ডেঙ্গু: আরও ২২৮৮ রোগী হাসপাতালে, ৬০% ঢাকার বাইরে
চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ৯৪ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৪২ হাজারই আক্রান্ত হয়েছেন চলতি অগাস্ট মাসে।
বাংলাদেশে গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে আরও ২২৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হল ৯৪ হাজার ৩১২ জন। তাদের মধ্যে ৪৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এইডিস মশাবাহিত এই রোগে।
এক বছরে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে কেবল ২০১৯ সালে। আর ডেঙ্গুতে এত বেশি মৃত্যু আর কখনও দেখেনি বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৮৯৯ জন ঢাকার এবং ১৩৮৯ জন ঢাকার বাইরের। অর্থাৎ, দিনে ভর্তি মোট রোগীর ৬০ শতাংশই ঢাকার বাইরের।
এদিন সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮ হাজার ৬৬১ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৮০৪ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪৮৫৭ জন।
এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। অগাস্টের ১৬ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৪৮০ জন ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু হয়েছে ১৯৩ জনের।
এর আগে জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে ১০৩৬ জন, জুনে ৫ ৯৫৬ জন এবং জুলাই মাসে ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এ বছর সবচেয়ে বেশি ২০৪ জনের মৃত্যু হয় জুলাই মাসে। এর আগে জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ২ জন এবং জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।
এইডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ২৮১ জন।
এর আগে ২০১৯ সালে দেশের ৬৪ জেলায় এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। সরকারি হিসাবে সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ১৭৯ জনের।
