১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লিভার-থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ে নিনমাসে নতুন মেশিন

“দেশে প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত।“

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 10:20 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

লিভারের চর্বির পরিমাণ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস, লিভার ও থাইরয়েড ক্যান্সার শনাক্তে আল্ট্রা হাই রেজল্যুশন আল্ট্রাসাউন্ড (রেজোনা এ-২০) মেশিন বসানো হয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (নিনমাস)।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এই ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে যন্ত্রটি উদ্বোধন করা হয়। 

নিনমাসের রিসার্চ সেল এবং আল্ট্রাসাউন্ড ও কালার ডপলার ডিভিশন আয়োজিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, “দেশে প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ ক্রনিক লিভার ডিজিজ এবং লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।”

নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল বলেন, “নতুন মেশিনে লিভারের চর্বির পরিমাণ নির্ণয়ের পাশাপাশি ইলাসটোস্ক্যানের মাধ্যমে অর্থাৎ লিভারের ফাইব্রাস টিস্যু গ্রেডিং, সিরোসিস, লিভার ও থাইরয়েড ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মেশিনটির ৩৩ মেগাহার্টজের আল্ট্রা হাই রেজল্যুশন প্রোবের মাধ্যমে ত্বক, চুলের ফলিকল, নখ, ত্বকের নিচের বিভিন্ন রোগ এবং লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের রোগও তুলনামূলক নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে লিভার ইলাস্টোগ্রাফির উপর বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপ কুমার কুন্ডু। এছাড়া আল্ট্রা হাই রেজোলিউশন থাইরয়েড ইলাস্টোগ্রাফি এবং ফ্যাট কোয়ান্টিফিকেশনের উপর বক্তব্য রাখেন জোহান্না অং।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সিন্টিগ্রাফি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা।

রোববার জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। আরও ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসে পৌঁছাবে। এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য সংশ্লিষ্ট টিমকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এ বছরের শেষে অথবা বড়জোর আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে টেকসইভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।”