শিশুদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করার চেয়ে বেশি তাকে দিতে হবে।
Published : 05 Apr 2025, 08:10 PM
শিশু-কিশোরদেরকে ভবিষ্যতের দক্ষ জনসম্পদে রুপান্তর করার জন্য তাদের মধ্যে আত্মোন্নয়নের বীজ বপন করতে হবে। আমরা অনেকেই শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সৃজনশীল নানা কাজে যুক্ত হতে হবে।
কেউ যদি শৈশবে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করে তাহলে তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অনেকে গান, নাচ, আবৃত্তি, অঙ্কন, লেখালেখি, বিতর্ক কিংবা কারাতের মত নানা চর্চা করে থাকে। এগুলো একটি শিশুকে সুন্দর একটি আগামীর দিকে নিয়ে যায়।
শিশুদের মন কোমল হয়ে থাকে। এই সময়টা কোনো কিছু শেখার জন্য সেরা সময়। শৈশবের যে নৈতিক শিক্ষা মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে এটি সারাজীবন তার মধ্যে থেকে যায়। যে সম্ভাবনাটা খুবই বেশি।
শিশুদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করার চেয়ে বেশি তাকে দিতে হবে। তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। আমাদের সমাজে তো এটার বালাই নেই বললে চলে। ছোট মানুষের কীসের মন খারাপ, ছোট মানুষের কীসের বুদ্ধি, ছোট মানুষের এত বড় কথা কীসের—ইত্যাদি নানা কথা বলে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।
শিশুকে যদি তার মত প্রকাশ করতে দেওয়া হয়, তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভারটা তাকে দেওয়ার চর্চা করা হয়, তবে একটি শিশু ধীরে ধীরে মানসিকভাবে পরিপক্বতা অর্জন করতে থাকে।
তাই আমি মনে করি, শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দরকার তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন।
এক্ষেত্রে, পরিবারের ভূমিকার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও ভূমিকা রয়েছে। স্কুলে স্কুলে মনোবিজ্ঞানী থাকা উচিত, যেখানে শিশুরা মন খুলে কথা বলতে পারবে বা তার মনের যত্ন নিতে পারবে। যেখানে সে আত্মোন্নয়নের দিকনির্দেশনা পাবে এবং নিজেকে সুন্দর একটি মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথ খুঁজে পাবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: খাগড়াছড়ি।