আগে তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।
Published : 05 Apr 2025, 07:01 PM
ঈদের আগে আমরা কয়েকজন মিলে অসহায় কিছু মানুষের হাতে ঈদ উপহার পৌঁছে দিই। শিশু-কিশোরদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়। উপহার দিতে গিয়ে ধানমন্ডি এলাকায় দেখা হয় আছিয়া বেগম নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার সঙ্গে।
কথা বলে জানতে পারি, তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। অল্প বয়সেই বিয়ে হয়, তখন বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। কিন্তু, ছয় বছর পরে স্বামী মারা যান। এরপর দুই মেয়ে নিয়ে শুরু হয় তার সংগ্রাম।
মেয়েদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভেবে আছিয়া খাতুন নাকি আর বিয়ে করেননি। কিন্তু, এখন মেয়েরাও তার খোঁজ নেয় না।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট শুরু মুক্তিযুদ্ধের সময়। তখন এই নারীর তাঁতের ব্যবসা ছিল। পাকবাহিনী তার সবকিছু শেষ করে দেয়। পরে জীবনের তাগিদে স্বামীর সঙ্গে পাড়ি জমান ঢাকায়।
আছিয়া বেগম বলছিলেন, "যে বছর শেখ সাহেবরে মারল, সেই বছর উনিও মারা গেল। তারপর দুই মেয়েকে নিয়ে অভাবের মধ্যে পড়ে যাই।”
আগে তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। এখন বয়সের কারণে সেটা পারেন না। তাই বাধ্য হয়েই ভিক্ষা করেন।
ঈদের উপহার পেয়ে অনেক দিন পর পোলাও-মাংস খেতে পেরেছেন বলে জানালেন তিনি। পাশাপাশি আমাদেরকে পরামর্শ দিলেন ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য। কারণ পড়াশোনা না করার জন্যই তাকে ভিক্ষা করতে হয় বলে তিনি মনে করেন।
আছিয়া বেগমের কথায় ছিল অসহায়ত্বের সুর। যারা দেশ চালান, দেশ নিয়ে ভাবেন তারা আছিয়াদের কথা ভাবেন না। তার কথার মধ্যে এই বিষয়গুলোও উঠে আসে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩ । জেলা: ঢাকা।