এই ক্ষতি কমাতে আমাদের অনেক কিছু করা দরকার।
Published : 05 Apr 2025, 08:26 PM
কোনো স্থানের অনেক বছরের গড় আবহাওয়াকে বলে জলবায়ু। কিন্তু এখন সেই জলবায়ু দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই প্রশ্ন আসে জলবায়ু পরিবর্তন আসলে কী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি জেনেছি, আবহাওয়ার উপাদানগুলো যদি স্থায়ীভাবে বদলে যায় তাহলে এটিই হল জলবায়ু পরিবর্তন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বড় একটি কারণ হল গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব। বিদ্যুৎ বা শক্তি তৈরিতে যখন কয়লা, গ্যাস বা তেল পোড়ানো হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রোজেনের মত ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে মিশে যায়। এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আবহাওয়া চরম হয়ে ওঠে।
কখনো অতিরিক্ত গরম কখনও অতিরিক্ত বৃষ্টি বা খরা দেখা দেয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবন, পশুপাখি, গাছপালা ও প্রকৃতি সবই ক্ষতির মুখে পড়ে।
আমি পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে পড়েছি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় ৮০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার জমি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এই ডুবে যাওয়া জমির মধ্যে বাংলাদেশেরও একটি বড় অংশ থাকবে।
এই ক্ষতি কমাতে আমাদের অনেক কিছু করা দরকার। যেমন গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। যদি গাছ কাটতেই হয়, তবে তার চেয়ে বেশি গাছ লাগাতে হবে। একই সঙ্গে এমন কাজ বন্ধ করতে হবে যাতে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস না বাড়ে।
তবে আমার মনে হয়, সবচেয়ে জরুরি হল মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। যদিও জলবায়ু পরিবর্তন বন্ধ করে রাখার মত বিষয় নয়, তবুও মানুষ যত সচেতন হবে জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব তত কম পড়বে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১১ । জেলা: কুড়িগ্রাম।