরুমের বাইরে ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মিশলে যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, তা বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়। তাই আমার পরামর্শ হলো ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সুসম্পর্ক তৈরি করা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রতি কোনোভাবেই অবহেলা না করা।
গবেষণায় ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো কী কী বলে আপনি মনে করেন?
গবেষণায় সফল হতে হলে সবার আগে প্রয়োজন অদম্য কৌতূহল। আমি মনে করি নিজেকে সবসময় একজন ছাত্র ভাবা উচিত; যেদিন কেউ ভাববে সে সব শিখে ফেলেছে, সেদিনই তার ভেতরের গবেষক সত্তাটা মরে যাবে। এরপর প্রয়োজন ধৈর্য ও লেগে থাকার ক্ষমতা, কারণ গবেষণা কোনো তাৎক্ষণিক ফল দেয় না। মানুষের আচরণ স্থায়ীভাবে বদলাতেই যেখানে অন্তত তিন মাস সময় লাগে, সেখানে ক্যারিয়ার গড়তে যে কতটা সময় লাগবে তা সহজেই অনুমেয়।
এছাড়া আন্তঃবিষয়ক দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। আমার পড়াশোনা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে হলেও আমি এখন কাজ করছি মেডিসিন বা সমাজবিজ্ঞানের গবেষকদের সঙ্গে। বিভিন্ন বিষয়ের মানুষের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থাকলে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়। সেইসঙ্গে দলগত কাজ করার ক্ষমতা এবং নিজের চারপাশের সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেখার চোখ তৈরি করতে হবে। একা বড় কোনো কাজ করা প্রায় অসম্ভব, তাই ভালো
একটি দল গঠন করতে পারাই হলো সফল গবেষকের লক্ষণ।
আপনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করতে গেলে কী ধরনের মানসিকতা দরকার?
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে দরকার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। আমি ইংল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং আয়ারল্যান্ডের মতো ভিন্ন ভিন্ন দেশে কাজ করেছি এবং দেখেছি যে প্রতিটি জায়গার কাজের ধরন ও সংস্কৃতি আলাদা। নিজের পরিচয় ঠিক রেখেই অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই হলো বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয়ত, মনকে খোলামেলা রাখা খুব জরুরি। আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মানুষ হয়ে যখন আর্টস বা সোশ্যাল সায়েন্সের মানুষের সঙ্গে কাজ করি, তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি। এছাড়া কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য। শুধু ইংরেজি জানলেই চলবে না, বরং মানুষের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করা এবং ভিন্নমতের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে কাজ করা শিখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন বিদেশে যাওয়াই একমাত্র পথ নয়; নিজের পরিস্থিতি ও লক্ষ্য অনুযায়ী দেশে বা বিদেশে যেখানেই সুযোগ আসুক না কেন, তা কাজে লাগানোর মানসিক প্রস্তুতি থাকা চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ারের জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে?
শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার প্রথম পরামর্শ হবে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের থিসিসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। আমাদের দেশে থিসিসকে অনেক সময় স্রেফ একটি ডিগ্রি পাওয়ার মাধ্যম মনে করা হয়, কিন্তু এটাই হলো গবেষণার হাতেখড়ি। থিসিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং লেখার দক্ষতা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাদার সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া উচিত। আইইইই, বিজ্ঞান ক্লাব বা প্রকৃতি অধ্যয়ন সংগঠনের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ক্যারিয়ারের নেটওয়ার্কিংয়ে দারুণ কাজে দেয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক জার্নাল বা কনফারেন্সের খবরাখবর রাখা জরুরি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিজিপিএ ফোর পাওয়ার নেশায় অন্ধ হয়ে না ছুটে শেখার আনন্দ নেওয়া। জীবনের কোনো পর্যায়ে কোন জ্ঞান কাজে লাগবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। আমি নিজেই ২৫ বছর আগে শেখা একটি কনসেপ্ট মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গবেষণায় কাজে লাগিয়েছি। তাই বুঝে শেখার কোনো বিকল্প নেই।
গবেষণায় অর্থের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? গবেষণা করে কি আসলে ভালো আয় করা সম্ভব?
গবেষণায় ক্যারিয়ার গড়ে আপনি হয়তো রাতারাতি বিলিয়নিয়ার হতে পারবেন না, তবে গবেষকরাই হলেন সমাজের মূল স্তম্ভ। তারা যে জ্ঞান তৈরি করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই বড় বড় কোম্পানি বা পণ্য গড়ে ওঠে। গবেষণায় অর্থায়ন বা ফান্ডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদাহরণ দিয়ে আমি বিষয়টি বোঝাতে চাই। তিনি মহান সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তাকে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। কারণ তার একটি আর্থিক ভিত্তি ছিল। সৃজনশীল কাজের জন্য এই মৌলিক নিরাপত্তা থাকা প্রয়োজন। তবে গবেষণা আসলে অনেকটা প্রেমের মতো, এর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা না থাকলে এই পথে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা যায় না। টাকা আজ হোক কাল হোক আসবেই, কিন্তু মানসিকতা হতে হবে এমন যে আমি সমাজের কল্যাণে নতুন কিছু উদ্ভাবন করব।
প্রযুক্তি খাতে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র কেমন হবে বলে মনে করেন? বাংলাদেশের তরুণরা কোন দিকে ফোকাস করতে পারে?
একটা সময় ছিল যখন ট্রিপল-ই ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরির বাজারে রাজত্ব করত, কিন্তু এখন পুরো বিশ্বই তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তির এই দাপট আরও বাড়বে এবং সবকিছু অটোমেটেড হয়ে যাবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের উচিত এই আধুনিক দক্ষতাগুলো অর্জন করা।
আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব বা টেকসই প্রযুক্তি। আমাদের অনেকেই জানি না যে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো এআই টুলে সামান্য সার্চ করলে কী পরিমাণ কার্বন নিঃসৃত হয়। তাই ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে যা কম শক্তি খরচ করে সর্বোচ্চ ফলাফল দিতে পারে। সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কোড হতে হবে দক্ষ ও সংক্ষিপ্ত, যাতে সার্ভারের লোড কমে এবং পরিবেশ রক্ষা হয়। তরুণদের এই দূরদর্শী চিন্তাগুলো মাথায় রেখে নিজেদের তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের তরুণদের প্রতি আপনার শেষ পরামর্শ কী?
আমার প্রথম পরামর্শ হলো স্বাস্থ্যকে সবসময় সবার উপরে রাখা। শরীর ও মন ভালো থাকলে তবেই জীবনের বাকি লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে শিখুন। পৃথিবীতে নেতিবাচকতার অভাব নেই, কিন্তু আপনি কী গ্রহণ করবেন তা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত।
তৃতীয়ত, জীবনে কিছুটা পাগলামি দেখাতে শিখুন। নতুন কিছু করতে চাইলে মানুষ হাসবে বা নিরুৎসাহিত করবে, কিন্তু সেই ব্যতিক্রমী চিন্তাই একদিন সমাজকে পথ দেখাবে। চতুর্থত, নিজেকে শুধু দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চিন্তা করুন। আপনার কাজ যেন শুধু নিজের এলাকা নয় বরং পৃথিবীর অগণিত মানুষের উপকারে আসে সেই স্বপ্ন দেখুন।
পরিশেষে, জীবনকে একটি দীর্ঘ ট্রেন যাত্রার মতো ভাবুন। প্রতিটি ছোট লক্ষ্য বা স্টেশন পার হওয়া মানেই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হলো জীবন। সফলতার কোনো শর্টকাট নেই, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি আর নিজের প্রতি দায়বদ্ধতাই আপনাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেবে।