Published : 17 Jul 2025, 09:56 AM
“বাঙ্গালার ইতিহাসে তিনি যে স্বাধীনতার যুগ প্রবর্তন করিয়াছেন সেজন্য তিনি বঙ্গসাহিত্যে ধন্য হইয়া থাকিবেন।...যিনি আমাদিগকে অন্ধ অনুবৃত্তি হইতে মুক্তিলাভের দৃষ্টান্ত দেখাইতে পারিয়াছেন, তিনি আমাদের দেশের লোকের কৃতজ্ঞতাপাত্র।” ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত প্রকাশিত বিখ্যাত বাংলা মাসিক পত্রিকা ‘ভারতী’র শ্রাবণ, ১৩০৫ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এ উক্তি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার সম্পর্কে করেছিলেন, তিনি বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০)।
তাকে বলা হয় ‘প্রথম বাঙালি ঐতিহাসিক’, যিনি বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রথম এ জনপদের ইতিহাসচর্চায় আত্মনিয়োগ করে সফল হয়েছিলেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ১৮৬১ সালের পহেলা মার্চ কুষ্টিয়ার শিমুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন। এবছরই জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মতো আর দুজন সৃষ্টিশীল মানুষ। কুষ্টিয়া অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মায়ের বাড়ি। তার শিক্ষক পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় ১৮৬২ সালে রাজশাহীর জজকোর্টে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলে তারা রাজশাহীর ঘোড়ামারা এসে বসবাস শুরু করেন।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ (আজকের এসএসসি) করেন। সেসময় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের নাম ছিল ‘বোয়ালিয়া ইংলিশ স্কুল’। রাজশাহী কলেজ থেকে ১৮৮০ সালে এফএ অর্থাৎ এইচএসসি পাশ করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি ১৮৮৩ সালে বিএ পাশ করেন। তারপর রাজশাহী কলেজ থেকে ১৮৮৫ সালে বিএল পাশ করে সেখানেই আইন ব্যবসা শুরু করেন।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় কাঙাল হরিনাথের (হরিনাথ মজুমদার) কাছে। তার নামটিও দেন কাঙাল হরিনাথ। তিনি ছিলেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কাঙাল হরিনাথ ছিলেন গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকার সম্পাদক। সেই হরিনাথ মজুমদারের কুমারখালির বঙ্গ বিদ্যালয়ে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। হরিনাথ মজুমদারের উৎসাহে সাহিত্য সাধনায় ব্রতী হন তিনি।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ‘ঐতিহাসিক চিত্র’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি বাংলা ভাষায় ইতিহাসবিষয়ক প্রথম পত্রিকাও। এছাড়া ‘ভরসা’ নামে আরেকটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার ইতিহাসচর্চায় ব্রতী হওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছে টমাস বেবিংটন মেকলের লেখা ‘ক্লাইভ অ্যান্ড হেস্টিংস’ বইটি। এমএ পড়ার সময়ে তিনি মেকলের বইটি পড়ে বুঝতে পারেন যে, ‘কী ধরনের মিথ্যা ইতিহাস’ ইংরেজরা বাঙালিদের শেখাচ্ছে। তখনই তিনি ইতিহাস বিষয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেন।
‘সমরসিংহ’ (১৮৮৩) অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের প্রথম বই, কিন্তু ১৮৯৭ সালে (বাংলা ১৩০৪ সাল) প্রকাশিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ লিখে প্রথমবারের মতো তিনি বাঙালি পাঠকসমাজের নজর কাড়েন। কারণ এ-বইয়ে তিনি সিরাজকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। কলকাতার দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদের ভেতরের বর্ণনায় লেখা আছে, “চরম দুর্ভাগ্যকে সঙ্গে করে জন্মেছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। অপরিমিত ঐশ্বর্য আর বিলাসে কাটে তাঁর বাল্যজীবন। সিরাজ ছিলেন চরম ইংরেজ বিদ্বেষী। ইংরেজ সরকারি কর্মী আর ঐতিহাসিকরা এই মানুষটিকে নারীলোলুপ এক নৃশংস দানবিক চরিত্রে পরিণত করেছিলেন। সেই সঙ্গে দেশীয় ঐতিহাসিকরাও গলা মেলান।”
“অক্ষয়কুমার সুদীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নবাব সিরাজদ্দৌলাকে অন্ধকারের কালিমামুক্ত করেন। বাঙালি নতুন করে চিনতে পারে তাদের প্রিয় নবাবকে। জানতে পারে ইংরেজ প্রচারিত ‘অন্ধকূপ হত্যা’র ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধের প্রহসন মীরজাফর জগৎ শেঠের ষড়যন্ত্রে তরুণ নবাবের করুণ পরিণতির ঘটনা। নবাব আলিবর্দির আদরের দৌহিত্র এদেশ থেকে বিদেশি বণিকদের আধিপত্য খর্ব করতে গিয়ে নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছিলেন কীভাবে আজও বাংলার আপামর মানুষের কাছে তার পাঠকযোগ্যতা হারায়নি। অক্ষয়কুমার সিরাজ চরিত্রের মানবিক রূপটিই প্রস্ফুটিত করেছিলেন।”
এ বইটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, “শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয়ের ‘সিরাজদ্দৌলা’ পাঠ করিয়া কোনো অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পত্র ক্রোধ প্রকাশ করিয়াছেন। স্বজাতি সম্বন্ধে পরের নিকট হইতে নিন্দোক্তি শুনিলে ক্রোধ হইতেই পারে। সমূলক হইলেও। কিন্তু আমাদের সহিত উক্ত পত্রসম্পাদকের কত প্রভেদ! আমাদিগকে বিদেশিলিখিত নিন্দোক্তি বাধ্য হইয়া অধ্যয়ন করিতে হয়, তাহা মুখস্থ করিয়া পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু অক্ষয়বাবুর সিরাজদ্দৌল্লা কোনো কালে সম্পাদক মহাশয়ের সন্তানবর্গের পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত হইবার সম্ভাবনা দেখি না। বিশেষত অক্ষয়বাবু এই গ্রন্থ যখন বাংলায় রচনা করিয়াছেন তখন ইংরাজ পাঠককে ব্যথিত করিবার সম্ভাবনা আরও সুদূরপরাহত হইয়াছে।”
রবীন্দ্রনাথ ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় সমবয়সি ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ মৈত্রেয়কে আধুনিক বাংলা লেখকদের মধ্যে ‘শীর্ষস্থানীয়’ মনে করতেন। সিরাজদ্দৌল্লা প্রকাশের একবছর পর ‘ভারতী’ পত্রিকায় শ্রাবণ ১৩০৫ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘ঐতিহাসিক যৎকিঞ্চিৎ’ নামক প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ইতিহাসচর্চায় অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে লিখেন, “তিনি আধুনিক বাঙালি ইতিহাস লেখকগণের শীর্ষস্থানীয়।...অক্ষয়কুমার আমাদের দেশের একজন প্রধান লেখক।”
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের প্রকাশিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘সীতারাম রায়’ (১৮৯৮), ‘মীরকাসিম’ (১৯০৬), ‘গৌড়লেখমালা’ (১৯১২), ‘ফিরিঙ্গি বণিক’ (১৯২২), ‘অজ্ঞেয়বাদ’ (১৯২৮) ও ‘রাণী ভবাণী’ (১৯৯০)। ‘রাণী ভবানী’ বইটি অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় দেখে যেতে পারেননি। তার আরও কিছু বই হলো- ‘বঙ্গবিজয়’, ‘গৌড়া, আন্ডার দ্য হিন্দুজ’ (১৯০২), ‘অ্যা শর্ট হিস্টোরি অফ নাটোর রাজ’, ‘অ্যানসিয়েন্ট মনুমেন্টস অফ বরেন্দ্র’, ‘দ্য ফল অফ পালা এম্পায়ার’, ‘সাগরিকা’, ‘ভারতশিল্পের কথা’ ও ‘উত্তরবঙ্গের পুরাতত্ত্ব সংগ্রহ’। দুটি নাটক হলো- ‘ময়না’ (১৯০৬) ও ‘আবাহন’।
কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের ‘রাণী ভবানী’ বইটির বাংলাদেশ সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছেন, “অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের এই বইটি আমাদের ‘রাণী ভবানী’ সম্পর্কে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে সাহায্য করবে। ১৩০৪ সালে রানীকে নিয়ে এ গ্রন্থটি তৈরি করেন তিনি। কথা ছিল নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায় এ গ্রন্থ প্রকাশের সমুদয় খরচ বহন করবেন। পরে মহারাজা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ‘রাণী ভবানী’ নামে এ গ্রন্থের কিছু অংশ (কয়েকটি প্রবন্ধ) ‘সাহিত্য’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু গ্রন্থাকারে আর প্রকাশিত হয় না। জনশ্রুতি আছে, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের শিক্ষক ও সাহিত্যগুরু হরিনাথ মজুমদার, যাঁকে আমরা কাঙাল হরিনাথ নামে চিনি, তাঁর ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় জমিদার ও নীলকরদের কৃষক নির্যাতনের কথা বিশদভাবে তুলে ধরতেন। ১৮৯৬ সালে হরিনাথ মজুমদার মারা গেলে তাঁর সত্যনিষ্ঠা ও সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করে অক্ষয়কুমার প্রবন্ধ লেখেন। এতে নীলকর ও জমিদাররা তাঁর ওপর রুষ্ট হন এবং তাদেরই অনুরোধে মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ ‘রাণী ভবানী’ ছেপে দেবার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করেন।”
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের আরও দুটি বই তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়, বই দুটি হলো- ‘গৌড় বিবরণ’ ও ‘রামায়ণ বিচার’। বাঙালি ঐতিহাসিকদের মধ্যে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় প্রথম গবেষক, যিনি প্রাচীন নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, ভিন-ভাষার লেখকদের লেখা বিশেষ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেতনভুক লেখকদের লেখা, পর্যটকের বিবরণ, প্রাপ্ত শিলালিপি, প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারসহ প্রাপ্ত নানা ঐতিহাসিক উপাদান মনোযোগের সঙ্গে পঠন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের কুশীলবদের নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ‘সিরাজদ্দৌল্লা’ ও ‘রাণী ভবানী’ অন্যতম।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের কারণে এদের বাঙালি পাঠকসমাজ নতুনভাবে বা প্রকৃতস্বরূপে চিনতে শুরু করে। ১৯১৬ সালের ২৪ মার্চ ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’র এক সভায় তিনি অন্ধকূপ হত্যা ‘অলীক ও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার’ বলে বক্তব্য রেখে প্রশংসিত হন। গবেষকরা মনে করেন, ১৯১২ সালে প্রকাশিত ‘গৌড়লেখমালা’ বইতে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় পাল রাজবংশের তাম্রশাসন ও শিলালিপি বাংলায় অনুবাদ ও সম্পাদনা করে প্রাচীন ব্রহ্মদেশের অজানা ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় ‘বিজ্ঞানসম্মত ঐতিহাসিক গবেষণার’ দরজা খুলেন।
রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের ইতিহাসচর্চার ব্যাপারে এতই অনুরাগী হয়ে পড়েন যে, শান্তিনিকেতন থেকে ১৬ ভাদ্র ১৩০৯ বঙ্গাব্দে তাকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, “আপনি ওকালতিটা ছাড়ুন। চুপচাপ বসিয়া পড়ুন। মাঠের কোণে আসিয়া কুটীর বাঁধুন। তারপরে হবিষ্যান্ন খাইয়া খাগড়ার কলম ধরিয়া তালপাতে ভারতবর্ষের ইতিহাসকথা লিপিবদ্ধ করুন, ত্রিশ কোটি নরনারীর আশীর্বাদভাজন হইবেন।”
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বরেন্দ্র অঞ্চলের বহু প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ, কাহিনি ও লোককথা সংগ্রহ করেন। বিশ শতকের প্রথম দশকে স্কুলশিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দকে সঙ্গে করে দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের সদস্য কুমার শরৎকুমার রায়ের সহায়তায় ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য বাংলা ও বরেন্দ্র অঞ্চলের অতীত সম্পর্কে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা। তার উদ্ধার করা প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ১৯১০ সালের এপ্রিলে রাজশাহী জাদুঘর (বর্তমান বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর) প্রতিষ্ঠা করেন। জাদুঘরের স্বত্বাধিকারী ও তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি’ দায়িত্ব পালন করে। ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি’র ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন কুমার শরৎকুমার রায়, পরিচালক ছিলেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং সচিব ছিলেন রমাপ্রসাদ চন্দ। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় প্রায় ৩০ বছর ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি’র পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি ১৯০৪ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
মৈত্রেয় ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘রাজশাহী রেশম-শিল্প বিদ্যালয়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এই বিদ্যালয়ের সম্পাদক ও শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। অযোধ্যার মহারাজ রামপাল সিং পণ্ডিত শীতলপ্রসাদ উপাধ্যায়কে ‘রাজশাহী রেশম-শিল্প বিদ্যালয়’-এ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান। শীতলপ্রসাদ প্রশিক্ষণ শেষে অযোধ্যায় ফিরে নয়টি রেশম কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ডায়মন্ড জুবিলি ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এমনকি স্কুলটির অবৈতনিক প্রশিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের রেশম চাষপদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।
আরও মজার ব্যাপার হলো, মৈত্রেয় রাজশাহী পৌরসভার কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সদস্যও ছিলেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান। এতসব মহান কীর্তির পরও ‘প্রথম বাঙালি ঐতিহাসিক’ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বাঙালি পাঠক সমাজে অনেকটাই যেন রয়ে গেলেন আড়ালের মানুষ।