Published : 21 May 2026, 10:30 PM
স্বাস্থ্যসেবায় মাথাপিছু বরাদ্দ ১০০ ডলারে উন্নীত করাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ এসেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) কাছ থেকে।
তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ‘অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক’ পরিবর্তন ঘটেছে বলেও মনে করে জামায়াতে ইসলামিপন্থি সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকে এনডিএফের নেতারা নিজেদের নানা পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
বৈঠকে জামায়াতের সংসদ সদস্য মোসলেউদ্দীন ফরিদ বলেন, “দেশর স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল সংকট। এখানে প্রতি ১০ হাজার জনের জন্য মাত্র পাঁচজন নার্স আছেন। পাশের দেশ ভারতে আছে ১০০ জন। ইংল্যান্ড-আমেরিকায় আছে ১২০ জনের মতো।
“এখানে চিকিৎসক আরো কম। বেশি করে ডাক্তার ও নার্স তৈরি করতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না। এটার জন্য বাজেট বাড়াতে হবে।”
বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে টেলিমেডিসিন সেবা চালুর কথাও বলেন মোসলেউদ্দীন ফরিদ।
চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেসব সংকট রয়েছে, তার সব দায় সরকারের ওপর দিতে চান না এই সংস সদস্য।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু সরকারকে দায় দিতে চাই না। আমরা মনে করি, এটা ঠিক হবে না। আমি দুইটা মেডিকেল মডেলের কথা জানি। চৌগাছা ও ঝিনাইদাহ মডেল।
“এখানে জনগনের অংশগ্রহণ আছে। এটার মতো সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার, বিরোধী দল, জনগণ—সবার অংশগ্রহণে সমস্যার সমাধান করতে হবে।”
দেশে স্বাস্থ্য খাতে ‘অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক’ পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করেন জামায়াত ইসলামী থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়া সাবিকুন্নাহার মুন্নী।
তিনি বলেন, “দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিবর্তনে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী প্রকল্পের কল্যাণে এখন দেশের প্রতিটি জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও সিসিইউ বেডের মতো আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
তবে হাসপাতালগুলো শয্যা সংকট রয়েছে দাবি করে জামায়াতের এই নেত্রী বলেন, “দেশের মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে এই বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক সময়ই রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় শয্যা বা বেড পান না।”
বৈঠকে মুল বক্তব্য তুলে ধরেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭ শতাংশ, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী কমপক্ষে ৫ শতাংশ ব্যয় প্রয়োজন।
“একই সঙ্গে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।”
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
>> স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা;
>> জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ ১০০ ডলারে উন্নীত করা;
>> জেলা পর্যায়ে আইসিইউ, এনআইসিইউ, ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র সম্প্রসারণ করে জেলাকে মেডিকেল হাব হিসেবে গড়ে তোলা;
>> চিকিৎসা শিক্ষা এবং গবেষণায় বাজেট বাড়ানো, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া;
>> ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ও টেলিমেডিসিন সম্প্রসারণ;
>> সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে ওষুধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা;
>> সর্বজনীন হেলথ কভারেজ বাস্তবায়নে জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালু করা;
>> মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং
>> স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন, ডিজিটাল মনিটরিং ও স্বাধীন অডিট ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি নজরুল ইসলাম। এতে অন্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহসিন আহমেদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ খোরশেদ আলী মিয়া, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক শাদরুল আলম, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এম এ সবুর উপস্থিত ছিলেন।