Published : 17 Aug 2025, 08:40 PM
চিকিৎসকদের ‘ওষুধ কোম্পানির দালাল’ বলা এবং তাদের পেশার সততা নিয়ে আইন উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “আসিফ নজরুলের এ ধরনের বক্তব্য চিকিৎসক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এ ধরনের বক্তব্য শুধু অযৌক্তিকই নয়, চিকিৎসক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাদারত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”
শনিবার ঢাকার মিন্টো রোডে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিওএ) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আসিফ নজরুল।
সেখানে তিনি রোগীদের ‘অনর্থক’ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে চিকিৎসকদের অনুরোধ জানান।
আসিফ নজরুল বলেন, “চিকিৎসকরা কি ওষুধ কোম্পানির দালাল? এ দেশে বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তাররা কি ওষুধ কোম্পানির মধ্যস্বত্বভোগী? কোন জায়গায় নামান আপনারা নিজেদের?”
তার এই বক্তব্য ঘিরে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিবৃতি দেয় বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব।
রোববার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরে পাঠানো বিবৃতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ড. আসিফ নজরুল একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। বিভিন্ন সময়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে, যা প্রায় সবার কাছেই প্রশংসনীয়। অনেক সময় তার বক্তব্যের অতিরঞ্জন একইসাথে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগেরও জন্ম দেয়।
“সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সমাজের সকল গোষ্ঠীর মধ্যে ভাতৃত্ববোধের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তার উল্টো কাজটিই হল বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যর মাধ্যমে।”
রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি ঢালাওভাবে চিকিৎসকদের ‘ওষুধ কোম্পানির দালাল’ আখ্যা দিয়েছেন এবং পেশার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা শুধু অযৌক্তিকই নয়, চিকিৎসক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাদারত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
“যে দেশে এখনো পিতামাতা সন্তানকে সবার আগে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সেদেশে তার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে কতিপয় ব্যক্তির দায় সমগ্র চিকিৎসক সমাজে দেওয়াটা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।”
বিবৃতিতে এই বিএনপি নেতা বলেনে, চিকিৎসকদের পেশাগত দুর্বলতা থাকলে নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা যেতে পারে।
“কিন্তু তাদের 'দালাল' আখ্যা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পরীক্ষা দেওয়া হয় বলে দাবি করে ড. আসিফ নজরুল বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকে রীতিমত প্রচারণা করলেন।”
রফিকুল ইসলাম বলেন, “যেসব চিকিৎসক পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন তাদের থেকে জানা যায় সেসব দেশেও নতুন কোনো ওষুধ বাজারজাতকরণে চিকিৎসকদের মাঝে বিজ্ঞাপন করা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনা এনে তিনি পরোক্ষভাবে সেদেশের ব্র্যান্ডিং করে কি আমাদেরকে সে দেশের তাবেদার বানানোর চেষ্টা করলেন কিনা সে প্রশ্ন জনমনে থেকেই যায়।”
অবিলম্বে বক্তব্যের ‘অসৌজন্যমূলক অংশ’ প্রত্যাহার ও মর্মাহত চিকিৎসকদের প্রতি ‘সম্মান প্রদর্শন’ করতে আসিফ নজরুলের প্রতি আহ্বান জানান জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক।