ঢাকার বাইরেই এবার ডেঙ্গু রোগী দুই লাখ

রাজধানীর বাইরে রোগী বেড়ে যাওয়ায় সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন মহামারী বিশেষজ্ঞরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Nov 2023, 01:30 PM
Updated : 25 Nov 2023, 01:30 PM

বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিস্তারের মধ্যে এবার ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে; যা ঢাকা নগরীতে ভর্তি রোগীর প্রায় দ্বিগুণ।

দেশে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কখনও এত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। এবার মশাবাহিত এ রোগ সব জেলায় ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৯৬ জন।

এতে এ বছর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩৪ জনে। ঢাকায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৮৬২ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১২ জনের, যা নিয়ে মোট প্রাণহানি হয়েছে ১৫৯৫ জনের। এদের মধ্যে ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। বাকি ৬৭০ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন।

গত ১০ জুলাই ঢাকার বাইরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রথম ১ হাজার ছাড়ায়। ১৪ অগাস্ট মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যায় ঢাকাকে ছাড়িয়ে যায় বাইরের জেলাগুলো। সেদিন পর্যন্ত সারাদেশে ৮৭ হাজার ৮৯১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৪৩ হাজার ৬৬৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৩ হাজার ২২৬ জন। ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাইরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ায় এবং দেড় লাখ ছাড়ায় ১৭ অক্টোবর। ৩৯ দিনের মাথায় ঢাকার বাইরে আরও ৫০ হাজার রোগ ভর্তি হল।

ঢাকার বাইরে রোগী বেড়ে যাওয়ায় সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন মহামারী বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার এপিডেমিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে এইডিস অ্যালবোপিকটাস মশা। শহরে ডেঙ্গু ছড়ানো এইডিস ইজিপ্টি মশা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অ্যালবোপিকটাস নিয়ে কেউ ভাবছে না। এ মশার লার্ভা ধান গাছ, কলাগাছের পাতা, গাছের কোটর এমনকি কচুগাছের পাতায়ও হয়।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় অনেক সচেতনতামূলক কাজ হলেও গ্রাম পর্যায়ে হচ্ছে না। ডেঙ্গু এভাবে বাড়তে থাকলে গ্রাম পর্যায়ে কী হবে তা চিন্তার বিষয়।

“সংখ্যা (আক্রান্ত ও মৃত্যু) কিন্তু অনেক কিছু বলে না। আগে মশা এবং আক্রান্ত রোগী শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যাও কম ছিল। এখন সারা বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষই সন্দেহজনক। সুতরাং যদি তখন ১ শতাংশ হয়ে থাকে আর এখন যদি ১ শতাংশ হয় সেটার ফলাফল কি দাঁড়াতে পারে সেটা আমরা কল্পনা করতে পারি।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ঢাকা নগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮২ জন রোগী। এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের। ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ হাজার ৮৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে; এ সংখ্যা ৪২ হাজার ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের।

এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩২ হাজার ২৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু ১১৪ জনের। রাজশাহী বিভাগে ১৮ হাজার ২২৪ জন ভর্তির মধ্যে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬২ জন। এ বিভাগে এ রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৬ হাজার ৬৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৩ হাজার ৯২৪ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১০৪৬ জন ঢাকায় এবং ২ হাজার ৮৭৮ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

মাসের হিসাবে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে এক হাজার ৩৬ জন, জুনে ৫ হাজার ৯৫৬ জন, জুলাইয়ে ৪৩ হাজার ৮৭৬ জন, অগাস্টে ৭১ হাজার ৯৭৬ জন, সেপ্টেম্বরে ৭৯ হাজার ৫৯৮ জন এবং অক্টোবরে ৬৭ হাজার ৭৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। নভেম্বরের ২৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ হাজার ২১ জন রোগী।

মাসওয়ারি মৃত্যুর হিসেবে জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ২ জন, জুনে ৩৪ জন, জুলাইয়ে ২০৪ জন, অগাস্টে ৩৪২ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৯৬ জন এবং অক্টোবরে ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়। নভেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৪৭ জনের।

Also Read: ডেঙ্গু নিয়ে আরও ‘শঙ্কার’ দিন আসছে, সতর্কতা মহামারীবিদদের