Published : 29 Apr 2026, 11:50 PM
দেশে মে মাস নাগাদ হামের প্রকোপ কমে আসার সম্ভাবনা দেখছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) রিয়াদ মাহমুদ।
কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, গত ৫ এপ্রিল একযোগে দেশের যে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, সেসব উপজেলায় নতুন করে আর হাম শনাক্ত হচ্ছে না।
বুধবার ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে কথা বলছিলেন রিয়াদ মাহমুদ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ কোনো টিকা পায়নি। আক্রান্তদের ১৪ শতাংশ প্রথম ডোজ নিয়েছিল, আর ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ বলেন, হামের টিকা দেওয়ার পর তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে ‘ইমিউনিটি’ তৈরি হতে। তাই সারাদেশে টিকাদানের নির্ধারিত সময়ের পর হামের প্রকোপ কমে যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশকে যুক্ত করা হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।”
তিনি আশা করেন, শিগগিরই সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।
টিকার মজুদ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা আছে। ক্যাম্পেইন চলছে, পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদানের সব কিছু আমরা সরবরাহ করছি।”
ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ফোয়ারা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগে সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২২৭ জন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১০৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। আর ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহীতে।